দর্শক সংখ্যা

Saturday, March 2, 2013

শাফা‘আত এবং শাফা‘আতকারীদের বর্ণনা- ২

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর উম্মতের জন্য জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে সুপারিশ করা এবং তাঁর প্রথম সুপারিশকারী হওয়া
প্রথম হাদিসের মধ্যে পূর্বে আলোচনা হয়েছে যে, তাঁকে বলা হবে:
« يا محمد أدخل من أمتك من لا حساب عليهم من الباب الأيمن من أبواب الجنة وهم شركاء الناس فيما سوى ذلك من الأبواب » .
“হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব-নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ছাড়া অন্যদের সাথে অন্য দরজা দিয়েও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে।” আর দ্বিতীয় হাদিসের মধ্যে আলোচনা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ করবেন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সুপারিশ গ্রহণ করবেন এবং তাঁর জন্য সীমানা নির্ধারণ করে দিবেন, অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ১৯. আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ يَشْفَعُ فِى الْجَنَّةِ , وَأَنَا أَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعًا » . (أخرجه مسلم) .
“আমি প্রথম ব্যক্তি, যে জান্নাতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে শাফা‘আত করব, আর নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি।”[1] ২০. আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« أَنَا أَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ , وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ » . (أخرجه مسلم) .
“কিয়ামতের দিনে নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি এবং আমিই সবার আগে জান্নাতের কড়া নাড়ব।”[2] ২১. আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«آتِى بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الْخَازِنُ: مَنْ أَنْتَ ؟ فَأَقُول: مُحَمَّدٌ, فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ لاَ أَفْتَحُ لأَحَدٍ قَبْلَكَ » . (أخرجه مسلم) .
“কিয়ামত দিবসে আমি জান্নাতের গেইটে এসে দরজা খোলার অনুমতি চাইব। তখন খাজাঞ্চি বলবেন, আপনি কে? আমি উত্তরে বলব, মুহাম্মদ। খাজাঞ্চি বলবেন: ‘আপনার জন্যই দরজা খুলতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। আপনার পূর্বে অন্য কারোর জন্য দরজা খুলব না’।”[3] ২২. আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

« يُطَوَّلُ يَوْمُ الْقِيَامَةِ عَلَى النَّاسِ فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: انْطَلِقُوا بِنَا إِلَى آدَمَ أَبِي الْبَشَرِ فَيَشْفَعُ لَنَا إِلَى رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا , فَيَأْتُونَ آدَمَ و آتي الجبار و أسجد له فَيَقُول:ُ ارْفَعْ رَأْسَكَ يا محمد, و تكلم يُسْمَعْ مِنْكَ , وَ قل يقبل قولك, وَ اشْفَعْ تُشَفَّعْ, فَأقُولُ: أُمَّتِي أُمَّتِي, فَيَقُولُ: اذهب إلى أمتك فمَنْ وجدت فِي قَلْبِهِ مِثْقَال نصف حبة من شَعِير مِنْ الإِيمَان فأدخله الجنة, فأذهب , فمَنْ وجدت فِي قَلْبِهِ مِثْقَال ذلك فأدخله الجنة, قَالَ: فَآتي الجبار و أسجد له فَيَقُول:ُ ارْفَعْ رَأْسَكَ يا محمد, و تكلم يُسْمَعْ مِنْكَ, وَ اشْفَعْ تُشَفَّعْ, فأرفع رأسي, فَأقُولُ: أُمَّتِي , أُمَّتِي, أي رب , فَيَقُولُ: اذهب , فمَنْ وجدت فِي قَلْبِهِ مِثْقَال حبة من خردل مِنْ إِيمَان » .
“মানুষের উপর কিয়ামতের দিবসকে দীর্ঘায়িত করা হবে, তখন তাদের একদল অপরদলকে বলবে: তোমরা আমাদেরকে মানব জাতির পিতা আদম আ. এর নিকট নিয়ে যাও, ফলে তিনি আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার নিকট সুপারিশ করেন, যাতে তিনি আমাদের মাঝে বিচার ফয়সালার কাজটি সমাপ্ত করেন; অতঃপর তারা আদম আ. এর নিকট আসবে; ... আর আমি আসব পরাক্রমশালী আল্লাহর দরবারে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদা করব, অতঃপর তিনি বলবেন: হে মুহাম্মদ! আপনি তোমার মাথা উঠান এবং কথা বলুন, আপনার কথা শোনা হবে; আপনি কথা বলুন, আপনার কথা গ্রহণ করা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে; তখন আমি বলব: আমার উম্মত! আমার উম্মত!! তখন তিনি বলবেন: তুমি তোমার উম্মতের নিকট যাও, তারপর যার অন্তরের মধ্যে যবের অর্ধেক দানা পরিমাণ ঈমান পাবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও; অতঃপর আমি যাব এবং যার অন্তরের মধ্যে এই পরিমাণ (ঈমান) পাব, তাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব; তিনি বলেন: তারপর আমি আসব পরাক্রমশালী আল্লাহর দরবারে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদা করব, অতঃপর তিনি বলবেন: হে মুহাম্মদ! আপনি তোমার মাথা উঠান এবং কথা বলুন, আপনার কথা শোনা হবে; আপনি কথা বলুন, আপনার কথা গ্রহণ করা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে; তখন আমি বলব: আমার উম্মত! আমার উম্মত!! হে আমার প্রতিপালক! তখন তিনি বলবেন: যাও, যার অন্তরের মধ্যে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান পাবে, (তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও)।”
[ ৩ ]
কবীরা গুনাহকারী’র জন্য শাফাআত
পূর্বে কতগুলো হাদিসের উদ্ধৃতি অতিবাহিত হয়েছে, যেগুলো কবীরা গুনাহে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য শাফা‘আতের প্রমাণ বহন করে, যেমন: আনাস রা. এর হাদিস, আরা তা হল দ্বিতীয় হাদিস:
« يخرج من النار مَنْ قَالَ : لَا إِلَه إِلَّا اللَّه ... إلى آخره » .
“যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোন হক্ক ইলাহ নেই) বলবে, সে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে।” অনুরূপভাবে তৃতীয় হাদিস; আর ইবনু ‘আসেম ‘আস-সুন্নাহ’ নামক গ্রন্হে (২ / ৩৯৯) বলেন, আর ঐসব খবর বা হাদিসসমূহ, যা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছি শাফা‘আত ও তাঁকে সুপারিশকারী বানানো প্রসঙ্গে, তার দ্বারা আল্লাহ তাঁকে মর্যাদা দান করেছেন। আর তিনি যেসব ক্ষেত্রে সুপারিশ করবেন, সে ব্যাপারে অনেক হাদিস রয়েছে, যা প্রকৃত জ্ঞানকে আবশ্যক করে। আর মুতাওয়াতির পর্যায়ের জ্ঞানকে আবশ্যক করে, এমন খবর বা হাদিস অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির। আল্লাহ আমাদেরকে এবং তাঁর উপর ঈমানদার শাফা‘আতের আশাকারী প্রত্যেক মুমিনকে সে শাফা‘আত নসীব করুন। ২৩. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলা হল: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কিয়ামতের দিন কোন ব্যক্তি আপনার শাফা‘আতের দ্বারা সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান হবে? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« لَقَدْ ظَنَنْت يَا أَبَا هُرَيْرَة أَنْ لَا يَسْأَلنِي عَنْ هَذَا الْحَدِيث أحد أَوّلَ مِنْك لِمَا رَأَيْت مِنْ حِرْصك عَلَى الْحَدِيث, أَسْعَد النَّاس بِشَفَاعَتِي يَوْم الْقِيَامَة مَنْ قَالَ : لَا إِلَه إِلَّا اللَّه , فأدخله الجنة فأذهب فَمَنْ وَجَدْتُ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَلِكَ أَدْخَلْتُهُمْ الْجَنَّةَ وَفَرَغَ اللَّهُ مِنْ حِسَابِ النَّاسِ وَأَدْخَلَ مَنْ بَقِيَ مِنْ أُمَّتِي النَّارَ مَعَ أَهْلِ النَّارِ, فَيَقُولُ أَهْلُ النَّار:ِ مَا أَغْنَى عَنْكُمْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْبَدُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَا تُشْرِكُونَ بِهِ شَيْئًا , فَيَقُولُ الْجَبَّارُ عَزَّ وَجَلَّ: فَبِعِزَّتِي لَأُعْتِقَنَّهُمْ مِنْ النَّارِ فَيُرْسِلُ إِلَيْهِمْ فَيَخْرُجُونَ وَقَدْ امْتَحَشُوا فَيَدْخُلُونَ فِي نَهَرِ الْحَيَاةِ فَيَنْبُتُونَ فِيهِ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي غُثَاءِ السَّيْلِ, وَيُكْتَبُ بَيْنَ أَعْيُنِهِمْ: هَؤُلَاءِ عُتَقَاءُ الْجَبَّارِ عَزَّ وَجَلَّ » .
“হে আবূ হুরায়রা ! আমি ধারণা করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার আগে আমাকে আর কেউ প্রশ্ন করবে না। কারণ, আমি দেখেছি হাদিসের প্রতি তোমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমার শাফা‘আত লাভে সবচেয়ে বেশি ভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি একান্ত আন্তরিকতার সাথে বলে: لَا إِلَه إِلَّا اللَّه (আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই); তাকে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব; অতঃপর আমি যাব এবং যার অন্তরের মধ্যে এই পরিমাণ (ঈমান) পাব, তাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব; অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষের হিসাব নেয়ার কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করবেন এবং আমার বাকি উম্মতকে জাহান্নামবাসীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন; অতঃপর জাহান্নামবাসীগণ বলবে: তোমরা যে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে এবং তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করতে না, তা তোমাদের কোন উপকারে আসল না; তখন পরাক্রমশালী আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: আমার ইজ্জতের কসম! অবশ্যই আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করব। অতঃপর তিনি তাদের নিকট ফরমান পাঠাবেন, তারপর তার বের হয়ে আসবে এমতাবস্থায় যে, তারা পুড়ে গেছে; অতঃপর তারা জীবন নদীতে প্রবেশ করবে, তারপর তারা তাতে সজীব হয়ে উঠবে, যেমনিভাবে স্রোতের পলিতে শস্য অঙ্কুরিত হয় এবং তাদের কপালে লিখে দেয়া হবে: ‘এরা পরাক্রমশালী আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত।”[4] ২৪. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لكل نبي دعوة مستجابة يدعو بها وأريد أن أختبئ دعوتي شفاعة لأمتي في الآخرة ». (أخرجه البخاري) .
“প্রত্যেক নবীর এমন একটি মাকবুল দো‘আ রয়েছে, যার দ্বারা তিনি দো‘আ করে থাকেন। আর আমার ইচ্ছা, আমি আমার সে দো‘আর অধিকার আখিরাতে আমার উম্মতের শাফা‘আতের জন্য মুলতবী রাখি।”[5] ২৫. আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« خيرت بين الشفاعة وبين أن يدخل نصف أمتي الجنة , فاخترت الشفاعة , لأنها أعم وأكفى , أترونها للمتقين ؟ لا , ولكنها للمذنبين الخطائين المتلوثين ». (أخرجه ابن ماجه) .
“শাফা‘আত এবং আমার অর্ধেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করা— এই দু’টির মধ্য থেকে কোনো একটিকে গ্রহণ করার ব্যাপারে আমাকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, অতঃপর আমি শাফা‘আতের বিষয়টিকে পছন্দ করেছি; কারণ, তা অনেক ব্যাপক ও পর্যাপ্ত। তোমরা কি তা মুত্তাকীদের জন্য মনে করেছ? না, বরং তা গুনাহগার অপরাধী পঙ্কিলদের জন্য।”[6] ২৬. আবূ বুরদা র. থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
« ان النبي صلى الله عليه و سلم كان يحرسه أصحابه , فقمت ذات ليلة فلم أره في منامه فأخذني ما قدم وما حدث , فذهبت أنظر فإذا أنا بمعاذ قد لقي الذي لقيت فسمعنا صوتا مثل هزيز الرحا فوقفا على مكانهما فجاء النبي صلى الله عليه و سلم من قبل الصوت , فقال: « هل تدرون أين كنت ؟ وفيم كنت ؟ أتاني آت من ربي عز و جل فخيرني بين ان يدخل نصف أمتي الجنة وبين الشفاعة , فاخترت الشفاعة » فقالا: يا رسول الله ! ادع الله عز و جل أن يجعلنا في شفاعتك , فقال: « أنتم ومن مات لا يشرك بالله شيئا في شفاعتي » . (أخرجه أحمد)
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সাহাবীগণ পাহারা দিত, কোনো এক রাতে আমি ঘুম থেকে জাগ্রত হলাম, তারপর আমি তাঁকে তাঁর ঘুমানোর জায়গায় দেখতে পেলাম না, অতঃপর হাঁটাহাঁটি ও কথাবর্তার আওয়াজ শুনতে পেলাম, তারপর আমি বিষয়টি দেখতে গেলাম, হঠাৎ আমার সাথে মু‘আযের দেখা হয়ে গেল; অতঃপর আমরা জাঁতাকলের কড় কড় শব্দের ন্যায় শব্দ শুনতে পেলাম; অতঃপর তারা তাদের জায়গায় দাঁড়িয়ে গেল; তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওয়াজের দিক থেকে আসলেন এবং বললেন: “তোমরা কি জান যে, আমি কোথায় ছিলাম এবং কাদের মধ্যে ছিলাম? আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আমার নিকট এক আগন্তুত আসল, অতঃপর শাফা‘আত এবং আমার অর্ধেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করা— এই দু’টির মধ্য থেকে কোন একটিকে গ্রহণ করার ব্যাপারে আমাকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, অতঃপর আমি শাফা‘আতের বিষয়টিকে পছন্দ করেছি।” অতঃপর তারা উভয়ে বলল: হে আল্লাহ রাসূল! আপনি আল্লাহ তা‘আলার নিকট দো‘আ করেন, তিনি যাতে আমাদেরকে আপনার শাফা‘আতের মধ্যে গণ্য করেন, তখন তিনি বলেন: “তোমরা এবং যারা আল্লাহর সাথে শির্ক না করে মৃত্যুবরণ করবে, তারা আমার শাফা‘আতের আওতায় থাকবে।”[7] ২৭. আবূ বুরদা র. থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« أعطيت خمسا بعثت إلى الأحمر والأسود , وجعلت لي الأرض طهورا ومسجدا , وأحلت لي الغنائم ولم تحل لمن كان قبلي , ونصرت بالرعب شهرا , وأعطيت الشفاعة وليس من نبي الا وقد سأل شفاعة وإني أخبأت شفاعتي ثم جعلتها لمن مات من أمتي لم يشرك بالله شيئا ». (أخرجه أحمد) .
“আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে: (১) আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গের (সকল মানুষের) নিকট; (২) আমার জন্য যমীনকে পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে; (৩) আর আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করে দেয়া হয়েছে, যা আমার আগে আর কারও জন্য হালাল করা হয় নি; (৪) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, এক মাসের দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; (৫) আর আমাকে শাফা‘আতের অধিকার দেয়া হয়েছে; প্রত্যেক নবীই শাফা‘আতের অধিকার চেয়েছেন, আর আমি আমার শাফা‘আতের আবেদনকে বিলম্বিত করেছি, অতঃপর আমি তা কাজে লাগাব আমার উম্মতের মধ্য থেকে ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি।”[8] ২৮. আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« أعطيت خمسًا لم يعطها نبى قبلى بعثت إلى الأحمر والأسود , وإنما كان النبى يبعث إلى قومه , ونصرت بالرعب مسيرة شهر , وأطعمت المغنم ولم يطعمه أحد كان قبلى , وجعلت لى الأرض طهورًا ومسجدًا , وليس من نبى إلا وقد أعطى دعوة فتعجلها وإنى أخرت دعوتى شفاعتى لأمتى وهى بالغة إن شاء الله من مات لا يشرك بالله شيئًا » . (أخرجه الطبراني في الأوسط) .
“আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কোন নবীকে দেয়া হয়নি: (১) আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গের (সকল মানুষের) নিকট, আর অপাপর নবীদেরকে প্ররেণ করা হয়েছে তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট; (২) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, এক মাসের দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; (৩) আমি গনিমতের সম্পদ ভোগ করি, যা আমার পূর্বে কেউ ভোগ করত না; (৪) আমার জন্য যমীনকে পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে; (৫) যে নবীকেই একটি বিশেষ দো‘আর সুযোগ দেয়া হয়েছে, তিনি তা তাৎক্ষণিকভাবে দাবি করেছেন, কিন্তু আমি আমার শাফা‘আতের আবেদন বা দো‘আটিকে আমার উম্মতের জন্য বিলম্বিত করেছি, আর আল্লাহ চায় তো তা ঐ ব্যক্তির নিকট পৌঁছাবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করেছে।”[9] ২৯. আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« شفاعتي لأهل الكبائر من أمتي». (أخرجه الترمذي) .
“আমার উম্মতের মধ্য থেকে কবীরা গুনাহের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য আমার শাফা‘আত তথা সুপারিশ প্রয়োগ করা হবে।”[10]
[ ৪ ]
জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা‘আত প্রসঙ্গে
৩০. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« أمر بقوم من أمتي قد أمر بهم إلى النار , قال: فيقولون: يا محمد! ننشدك الشفاعة , قال: فآمر الملائكة أن يعفوا بهم . قال: فأنطلق و استأذن على الرب عز و جل فيأذن لي فأسجد و أقول: يا رب , قوم من أمتي قد أمر بهم إلى النار , قال: فيقول لي: انطلق فأخرج منهم , قال: فانطلق و أخرج منهم من شاء الله أن أخرج , ثم ينادي الباقون: يا محمد! ننشدك الشفاعة , فأرجع إلى الرب فاستأذن فيؤذن لي فأسجد فيقال لي: ارفع رأسك, و سل تعطه و اشفع تشفع , فأثني على الله بثناء لم يثن عليه أحد , أقول: ثم قوم من أمتي قد أمر بهم إلى النار , فيقول: انطلق فأخرج منهم , قال: فأقول يا رب , أخرج من قال: لا إله إلا الله , و من كان في قلبه حبة من إيمان , قال: فيقول: يا محمد ! ليست تلك لك , تلك لي , قال: فانطلق و أخرج من شاء الله أن أخرج , قال: و يبقى قوم فيدخلون النار , فيعيرهم أهل النار , فيقولون: أنتم كنتم تعبدون الله و لا تشركون به أدخلكم النار , فيحزنون لذلك , قال: فيبعث الله ملكا بكف من ماء فينضح بها في النار , و يعبطهم أهل النار , ثم يخرجون و يدخلون الجنة فيقال: انطلقوا فتضيفوا الناس , فلو أنهم جميعهم نزلوا برجل واحد كان لهم عنده سعة و يسمون المحررين ».
“আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তিনি বলেন, অতঃপর তারা বলবে: হে মুহাম্মদ! আমরা আপনার নিকট শাফা‘আতের সন্ধান চাচ্ছি; তিনি বলেন: অতঃপর আমি ফিরিশ্তাদেরকে নির্দেশ দিব, তারা যাতে তাদেরকে নিয়ে অবস্থান করে। তিনি বলেন: অতঃপর আমি ছুটে যাব এবং আমার রব আল্লাহ তা‘আলার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, অতঃপর তিনি আমাকে অনুমতি দেবেন, তারপর আমি সিজদায় অবনত হব এবং আমি বলব: হে আমার রব! আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তিনি বলেন: তখন তিনি আমাকে বলবেন: আপনি যান এবং তাদের থেকে বের করে নিয়ে আসুন; তিনি বলেন: অতঃপর আমি যাব এবং তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাকে বের করে নিয়ে আসতে চান, আমি তাকে বের করে নিয়ে আসব; অতঃপর অবশিষ্টগণ ডাকবেন: হে মুহাম্মদ! আমরা আপনার নিকট শাফা‘আতের সন্ধান চাচ্ছি; অতঃপর আমি পুনরায় আমার রবের নিকট নিকট ফিরে যাব, তারপর আমি তার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, অতঃপর তিনি আমাকে অনুমতি দেবেন, তারপর আমি সিজদায় অবনত হব, তখন আমাকে বলা হবে: আপনি আপনার মাথা উঠান এবং চান, আপনাকে তা দেওয়া হবে; আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রগণ করা হবে; অতঃপর আমি এমন প্রশংসার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করব, এভাবে কোনো দিন কেউ তাঁর প্রশংসা করে নি; আমি বলব: অতঃপর আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তখন তিনি বলবেন: আপনি যান এবং তাদের থেকে বের করে নিয়ে আসুন। তিনি বলেন: অতঃপর আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! আমি তাকে বের করে নিয়ে আসব, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই) বলেছে এবং যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে; তিনি বলেন: অতঃপর তিনি বলবেন, হে মুহাম্মদ! এটা আপনার জন্য নয়, এটা আমার জন্য; তিনি বলেন: অতঃপর আমি যাব এবং তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাকে বের করে নিয়ে আসতে চান, আমি তাকে বের করে নিয়ে আসব; তিনি বলেন: একদল অবশিষ্ট থাকবে এবং তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে; অতঃপর জাহান্নামবাসীগণ তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবে: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তার সাথে শির্ক করতে না, তিনি তোমাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করালেন! তিনি বলেন: অতঃপর তারা এই জন্য দুঃখ পাবে ও চিন্তিত হয়ে পড়বে; তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা এক অঞ্জলি পানিসহ একজন ফিরিশতা পাঠাবেন, অতঃপর সে তা দ্বারা জাহান্নামের আগুনকে সিক্ত করবে এবং জাহান্নামবাসীগণ তাদের ব্যাপারে ঈর্ষা করবে; অতঃপর তারা বের হয়ে আসবে এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে; অতঃপর বলা হবে: তোমরা যাও এবং জনগণের মেহমান হয়ে যাও; তারপর যদি তারা সকলেই এক লোকের নিকট অবতরণ করে, তাহলেও তার নিকট তাদেরকে ধারণ করার মত ক্ষমতা থাকবে। আর তাদেরকে ‘মুক্তিপ্রাপ্ত’ বলে আখ্যায়িত করা হবে।”[11] হাফেয ইবনু কাছীর বলেন: এই হাদিসটি দাবি করে ঐসব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই শাফা‘আত তিনবার হওয়া, যাদের ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, যাতে তারা তাতে প্রবেশ না করে; আর তাঁর কথা: " أخرج "মানে হল: বাঁচাও; এর দলিল হল তাঁর পরবর্তী কথা: « و يبقى قوم فيدخلون النار » (একদল অবশিষ্ট থাকবে এবং তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে)। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সঠিক বিষয় সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি ভাল জানেন।
[ ৫ ]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কিছুসংখ্যক মানুষের জন্য বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে শাফাআত প্রসঙ্গে
৩১. আবদুর রহমান ইবন আবি বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إن ربي أعطاني سبعين ألفا من أمتي يدخلون الجنة بغير حساب» فقال عمر: يا رسول الله فهلا استزدته ؟ قال: « قد استزدته فأعطاني مع كل رجل سبعين ألفا» قال عمر: فهلا استزدته ؟ قال: « قد استزدته فأعطاني هكذا» . وفرج عبد الله بن بكر بين يديه وقال عبد الله وبسط باعيه وحثا عبد الله وقال هشام وهذا من الله لا يدرى ما عدده». (أخرجه أحمد) .
“নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে আমার সত্তর হাজার উম্মতকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” অতঃপর ওমর রা. বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেন নি? জবাবে তিনি বললেন: “আমি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেছি, অতঃপর তিনি আমাকে প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে আরও সত্তর হাজার প্রবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” অতঃপর ওমর রা. বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেন নি? জবাবে তিনি বললেন: “আমি তাঁর নিকট আরও অতিরিক্ত প্রার্থনা করেছি, অতঃপর তিনি আমাকে আরও অনুরূপ সংখ্যক প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” আর (হাদীসের একজন বর্ণনাকারী ইমাম আহমদের উস্তাদ) আবদুল্লাহ ইবন বকর তাঁর সম্মুখের জায়গা প্রশস্ত করে দেখান। আর আবদুল্লাহ বললেন: আর তিনি তাঁর দুই বাহু সম্প্রসারিত করলেন। আর তা আবদুল্লাহ তার হাত দিয়ে মাটি পূর্ণ করলেন। আর হিশাম বলেন: আর এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, যার সংখ্যা সম্পর্কে জানা যায় না।”[12] ৩২. আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«وعدني ربي أن يدخل الجنة من أمتي سبعين ألفا لا حساب عليهم ولا عذاب , مع كل ألف سبعون ألفا , وثلاث حثيات من حثيات ربي ». (أخرجه الترمذي و ابن ماجه) .
“আমার প্রতিপালক আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে কোনো শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে; প্রত্যেক হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার এবং আমার প্রতিপালকের অঞ্জলিসমূহ থেকে পরিপূর্ণ তিন অঞ্জলি প্রবেশ করবে।”[13] ৩৩. আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« ان الله عز و جل وعدني ان يدخل من أمتي الجنة سبعين ألفا بغير حساب» فقال يزيد بن الأخنس السلمي: والله ما أولئك في أمتك الا كالذباب الأصهب في الذبان فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم: «كان ربي عزو جل قد وعدني سبعين ألفا مع كل ألف سبعون ألفا وزادني ثلاث حثيات» قال: فما سعة حوضك يا نبي الله قال: «كما بين عدن إلى عمان وأوسع وأوسع يشير بيده قال فيه مثعبان من ذهب وفضة » قال: فما حوضك يا نبي الله قال: « أشد بياضا من اللبن وأحلى مذاقة من العسل وأطيب رائحة من المسك من شرب منه لم يظمأ بعدها ولم يسود وجهه أبدا ». (أخرجه أحمد) .
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” অতঃপর ইয়াযিদ ইবনুল আখনাস আস-সুলামী বললেন: আল্লাহর কসম! আপনার উম্মতের মধ্যে তারা তো মাছির পালের মধ্যে লাল-হলুদ-সাদা মাছির মত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্তর হাজারের এবং প্রত্যেক হাজারের সাথে সত্তর হাজারের; আর তিনি আমার নিকট আরও তিন অঞ্জলি বৃদ্ধির কথা বলেছেন।” তিনি বলেন: হে আল্লাহর নবী! আপনার হাউযের প্রশস্ততা কতটুকু? জবাবে তিনি বলেন: “‘আদন থেকে ‘আম্মান পর্যন্ত মধ্যকার দূরত্বের মত, আরও বেশি প্রশস্ত, আরও বেশি প্রশস্ত— বলতে বলতে তিনি তাঁর হাত দ্বারা ইঙ্গিত করেন, তিনি বলেন, তাতে স্বর্ণ ও রৌপ্যের ঝর্ণধারাসমূহ রয়েছে।” তিনি আবার জিজ্ঞাসার সুরে বললেন: হে আল্লাহর নবী! আপনার হাউয কোন ধরনের? জবাবে তিনি বললেন: দুধের চেয়ে অনেক বেশি সাদা, মধুর চেয়ে অনেক বেশি মিষ্টি এবং মেশকের চেয়ে অনেক বেশি সুগন্ধময়; যে ব্যক্তি একবার তার থেকে পান করবে, সে ব্যক্তি পরবর্তীতে আর কোনো দিন পিপাসার্ত হবে না এবং কোনো দিন তার চেহারা মলিন হবে না।”[14] ৩৪. রিফা‘আ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«أقبلنا مع رسول الله صلى الله عليه و سلم حتى إذا كنا بالكديد أو قال: بقديد فجعل رجال منا يستأذنون إلى أهليهم فيأذن لهم, فقام رسول الله صلى الله عليه و سلم فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: « ما بال رجال يكون شق الشجرة التي تلي رسول الله صلى الله عليه و سلم أبغض إليهم من الشق الآخر فلم نر عند ذلك من القوم الا باكيا , فقال رجل ان الذي يستأذنك بعد هذا لسفيه، فحمد الله وقال: حينئذ أشهد عند الله لا يموت عبد يشهد أن لا إله الا الله وإني رسول الله صدقا من قلبه , ثم يسدد الا سلك في الجنة . قال: وقد وعدني ربي عز و جل أن يدخل من أمتي سبعين ألفا لا حساب عليهم ولا عذاب, وإني لأرجو أن لا يدخلوها حتى تبوؤا أنتم ومن صلح من آبائكم وأزواجكم وذرياتكم مساكن في الجنة وقال: إذا مضى نصف الليل أو قال: ثلثا الليل ينزل الله عز و جل إلى السماء الدنيا، فيقول: لا أسأل عن عبادي أحدا غيري، من ذا يستغفرنى فاغفر له, من الذي يدعوني أستجيب له من ذا الذي يسألني أعطيه حتى ينفجر الصبح». (أخرجه أحمد).
“আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আগমন করতে লাগলাম, এমনকি যখন আমরা ‘আল-কাদীদ’ নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমাদের মধ্য থেকে কিছু লোক তাদের পরিবার-পরিজনের নিকট যাওয়ার জন্য তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করতে শুরু করল এবং তিনি তাদেরকে অনুমতি প্রদান করলেন; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ভাষণ দেয়ার জন্য) দাঁড়ালেন, তারপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: “লোকজনের কী অবস্থা হল, গাছের যে অংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত, অপর অংশের চেয়ে তাদের নিকট গাছের সেই অংশ অধিক অপছন্দনীয়; আর আমরা সেই সময় সম্প্রদায়ের সকল লোককে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখতে পেলাম। জনৈক ব্যক্তি বলল: এর পরেও যে ব্যক্তি আপনার নিকট অনুমতি চাইবে, সে তার বোকামীর জন্যই চাইবে; অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তিনি বললেন: “যখন আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিব, তখন যে বান্দা মনে-প্রাণে এই সাক্ষ্য দিয়ে মারা যাবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, অতঃপর ঠিক সেই অনুযায়ী সে কাজ করে, তাহলে সে জান্নাতের পথেই চলে; আর তিনি বলেন: “আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে কোন শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর আমি অবশ্যই আশা করি যে, তারা তাতে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-পরিজন ও সন্তান-সন্ততী’র মধ্য থেকে যারা সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতের মধ্যে আবাসগৃহ তৈরি করবে; আর তিনি বললেন: যখন রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হয় অথবা তিনি বলেছেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়, তখন আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং তারপরে বলেন: আমি আমার বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করব না; কে আছ আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব; কে আছ আমার নিকট দো‘আ করবে, আমি তার দো‘আ কবুল করব; কে আছ আমার নিকট কিছু চাইবে, আমি তাকে দান করব, এভাবে করে শেষ পর্যন্ত উষার আলো উদ্ভাসিত হয়ে সকাল হয়ে যাবে।”[15]
[ ৬ ]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যক ব্যক্তির জন্য তার আমলের চাহিদার চেয়ে উন্নত মর্যাদার জন্য সুপারিশ করা
৩৫. আবূ বুরদা থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
« لما فرغ النبي صلى الله عليه و سلم من حنين بعث أبا عامر على جيش إلى أوطاس فلقي دريد بن الصمة, فقتل دريد وهزم الله أصحابه, قال أبو موسى: وبعثني مع أبي عامر فرمي أبو عامر في ركبته رماه جشمي بسهم فأثبته في ركبته فانتهيت إليه فقلت: يا عم من رماك ؟ فأشار إلى أبي موسى, فقال ذاك قاتلي الذي رماني, فقصدت له فلحقته, فلما رآني ولى فاتبعته, وجعلت أقول له: ألا تستحي, ألا تثبت فكف فاختلفنا ضربتين بالسيف فقتلته, ثم قلت لأبي عامر قتل الله صاحبك, قال: فانزع هذا السهم, فنزعته, فنزا منه الماء, قال: يا ابن أخي! أقرئ النبي صلى الله عليه و سلم السلام وقل له: استغفر لي . واستخلفني أبو عامر على الناس فمكث يسيرا ثم مات, فرجعت فدخلت على النبي صلى الله عليه و سلم في بيته على سرير مرمل, وعليه فراش, قد أثر رمال السرير بظهره وجنبيه, فأخبرته بخبرنا وخبر أبي عامر وقال: قل له استغفر لي, فدعا بماء فتوضأ ثم رفع يديه فقال: « اللهم اغفر لعبيد أبي عامر » . ورأيت بياض إبطيه ثم قال: « اللهم اجعله يوم القيامة فوق كثير من خلقك من الناس » . فقلت: ولي فاستغفر فقال: « اللهم اغفر لعبد الله بن قيس ذنبه وأدخله يوم القيامة مدخلا كريما ». قال أبو بردة: إحداهما لأبي عامر والأخرى لأبي موسى. (أخرجه البخاري) .
“যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়েন যুদ্ধ থেকে অবসর হলেন, তখন তিনি আবূ ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে একটি সৈন্যবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করে আওতাস গোত্রের প্রতি পাঠালেন। যুদ্ধে তিনি (আবূ ‘আমির) দুরায়দ ইবন সিম্মার সাথে মুকাবিলা করলে দুরায়দ নিহত হয় এবং আল্লাহ তার সহযোগী যোদ্ধাদেরকেও পরাজিত করেন। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র সাথে আমাকেও পাঠিয়েছিলেন। এ যুদ্ধে আবূ ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র হাঁটুতে একটি তীর নিক্ষিপ্ত হয়। জু‘শাম গোত্রের এক লোক তীরটি তাঁর হাঁটুর মধ্যে বসিয়ে দিয়েছিল। তখন আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, চাচাজান! কে আপনার উপর তীর ছুঁড়েছে? তখন তিনি আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ইশারার মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়ে বললেন যে, ঐ যে, ঐ ব্যক্তি আমাকে তীর মেরেছে। আমাকে হত্যা করেছে। আমি লোকটিকে লক্ষ্য করে তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম, আর সে আমাকে দেখামাত্র ভাগতে শুরু করল। আমি এ কথা বলতে বলতে তার পশ্চাদ্ভাবন করলাম, (পালাচ্ছ কেন) বেহায়া দাঁড়াও না, দাঁড়াও। লোকটি থেমে গেল। এবার আমরা দু’জনে তরবারি দিয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করলাম এবং শেষ পর্যন্ত আমি ওকে হত্যা করে ফেললাম। তারপর আমি আবূ ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললাম, আল্লাহ আপনার আঘাতকারীকে হত্যা করেছেন। তিনি বললেন, (ঠিক আছে, এবার তুমি আমার হাঁটু থেকে) তীরটি বের করে দাও। আমি তীরটি বের করে দিলাম। তখন ক্ষতস্থান থেকে কিছু পানিও বের হয়ে আসল। তিনি আমাকে বললেন, হে ভাতিজা! (আমি হয়ত বাঁচবো না) তুমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার সালাম জানাবে এবং আমার মাগফিরাতের জন্য দো‘আ করতে বলবে। আবূ ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর স্থলে আমাকে সেনাবাহিনীর আমীর নিযুক্ত করলেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ বেঁচে ছিলেন, তারপর ইন্তিকাল করলেন। (যুদ্ধ শেষে) আমি ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাড়ি প্রবেশ করলাম। তিনি তখন পাকানো দড়ির তৈরি একটি খাটিয়ায় শায়িত ছিলেন। খাটিয়ার উপর (নামেমাত্র) একটি বিছানা ছিল। কাজেই তাঁর পিঠে এবং পার্শ্বদেশে পাকানো দড়ির দাগ পড়ে গিয়েছিল। আমি তাঁকে আমাদের এবং আবূ ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র সংবাদ জানালাম। (তাঁকে এ কথাও বললাম যে) তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) বলে গিয়েছেন, তাঁকে (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) আমার মাগফিরাতের জন্য দো‘আ করতে বলবে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বললেন এবং ওযু করলেন। তারপর তিনি তাঁর দু’হাত উপরে তুলে দো‘আ করে বললেন, হে আল্লাহ! তোমার প্রিয় বান্দা আবূ ‘আমিরকে ক্ষমা কর। [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দো‘আর মুহূর্তে হাতদ্বয় এত উপরে তুললেন যে] আমি তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রাংশ দেখতে পেয়েছি। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! কিয়ামত দিবসে তুমি তাঁকে তোমার অনেক মাখলুকের উপর, অনেক মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান কর। আমি বললাম: আমার জন্যও (দো‘আ করুন)। তিনি দো‘আ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আবদুল্লাহ ইবন কায়েসের গুনাহ ক্ষমা করে দাও এবং কিয়ামত দিবসে তুমি তাঁকে সম্মানিত স্থানে প্রবেশ করাও। বর্ণনাকারী আবূ বুরদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, দু’টি দো‘আর একটি ছিল আবূ ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র জন্য, আর অপরটি ছিল আবূ মূসা (আশ‘আরী) রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র জন্য।”[16] ৩৬. উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সালামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গেলেন। তখন তাঁর চোখগুলো উন্মুক্ত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোখগুলো বন্ধ করে দিলেন এবং বললেন:
«إِنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ تَبِعَهُ الْبَصَرُ ». فَضَجَّ نَاسٌ مِنْ أَهْلِهِ فَقَالَ: «لاَ تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلاَّ بِخَيْرٍ فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ». ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لأَبِى سَلَمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِى الْمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِى عَقِبِهِ فِى الْغَابِرِينَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ وَافْسَحْ لَهُ فِى قَبْرِهِ. وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ». (أخرجه مسلم).
“নিশ্চয়ই রূহ যখন নিয়ে যাওয়া হয়, তখন চোখ তার প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। এ কথা শুনে তার পরিবারের লোকেরা উচ্চস্বরে কেঁদে উঠলেন। তিনি বললেন, তোমরা নিজেদের জন্য অমঙ্গলজনক কোনো দো‘আ করো না। কেননা, ফেরেশতাগণ তোমাদের কথার উপর আমীন বলে থাকেন। তিনি তারপর বললেন, হে আল্লাহ! তুমি আবূ সালামাকে মাফ করে দাও, হিদায়াত প্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদাকে সুউচ্চ করে দাও এবং তার উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত কর। হে রাব্বুল আলামীন! আমাদেরকে এবং তাঁকে মাফ করে দাও; আর তাঁর জন্য কবরকে প্রশস্ত করে দাও এবং তাঁর কবরকে আলোকময় করে দাও।”[17]
* * *
[ ৭ ]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর চাচা আবূ তালিবের শাস্তি হালকা করার জন্য সুপারিশ প্রসঙ্গে
৩৭. আব্বাস ইবন আবদিল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
«ما أغنيت عن عمك فإنه كان يحوطك ويغضب لك ؟ قال: « هو في ضحضاح من نار ولولا أنا لكان في الدرك الأسفل من النار ». (أخرجه البخاري و مسلم) .
“আপনি কি আপনার কর্মের দ্বারা (তার) কোন উপকার করতে পেরেছেন, অথচ তিনি তো আপনাকে হিফাযত করতেন এবং আপনার জন্য (অন্যের প্রতি) ক্রোধাম্বিত হতেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (হ্যাঁ), তিনি কেবল পায়ের গ্রন্থি পর্যন্ত জাহান্নামের আগুনে থাকবেন, আর যদি আমি না হতাম, তবে জাহান্নামের অতল তলেই তাকে অবস্থান করতে হত।”[18] ৩৮. আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর চাচা (আব্বাস রা.) আলোচনা করার সময় শুনেছেন; অতঃপর এক পর্যায়ে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:
« لعله تنفعه شفاعتي يوم القيامة فيجعل في ضحضاح من النار يبلغ كعبيه يغلي منه دماغه ». (أخرجه البخاري) .
“আশা করা যায়, কিয়ামতের দিন তাঁর ব্যাপারে আমার সুপারিশ কাজে আসবে। তাঁকে জাহান্নামের উপরিভাগে এমনভাবে রাখা হবে যে, আগুন তার পায়ের গিরা পর্যন্ত পৌঁছবে; এতেই তার মগজ উথলাতে থাকবে।”[19] এই হাদিস দু’টি প্রমাণ করে যে, আবূ তালিব কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে; কারণ, তিনি যদি মুসলিম হতেন, তাহলে একত্ববাদে বিশ্বাসীদের সাথে তিনিও জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসতে পারতেন, যেমনিভাবে একত্ববাদে বিশ্বাসীদের জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসগুলোর সংখ্যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর অচিরেই এই প্রসঙ্গে বর্ণিত কিছু সংখ্যক হাদিসের বিবরণ আসবে ইনশাআল্লাহ। আর এই দু’টি হাদিসের মধ্যে আবূ তালিবের ইসলাম গ্রহণ না করার ব্যাপারে যে প্রমাণ বহন করে, তাকে সমর্থন ও শক্তিশালী করে ইমাম বুখারী র. তাঁর ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন; ইবনু শিহাব র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব র., তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«أنه لما حضرت أبا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى الله عليه و سلم فوجد عنده أبا جهل بن هشام وعبد الله بن أمية بن المغيرة قال رسول الله صلى الله عليه و سلم لأبي طالب: « يا عم قل لا إله إلا الله كلمة أشهد لك بها عند الله » . فقال أبو جهل وعبد الله بن أمية يا أبا طالب أترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى الله عليه و سلم يعرضها عليه ويعودان بتلك المقالة حتى قال أبو طالب آخر ما كلمهم هو على ملة عبد المطلب وأبى أن يقول لا إله إلا الله . فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم: « أما والله لأستغفرن لك ما لم أنه عنك» . فأنزل الله تعالى فيه : ﴿ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَن يَسۡتَغۡفِرُواْ لِلۡمُشۡرِكِينَ وَلَوۡ كَانُوٓاْ أُوْلِي قُرۡبَىٰ مِنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمۡ أَنَّهُمۡ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَحِيمِ ١١٣ ﴾ [التوبة: ١١٣]» . (أخرجه البخاري).
“আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল ইবন হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবন আবূ উমাইয়্যা ইবন মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে বললেন: চাচাজান! ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালেমা পাঠ করুন, তাহলে এর ওসীলায় আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারব। আবূ জাহল ইবন হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবন আবূ উমাইয়্যা বলে উঠল: ওহে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে বিমূখ হবে ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে কালেমা পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু’জনও তাদের কথা পুনারাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়।” তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেন:
﴿مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَن يَسۡتَغۡفِرُواْ لِلۡمُشۡرِكِينَ وَلَوۡ كَانُوٓاْ أُوْلِي قُرۡبَىٰ مِنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمۡ أَنَّهُمۡ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَحِيمِ ١١٣ ﴾ [التوبة: ١١٣]
(আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সংগত নয়, যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী)। [সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১১৩]।”[20] তিনি (ইমাম বুখারী র.) হাদিসটি তাঁর ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থের ভিন্ন আরো কয়েক জায়াগায় বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে:
«فنزلت: ﴿ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَن يَسۡتَغۡفِرُواْ لِلۡمُشۡرِكِينَ وَلَوۡ كَانُوٓاْ أُوْلِي قُرۡبَىٰ مِنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمۡ أَنَّهُمۡ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَحِيمِ ١١٣ ﴾ [التوبة: ١١٣] و نزلت : ﴿ إِنَّكَ لَا تَهۡدِي مَنۡ أَحۡبَبۡتَ ... ٥٦ ﴾ [القصص: ٥٦] ».
“অতঃপর নাযিল হয়েছে: “আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সংগত নয়, যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।” (সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১১৩) এবং আরও নাযিল হয়েছে: “আপনি যাকে ভালবাসেন, ইচ্ছে করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না ...।” (সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬)। আর (আবূ তালিবের ইসলাম গ্রহণ না করার ব্যাপারে) সমর্থন করে, যা ইমাম মুসলিম র. তাঁর ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা (আবূ তালিব)- এর অন্তিমকালে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
«قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ لَكَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ». فَأَبَى فَأَنْزَلَ اللَّهُ (إِنَّكَ لاَ تَهْدِى مَنْ أَحْبَبْتَ) الآيَةَ.
“আপনি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলুন. কিয়ামত দিবসে আমি আপনার জন্য সাক্ষ্য দিব। কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন:
﴿ إِنَّكَ لَا تَهۡدِي مَنۡ أَحۡبَبۡتَ ... الآيَةَ ٥٦ ﴾ [القصص: ٥٦]
অর্থাৎ “আপনি যাকে ভালবাসেন, ইচ্ছে করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না ...।” (সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬)।”[21] আর তিনি ‌এই হাদিসটি অপর আরেকটি সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে তিনি (আবূ তালিব) বলেন:
«لَوْلاَ أَنْ تُعَيِّرَنِى قُرَيْشٌ يَقُولُونَ إِنَّمَا حَمَلَهُ عَلَى ذَلِكَ الْجَزَعُ , لأَقْرَرْتُ بِهَا عَيْنَكَ , فَأَنْزَلَ اللَّهُ: ﴿ إِنَّكَ لَا تَهۡدِي مَنۡ أَحۡبَبۡتَ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهۡدِي مَن يَشَآءُۚ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِينَ ٥٦ [القصص: ٥٦]
“কুরাইশ কর্তৃক এরূপ দোষারোপ করার আশঙ্কা যদি যদি না থাকত, তাহলে আমি তা (কালেমা তাওহীদ) পাঠ করে তোমার চোখ জুড়াতাম; এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেন:
﴿إِنَّكَ لَا تَهۡدِي مَنۡ أَحۡبَبۡتَ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهۡدِي مَن يَشَآءُۚ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِينَ ٥٦ ﴾
অর্থাৎ-“আপনি যাকে ভালবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না; বরং আল্লাহই যাকে ইচ্ছে সৎপথে আনয়ন করেন এবং সৎপথ অনুসারীদের সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।” (সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬)।”[22] নাজিয়া ইবন কা‘ব র. থেকে বর্ণিত, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম:
«إِنَّ عَمَّكَ الشَّيْخَ الضَّالَّ قَدْ مَاتَ . قَالَ: « اذْهَبْ فَوَارِ أَبَاكَ ثُمَّ لاَ تُحْدِثَنَّ شَيْئًا حَتَّى تَأْتِيَنِى» . فَذَهَبْتُ فَوَارَيْتُهُ وَجِئْتُهُ فَأَمَرَنِى فَاغْتَسَلْتُ وَدَعَا لِى» . (أخرجه أبو داود و النسائي) .
“আপনার বৃদ্ধ পথভ্রষ্ট চাচা মারা গিয়েছে; তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘যাও, তুমি তোমার পিতাকে (মাটি দ্বারা) ঢেকে রাখ, অতঃপর আমার নিকট না আসা পর্যন্ত কোন কিছুই করবে না; অতঃপর আমি গেলাম, তারপর তাকে (মাটি দ্বারা) ঢেকে দিলাম এবং তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট আসলাম; অতঃপর তিনি আমাকে (গোসল করার) নির্দেশ দিলেন; আমি গোসল করলাম, আর তিনি আমার জন্য দো‘আ করলেন।”[23]
[ ৮ ]
একত্ববাদীদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করার জন্য সুপারিশ প্রসঙ্গে
একত্ববাদে বিশ্বাসীগণের জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণকারী হাদিসসমূহ ‘মুতাওয়াতির’ পর্যায়ের; আর এই ব্যাপারে প্রমাণকারী হাদিসসমূহের কিছু কিছু পূর্বে আলোচিত হয়েছে; যেমন- আনাস ইবন মালিক রা. বর্ণিত হাদিস, (এই বইয়ে) হাদিস নং- ২ ও ৩; আবূ বকর রা. এর হাদিস, ক্রমিক নং- ৫; আর এই ব্যাপারে প্রমাণ পেশ করে নিম্নে বর্ণিত হাদিসসমূহ: ৩৯. যুহুরী র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট সা‘ঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ও ‘আতা ইবন ইয়াযিদ আল-লাইসী র. হাদিস বর্ণনা বর্ণনা করেছেন; তাঁদের নিকট আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেছেন যে, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব? জবাবে তিনি বলেন:
« هل تمارون في القمر ليلة بدر ليس دونه حجاب ؟ . قالوا لا يا رسول الله, قال: فهل تمارون في الشمس ليس دونها سحاب ؟ . قالوا لا, قال: فإنكم ترونه كذلك, يحشر الناس يوم القيامة فيقول: من كان يعبد شيئا فليتبع, فمنهم من يتبع الشمس, ومنهم من يتبع القمر, ومنهم من يتبع الطواغيت, وتبقى هذه الأمة فيها منافقوها, فيأتهم الله فيقول: أنا ربكم, فيقولون: هذا مكاننا حتى يأتينا ربنا, فإذا جاء ربنا عرفناه , فيأتيهم الله فيقول: أنا ربكم, فيقولون: أنت ربنا, فيدعوهم, فيضرب الصراط بين ظهراني جهنم, فأكون أول من يجوز من الرسل بأمته ولا يتكلم يومئذ أحد إلا الرسل, وكلام الرسل يومئذ: اللهم سلم سلم, وفي جهنم كلاليب مثل شوك السعدان, هل رأيتم شوك السعدان ؟ . قالوا: نعم, قال: فإنها مثل شوك السعدان, غير أنه لا يعلم قدرعظمها إلا الله, تخطف الناس بأعمالهم فمنهم من يوبق بعمله, ومنهم من يخردل ثم ينجو, حتى إذا أراد الله رحمة من أراد من أهل النار أمر الله الملائكة أن يخرجوا من كان يعبد الله فيخرجونهم ويعرفونهم بآثار السجود, وحرم الله على النار أن تأكل أثر السجود, فيخرجون من النار, فكل ابن أدم تأكله النار إلا أثر السجود, فيخرجون من النار قد امتحشوا, فيصب عليهم ماء الحياة فينبتون كما تنبت الحبة في حميل السيل, ثم يفرغ الله من القضاء بين العباد, ويبقى رجل بين الجنة والنار وهو آخر أهل النار دخولا الجنة مقبل بوجهه قبل النار, فيقول: يا رب اصرف وجهي عن النار, قد قشبني ريحها وأحرقني ذكاؤها, فيقول: هل عسيت إن فعل ذلك بك أن تسأل غير ذلك ؟ فيقول: لا وعزتك, فيعطي الله ما يشاء من عهد وميثاق, فيصرف الله وجهه عن النار.
فإذا أقبل به على الجنة رأى بهجتها سكت ما شاء الله أن يسكت, ثم قال: يا رب قدمني عند باب الجنة, فيقول الله له: أليس قد أعطيت العهود والميثاق أن لا تسأل غير الذي كنت سألت ؟ فيقول: يا رب لا أكون أشقى خلقك, فيقول فما عسيت إن أعطيت ذلك أن لا تسأل غيره ؟ فيقول: لا وعزتك لا أسأل غير ذلك, فيعطي ربه ما شاء من عهد وميثاق فيقدمه إلى باب الجنة, فإذا بلغ بابها فرأى زهرتها وما فيها من النضرة والسرور, فيسكت ما شاء الله أن يسكت, فيقول: يارب أدخلني الجنة, فيقول الله: ويحك يا بن آدم ما أغدرك أليس قد أعطيت العهد والميثاق أن لا تسأل غير الذي أعطيت ؟ فيقول: يا رب لا تجعلني أشقى خلقك, فيضحك الله عز و جل منه, ثم يأذن له في دخول الجنة, فيقول: تمن, فيتمنى, حتى إذا انقطعت أمنيته, قال الله عز و جل: من كذا وكذا أقبل, يذكره ربه حتى إذا انتهت به الأماني, قال الله تعالى: لك ذلك ومثله معه » .
قال أبو سعيد الخدري لأبي هريرة رضي الله عنهما: إن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: « قال الله: لك ذلك وعشرة أمثاله » . قال أبو هريرة: لم أحفظ من رسول الله صلى الله عليه و سلم إلا قوله: «لك ذلك ومثله معه » . قال أبو سعيد إني سمعته يقول: « ذلك لك وعشرة أمثاله » . (أخرجه البخاري) .
“মেঘমুক্ত পূর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কি সন্দেহ পোষণ কর? তাঁরা বললেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখার ব্যাপারে কি তোমাদের কোন সন্দেহ আছে? সবাই বললেন, না। তখন তিনি বললেন: নিঃসন্দেহে তোমরাও আল্লাহকে অনুরূপভাবে দেখতে পাবে। কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে। তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: যে যার উপাসনা করত, সে যেন তার অনুসরণ করে; তাই তাদের কেউ সূর্যের অনুসরণ করবে, কেউ চন্দ্রের অনুসরণ করবে, কেউ তাগুতের অনুসরণ করবে। আর অবশিষ্ট থাকবে শুধু এ উম্মাহ, তবে তাদের সাথে মুনাফিকরাও থাকবে। তাদের মাঝে এ সময় আল্লাহ তা‘আলা শুভাগমন করবেন এবং বলবেন: “আমি তোমাদের রব।” তখন তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রবের শুভাগমন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব। আর তাঁর যখন শুভাগমন হবে, তখন আমরা অবশ্যই তাঁকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ আগমন করবেন এবং বলবেন: “আমি তোমাদের রব।” তারা বলবে, হ্যাঁ, আপনিই আমাদের রব। আল্লাহ তা‘আলা তাদের ডাকবেন। আর জাহান্নামের উপর একটি সেতুপথ (পুলসিরাত) স্থাপন করা হবে। রাসূলগণের মধ্যে আমিই সবার আগে আমার উম্মত নিয়ে এ পথ অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না। আর রাসূলগণের কথা হবে: ‘اللهم سلم سلم’ (আল্লাহুম্মা সাল্লিম সাল্লিম), অর্থাৎ হে আল্লাহ! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। আর জাহান্নামে বাঁকা লোহার বহু শলাকা থাকবে; সেগুলো হবে সা‘দান কাঁটার মত। তোমরা কি সা‘দান কাঁটা দেখেছ? তারা বলল, হ্যাঁ, দেখেছি। তিনি বললেন, সেগুলো দেখতে সা‘দান[24] কাঁটার মতই। তবে সেগুলো কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। সে কাঁটা লোকের আমল অনুযায়ী তাদের তড়িৎ গতিতে ধরবে। তাদের কিছু লোক ধ্বংস হবে আমলের কারণে। আর কারোর পায়ে জখম হবে, কিছু লোক কাঁটায় আক্রান্ত হবে, তারপর নাজাত পেয়ে যাবে। জাহান্নামীদের থেকে যাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা রহমত করতে ইচ্ছা করবেন, তাদের ব্যাপারে ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দেবেন যে, যারা আল্লাহর ইবাদত করত, তাদের যেন জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হয়। ফেরেশতাগণ তাদের বের করে আনবেন এবং সিজদার চিহ্ন দেখে তাঁরা তাদের চিনতে পারবেন। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের জন্য সিজদার চিহ্নগুলো মিটিয়ে দেয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে। কাজেই সিজদার চিহ্ন ছাড়া আগুন বনী আদমের সব কিছুই গ্রাস করে ফেলবে। অবশেষে, তাদেরকে অঙ্গারে পরিণত অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তাদের উপর ‘আবে-হায়াত’ ঢেলে দেয়া হবে, ফলে তারা স্রোতে বাহিত ফেনার উপর গজিয়ে উঠা উদ্ভিদের মত সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে। এরপর আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের বিচার কাজ সমাপ্ত করবেন। কিন্তু একজন লোক জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে যাবে। তার মুখমণ্ডল তখনও জাহান্নামের দিকে ফিরানো থাকবে। জাহান্নামবাসীদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশকারী সেই শেষ ব্যক্তি। সে তখন নিবেদন করবে, হে আমার রব! জাহান্নাম থেকে আমার চেহারা ফিরিয়ে দিন, এর দূষিত হাওয়া আমাকে বিষিয়ে তুলছে, এর লেলিহান শিখা আমাকে যন্ত্রনা দিচ্ছে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তোমার নিবেদন গ্রহণ করা হলে, তুমি এ ছাড়া আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইজ্জতের শপথ! সে তার ইচ্ছামত আল্লাহ তা‘আলাকে অঙ্গিকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। কাজেই আল্লাহ তা‘আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দেবেন। এরপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে, তখন সে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সে চুপ করে থাকবে। তারপর সে বলবে, হে আমার রব! আপনি জান্নাতের দরজার কাছে পৌঁছিয়ে দিন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, তুমি পূর্বে যা চেয়েছিলে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না বলে তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাও নি? তখন সে বলবে, হে আমার রব! তোমার সৃষ্টির সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি আমি হতে চাই না। আল্লাহ তাৎক্ষণিক বলবেন, তোমার এটি পুরণ করা হলে তুমি এ ছাড়া কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইজ্জতের কসম! এছাড়া আর কিছুই চাইব না। এ ব্যাপারে সে তার ইচ্ছানুযায়ী অঙ্গিকার ও প্রতিশ্রুতি দেবে। সে যখন জান্নাতের দরজায় পৌঁছবে, তখন জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্য্য ও তার অভ্যন্তরীণ সুখ শান্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করবেন, সে চুপ করে থাকবে। এরপর সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও! তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান, কি আশ্চর্য! তুমি কত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! তুমি কি আমার সঙ্গে অঙ্গিকার করনি এবং প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, তোমাকে যা দেয়া হয়েছে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না? তখন সে বলবে, হে আমার রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য আমাকে করবেন না। এতে আল্লাহ হেসে দেবেন। এরপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিবেন এবং বলবেন, চাও। তখন সে চাইবে, এমনকি তার চাওয়ার আকাঙ্খা ফুরিয়ে যাবে। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেন: এটা চাও, ওটা চাও। এভাবে তার রব তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকবেন। অবশেষে যখন তার আকাঙ্খা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: এ সবই তোমার, এর সাথে আরও সমপরিমাণ (তোমাকে দেওয়া হল)।” আবূ সা‘ঈদ খুদরী রা. আবূ বকর রা.কে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন যে, “আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: এ সবই তোমার, তার সাথে আরও দশগুণ (তোমাকে দেয়া হল)।” আবূ হুরায়রা রা. বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুধু এ কথাটি স্মরণ রেখেছি যে, “এ সবই তোমার এবং তারা সাথে সমপরিমাণ।” আবূ সা‘ঈদ রা. বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, “এসব তোমার এবং এর সাথে আরও দশগুণ।”[25] ৪০. আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? তখন তিনি বলেন:
« هل تضارون في رؤية الشمس والقمر إذا كانت ضحوا ؟ . قلنا: لا, قال: « فإنكم لا تضارون في رؤية ربكم يومئذ إلا كما تضارون في رؤيتهما » . ثم قال: « ينادي مناد ليذهب كل قوم إلى ما كانوا يعبدون, فيذهب أصحاب الصليب مع صليبهم, وأصحاب الأوثان مع أوثانهم , وأصحاب كل آلهة مع آلهتهم حتى يبقى من كان يعبد الله من بر أو فاجر, وغبرات من أهل الكتاب, ثم يؤتى بجهنم تعرض كأنها سراب, فيقال لليهود: ما كنتم تعبدون ؟ قالوا: كنا نعبد عزير ابن الله, فيقال: كذبتم, لم يكن لله صاحبة ولا ولد, فما تريدون ؟ قالوا: نريد أن تسقينا, فيقال: اشربوا, فيتساقطون في جهنم , ثم يقال للنصارى: ما كنتم تعبدون ؟ فيقولون: كنا نعبد المسيح ابن الله, فيقال: كذبتم, لم يكن لله صاحبة ولا ولد, فما تريدون ؟ فيقولون: نريد أن تسقينا, فيقال: اشربوا, فيتساقطون حتى يبقى من كان يعبد الله من بر أو فاجر, فيقال لهم: ما يحبسكم وقد ذهب الناس ؟ فيقولون: فارقناهم ونحن أحوج منا إليه اليوم, وإنا سمعنا مناديا ينادي ليلحق كل قوم بما كانوا يعبدون, وإنما ننتظر ربنا, قال: فيأتيهم الجبار في صورة غير صورته التي رأوه فيها أول مرة, فيقول: أنا ربكم, فيقولون: أنت ربنا فلا يكلمه إلا الأنبياء, فيقول: هل بينكم وبينه آية تعرفونه ؟ فيقولون: الساق, فيكشف عن ساقه, فيسجد له كل مؤمن, ويبقى من كان يسجد لله رياء وسمعة, فيذهب كيما يسجد فيعود ظهره طبقا واحدا, ثم يؤتى بالجسر فيجعل بين ظهري جهنم » . قلنا: يا رسول الله وما الجسر ؟ قال: « مدحضة مزلة عليه خطاطيف وكلاليب وحسكة مفلطحة لها شوكة عقيفة تكون بنجد يقال لها: السعدان, المؤمن عليها كالطرف وكالبرق وكالريح وكأجاويد الخيل والركاب فناج مسلم , وناج مخدوش, ومكدوس في نار جهنم, حتى يمر آخرهم يسحب سحبا, فما أنتم بأشد لي مناشدة في الحق قد تبين لكم من المؤمن يومئذ للجبار, وإذا رأوا أنهم قد نجوا في إخوانهم يقولون: ربنا إخواننا كانوا يصلون معنا ويصومون معنا, ويعملون معنا, فيقول الله تعالى: اذهبوا فمن وجدتم في قلبه مثقال دينار من إيمان فأخرجوه, ويحرم الله صورهم على النار, فيأتونهم وبعضهم قد غاب في النار إلى قدمه, وإلى أنصاف ساقيه, فيخرجون من عرفوا, ثم يعودون فيقول: اذهبوا فمن وجدتم في قلبه مثقال نصف دينار فأخرجوه فيخرجون من عرفوا, ثم يعودون فيقول اذهبوا فمن وجدتم في قلبه مثقال ذرة من إيمان فأخرجوه فيخرجون من عرفوا » . قال أبو سعيد فإن لم تصدقوني فاقرؤوا: ﴿ إن الله لا يظلم مثقال ذرة وإن تك حسنة يضاعفها ﴾ .
« فيشفع النبيون والملائكة والمؤمنون, فيقول الجبار: بقيت شفاعتي فيقبض قبضة من النار فيخرج أقواما قد امتحشوا, فليقون في نهر بأفواه الجنة, يقال له: ماء الحياة, فينبتون في حافتيه كما تنبت الحبة في حميل السيل, قد رأيتموها إلى جانب الصخرة, و إلى جانب الشجرة, فما كان إلى الشمس منها كان أخضر, وما كان منها إلى الظل كان أبيض, فيخرجون كأنهم اللؤلؤ فيجعل في رقابهم الخواتيم, فيدخلون الجنة, فيقول أهل الجنة: هؤلاء عتقاء الرحمن , أدخلهم الجنة بغير عمل عملوه , ولا خير قدموه, فيقال لهم: لكم ما رأيتم ومثله معه » . (أخرجه البخاري) .
“মেঘমুক্ত আকাশে তোমরা সূর্য ও চন্দ্র দেখতে কোন বাধাপ্রাপ্ত হও কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন: সেদিন তোমরাও তোমাদের প্রতিপালককে দেখতে বাধাপ্রাপ্ত হবে না এতটুকু ব্যতীত, যতটুকু সূর্য ও চন্দ্র দেখার সময় পেয়ে থাক। সেদিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন, যারা যে জিনিসের ইবাদত করতে, তারা সে জিনিসের কাছে গমন কর। এরপর যারা ক্রুশধারী ছিল, তারা যাবে তাদের ক্রুশের কাছে। মূর্তিপুজারীরা যাবে তাদের মূর্তির সাথে। সকলেই তাদের উপাস্যের সাথে যাবে। অবশিষ্ট থাকবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতকারীরা; নেককার ও গুনাহগার সবাই এবং আহলে কিতাবের কিছু সংখ্যক লোকও থাকবে। অতঃপর জাহান্নামকে আনা হবে। সেটি তখন মরীচিকার মত থাকবে। ইয়াহূদীদেরকে সম্বোধন করে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা কিসের ইবাদত করতে? উত্তরে তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র ‘উযায়ের আ. এর ইবাদত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। কারণ, আল্লাহর কোন স্ত্রীও নেই এবং নেই তাঁর কোন সন্তান। এখন তোমরা কি চাও? তারা বলবে, আমরা চাই, আপনি আমাদেরকে পানি পান করান। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা পানি পান কর। এরপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। তারপর নাসারাদেরকে হবে, তোমরা কিসের ইবাদত করতে? উত্তরে তারা বলে উঠবে, আমরা আল্লাহর পুত্র ‘মসীহের ইবাদত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। কারণ, আল্লাহর কোন স্ত্রীও ছিল না, সন্তানও ছিল না। এখন তোমরা কি চাও? তারা বলবে, আমাদের ইচ্ছা আপানি আমাদেরকে পানি পান করতে দিন। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা পানি পান কর। এরপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। পরিশেষে অবশিষ্ট থাকবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতকারীগণ; তাদের নেককার ও গুনাহগার সবাই। তাদেরকে লক্ষ্য করে বলা হবে, কোন জিনিস তোমাদেরকে আটকে রেখেছে? অথচ অন্যরা তো চলে গিয়েছে। তারা বলবে, আমরা তো সেদিন তাদের থেকে পৃথক ছিলাম, যেদিন আজকের অপেক্ষা বেশি প্রয়োজন ছিল। আমরা একজন ঘোষণাকারীকে ঘোষণাটি দিতে শুনেছি যে, যারা যাদের ইবাদত করত, তারা যেন তাদের সাথে যায়। আমরা প্রতীক্ষা করছি আমাদের প্রতিপালকের জন্য। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের কাছে আগমন করবেন। এবার তিনি সে আকৃতিতে আগমন করবেন না, যে আকৃতিতে তাঁকে প্রথমবার ঈমানদারগণ দেখেছিলেন। এসে তিনি ঘোষণা দেবেন— আমি তোমাদের প্রতিপালক, সবাই তখন বলে উঠবে, আপনিই আমাদের প্রতিপালক। আর সেদিন নবীগণ ছাড়া তাঁর সঙ্গে কেউ কথা বলতে পারবে না। আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, তোমাদের এবং তাঁর মাঝখানে পরিচায়ক কোন আলামত আছে কি? তারা বলবেন, ‘পায়ের নলা’। তখন পায়ের নলা খুলে দেয়া হবে। তা দেখে ঈমানদারগণ সবাই সিজদায় পতিত হবে। বাকি থাকবে তারা, যারা লোক দেখানো এবং লোক শুনানো সিজদা করেছিল। তবে তারা সিজদার মনোবৃত্তি নিয়ে সিজদা করার জন্য যাবে, কিন্তু তাদের মেরুদণ্ড একটি তক্তার ন্যায় শক্ত হয়ে যাবে। এমন সময় পুল (পুলসিরাত) স্থাপন করা হবে জাহান্নামের উপর। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে পুলটি কি ধরনের হবে? তিনি বলরেন: দুর্গম পিচ্ছিল জায়গা হবে। এর উপর আংটা ও হুক থাকবে, যা শক্ত ও চওড়া কাঁটা বিশিষ্ট হবে, যা নাজদ দেশের সা‘দান বৃক্ষের কাঁটার মত হবে। সে পুলের উপর দিয়ে ঈমানদারগণের কেউ অতিক্রম করবে চোখের পলকের মত, কেউ বিজলীর মত, কেউ বা বাতাসের মত, আবার কেউ দ্রুতগামী ঘোড়া ও সাওয়ারের মত। তবে মুক্তিপ্রাপ্তগণ কেউ নিরাপদে চলে আসবে, আবার কেউ জাহান্নামের আগুনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে। একেবারে শেষে পার হবে যে ব্যক্তিটি, সে হেঁচড়িয়ে কোন রকমে পার হয়ে আসবে। এখন তোমরা হকের ব্যাপারে আমার অপেক্ষা বেশি কঠোর নও; মহাপরক্রমশালী আল্লাহর সমীপে মুমিনদের অবস্থাটি তোমাদের নিকট পরিষ্কার হয়ে গেছে। যখন তারা (মুমিনগণ) দেখবে যে, তাদের ভাইদের মধ্যে তারা মুক্তি পেয়ে গেছে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সেসব ভাই কোথায়, যারা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, সাওম (রোযা) পালন করত এবং আমাদের সাথে ভাল কাজ করত? তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে এক দিনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আস; আল্লাহ তা‘আলা তাদের চেহারাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। এদের কারও কারও দু‘পা ও দু‘পায়ের নলার অধিক পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে হারিয়ে যাবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারপর এরা আবার প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ আবার তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অর্ধ দিনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা গিয়ে তাদেরকেই বের করে নিয়ে আসবে, যাদেরকে তারা চিনতে পারবে। তারপর এরা আবার প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ আবার তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তোমরা যদি আমাকে বিশ্বাস না কর, তাহলে আল্লাহর এই বাণীটি পড়: “আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলুম করেন না এবং অণু পরিমাণ পুণ্য কাজ হলেও আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ করেন।” (সূরা আন-নিসা: ৪০)। “তারপর নবীসাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ফেরেশতা ও মুমিনগণ সুপারিশ করবেন। তখন মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলবেন, এখন একমাত্র আমার শাফা‘আতই বাকি রয়েছে। তিনি জাহান্নাম থেকে একমুষ্টি ভরে এমন কতগুলো কাওম (সম্প্রদায়)-কে বের করবেন, যারা জ্বলে পুরে দগ্ধ হয়ে গিয়েছে। তারপর তাদেরকে বেহেশতের সামনে অবস্থিত ‘হায়াত’ নামক নহরে ঢালা হবে। তারা সে নহরের দু’পার্শ্বে এমনভাবে উদ্ভূত হবে, যেমন পাথর এবং গাছের কিনারে বহন করে আনা আবর্জনায় বীজ থেকে তৃণ উদ্ভূত হয়। তন্মধ্যে সূর্যের আলোর অংশের গাছগুলো সাধারণত সবুজ হয়, ছায়ার অংশেরগুলো সাদা হয়। তারা সেখান থেকে মুক্তার দানার মত বের হবে। তাদের গর্দানে মোহর লাগানো হবে। জান্নাতে যখন তারা প্রবেশ করবে, তখন অপরাপর জান্নাতবাসীরা বলবেন, এরা হলেন রহমান কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত, যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কোন ভাল আমল কিংবা কল্যাণমূলক কাজ ছাড়া জান্নাতে দাখিল করেছেন। তখন তাদেরকে ঘোষণা দেয়া হবে: তোমরা যা দেখেছ, সবই তো তোমাদের, এর সাথে আরও সমপরিমাণ দেওয়া হল তোমাদেরকে।”[26] ৪১. আবূ সা‘ঈদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أَمَّا أَهْلُ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا فَإِنَّهُمْ لاَ يَمُوتُونَ فِيهَا وَلاَ يَحْيَوْنَ وَلَكِنْ نَاسٌ أَصَابَتْهُمُ النَّارُ بِذُنُوبِهِمْ أَوْ قَالَ بِخَطَايَاهُمْ فَأَمَاتَهُمْ إِمَاتَةً حَتَّى إِذَا كَانُوا فَحْمًا أُذِنَ بِالشَّفَاعَةِ فَجِىءَ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ فَبُثُّوا عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ ثُمَّ قِيلَ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ. فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِى حَمِيلِ السَّيْلِ ». فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ كَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ كَانَ بِالْبَادِيَةِ. (أخرجه مسلم) .
“জাহান্নামীদের মধ্যে যারা প্রকৃতপক্ষে জাহান্নামী, তাদের মৃত্যুও ঘটবে না এবং তারা পুনর্জীবিতও হবে না। তবে তন্মধ্যে তোমাদের এমন কতিপয় লোকও থাকবে, যারা গুনাহের দায়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এরপর আল্লাহ তা‘আলা (তাদের উপর পতিত আযাবের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে) তাদেরকে কিছুকাল নির্জীব করে রেখে দিবেন। অবশেষে তারা পুড়ে সম্পূর্ণ অঙ্গার হয়ে যাবে। এ সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফা‘আতের অনুমতি হবে। তখন এদেরকে দলে দলে নিয়ে আসা হবে এবং জান্নাতের নহরগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া হবে। পরে বলা হবে, হে জান্নাতীরা তোমরা এদের গায়ে পানি ঢেলে দাও! ফলে স্রোতবাহিত পলিতে গজিয়ে ওঠা শস্যদানার মত তারা সজিব হয়ে উঠবে। উপস্থিতদের মধ্যে একজন বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন এককালে গাঁয়ে অবস্থান করেছিলেন।”[27] ৪২. জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إذا ميز أهل الجنة وأهل النار , فدخل أهل الجنة الجنة , وأهل النار النار, قامت الرسل فشفعوا , فيقول: انطلقوا أو اذهبوا فمن عرفتم فأخرجوه فيخرجونهم قد امتحشوا فيلقونهم في نهر أو على نهر , يقال له: الحياة , قال: فتسقط محاشهم على حافة النهر , ويخرجون بيضا مثل الثعارير , ثم يشفعون فيقول: اذهبوا , أو انطلقوا فمن وجدتم في قلبه مثقال قيراط من إيمان فأخرجوهم , قال فيخرجون بشرا ثم يشفعون فيقول اذهبوا أو انطلقوا فمن وجدتم في قلبه مثقال حبة من خردلة من إيمان فأخرجوه , ثم يقول الله عز و جل: أنا الآن أخرج بعلمي ورحمتي , قال: فيخرج أضعاف ما أخرجوا وأضعافه , فيكتب في رقابهم عتقاء الله عز و جل ثم يدخلون الجنة فيسمون فيها الجهنميين » . (أخرجه أحمد) .
“যখন জান্নাতবাসীগণ ও জাহান্নামবাসীগণ পৃথক হয়ে যাবে, তখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নামবাসীগণ জাহান্নামে প্রবেশ করবে; আর রাসূলগণ দাঁড়িয়ে যাবে এবং সুপারিশ করবে; অতঃপর তিনি বলবেন: তোমরা যাও, অতঃপর তোমরা যাকে চিনতে পার, তাকে বের করে নিয়ে আস; অতঃপর তাঁরা তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে এমতাবস্থায় যে, তারা পুড়ে গেছে; অতঃপর তাঁরা তাদেরকে ঝর্ণা বা নদীতে নিক্ষেপ করবে, যাকে ‘আবে হায়াত’ বলা হয়; তিনি বলেন: নদীর কিনারে তাদের (দেহের) ভস্মীভূত বস্তু পতিত হবে এবং তারা রসুনের মত সাদা হয়ে বের হয়ে আসবে; অতঃপর তাঁরা আবার সুপারিশ করবে, তারপর তিনি বলবেন: তোমরা যাও, তারপর তোমরা যার অন্তরের মধ্যে এক কিরাত[28] পরিমাণ ঈমান পাও, তাদেরকে বের করে নিয়ে আস; তিনি বলেন: অতঃপর তাঁরা কিছু লোককে বের করে আনবে; অতঃপর তাঁরা আবার সুপারিশ করবে, তারপর তিনি বলবেন: তোমরা যাও, তারপর তোমরা যার অন্তরের মধ্যে একটি সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান পাও, তাদেরকে বের করে নিয়ে আস। তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: এখন আমি আমার ইলম (জ্ঞান) ও রহমতের দ্বারা বের করে আনব, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: অতঃপর তিনি তাঁরা যা বের করে আনবে, তার কয়েকগুণ পরিমাণ বের করে নিয়ে আসবেন; অতঃপর তাদের ঘাড়ে লিখে দেয়া হবে ‘আল্লাহ তা‘আলার আযাদকৃত’; অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে; তারপর তাতে তাদেরকে ‘জাহান্নামী’ বলে আখ্যায়িত করা হবে।”[29] * ‘ইমরান ইবন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«يَخْرُج قَوْم مِنْ النَّار بِشَفَاعَةِ مُحَمَّد . فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّة , وَيُسَمَّوْنَ الْجَهَنَّمِيِّينَ». (أخرجه البخاري) .
“একদল লোককে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা‘আতে (সুপারিশে) জাহান্নাম থেকে বের করা হবে, অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তাদেরকে জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করা হবে।”[30] ৪৩. হোযায়ফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« يخرج الله قوما منتنين قد محشتهم النار بشفاعة الشافعين فيدخلهم الجنة فيسمون الجهنميون قال حجاج: الجهنميين » . (أخرجه أحمد) .
“আল্লাহ তা‘আলা আগুনে পোড়ানো দুর্গন্ধপূর্ণ একদল মানুষকে সুপারিশকারীগণের সুপারিশের কারণে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন, তারপর তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; ফলে তাদেরকে ‘জাহান্নামী’ বলে আখ্যায়িত করা হবে; বর্ণনাকারী হাজ্জাজ " الجهنميون "এর পরিবর্তে " الجهنميين " বলেছেন”। [31] ৪৪. হোযায়ফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
« يقول إبراهيم يوم القيامة : يا رباه فيقول الرب جل وعلا : يا لبيكاه فيقول إبراهيم : يا رب حرقت بني فيقول: أخرجوا من النار من كان في قلبه ذرة أو شعيرة من إيمان ». (أخرجه ابن حبان) .
“ইবরাহীম আ. কিয়ামতের দিনে বলবেন: হে প্রতিপালক! অতঃপর মহান প্রতিপালক বলবেন: হে আমি হাযির; তারপর ইবরাহীম আ. বলবেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার সন্তানদেরকে আগুনে পোড়াচ্ছেন; তারপর তিনি বলবেন: যার অন্তরে অণু অথবা যবের দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আস।”[32]  
অধ্যায়
মুমিনগণ কর্তৃক শাফা‘আত প্রসঙ্গে
৪৫. আবূ সা‘ঈদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إن من أمتي من يشفع للفئام , ومنهم من يشفع للقبيلة , ومنهم من يشفع للعصبة , ومنهم من يشفع للرجل حتى يدخلوا الجنة » . (أخرجه الترمذي و أحمد) .
“আমার উম্মতের মধ্য থেকে কেউ কেউ একদল লোকের জন্য সুপারিশ করবে; আবার তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এক গোত্রের জন্য সুপারিশ করবে; আর তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ সগোত্রীয় লোকদের জন্য সুপারিশ করবে; আবার তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে, শেষ পর্যন্ত তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[33] ৪৬. আবদুল্লাহ ইবন কায়েস র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হারেস ইবন আকইয়াশ র. –কে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আবূ বারযা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
« ان من أمتي لمن يشفع لأكثر من ربيعة ومضر , وان من أمتي لمن يعظم للنار حتى يكون ركنا من أركانها ». (أخرجه أحمد) .
“নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে, যে ব্যক্তি ‘রবী‘য়া’ ও ‘মুদার’ গোত্রের চেয়ে বেশি সংখ্যক লোকের জন্য সুপারিশ করবে; আর আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছে, যে জাহান্নামে এত বড় হবে যে, শেষ পর্যন্ত সে তার একটি বিশাল অংশ দখল করে থাকবে।”[34] ৪৭. আবদুল্লাহ ইবন কায়েস র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হারেস ইবন আকইয়াশ র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবূ বারযা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র নিকট কোন এক রাতে উপস্থিত ছিলাম, সেই রাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«ما من مسلمين يموت لهما أربعة أفراط الا ادخلهما الله الجنة بفضل رحمته » . قالوا يا رسول الله: وثلاثة ؟ قال: « وثلاثة » قالوا: واثنان ؟ « وان من أمتي لمن يدخل الجنة بشفاعته مثل مضر » قال: واثنان, قال: « وان من أمتي لمن يعظم للنار حتى يكون أحد زواياها » . (أخرجه أحمد) .
“যে দুই মুসলিমেরই[35] চারটি সন্তান মারা যাবে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দয়ার বরকতে তাদের উভয়কে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ রাসূল! তিনজন মারা গেলে? তিনি বললেন: “তিনজন মারা গেলেও (তিনি তাদের উভয়কে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন)”; সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ রাসূল! দুইজন মারা গেলে? “আর আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যার সুপারিশের দ্বারা ‘মুদার’ গোত্রের সমপরিমাণ লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে।” তিনি বললেন: “দুইজন মারা গেলেও (তিনি তাদের উভয়কে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন)”; তিনি বলেন: “আর আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছে, যে জাহান্নামের এত বড় ও প্রকাণ্ড হবে, শেষ পর্যন্ত সে সেটার একটি কোণ পূর্ণ করে রাখবে।”[36] ৪৮. আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
«ليدخلن الجنة بشفاعة رجل ليس بنبي مثل الحيين أو مثل أحد الحيين ربيعة ومضر , فقال رجل: يا رسول الله أو ما ربيعة من مضر ؟ فقال: «إنما أقول ما أقول » . (أخرجه أحمد) .
“নবী নয় এমন এক ব্যক্তির সুপারিশে ‘রবী‘য়া’ ও ‘মুদার’ গোত্রের সমপরিমাণ অথবা কোনো এক গোত্রের সামান সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে; অতঃপর জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! ‘রবী‘য়া’ গোত্র কি ‘মুদার’ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়[37]? জবাবে তিনি বললেন: “আমি যা বলার তা বলেছি।”[38] ৪৯. আবদুল্লাহ ইবন শাকিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ‘ইলিয়া’ নামক স্থানে একদল লোকের নিকট বসলাম, আর আমি হলাম তাদের চতুর্থ ব্যক্তি, সুতরাং তাদের মধ্যকার একজন বলল, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
« ليدخلن الجنة بشفاعة رجل من أمتي أكثر من بني تميم , قلنا: سواك يا رسول الله ؟ قال: سواي» . (أخرجه أحمد) .
“আমার উম্মতের এক ব্যক্তির সুপারিশে বনী তামীম গোত্রের চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে; আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ছাড়াই? তিনি বললেন: আমি ছাড়াই।”[39] ৫০. যিয়াদ ইবন ‘আলাকা র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জারির ইবন আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে মুগীরা ইবন শো‘বা’র মৃত্যুর দিন (মিম্বরে) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে শুনেছি, ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন:
« عليكم باتقاء الله عز و جل والوقار والسكينة حتى يأتيكم أمير, فإنما يأتيكم الآن, ثم قال: اشفعوا لأميركم فإنه كان يحب العفو, وقال: أما بعد فإني أتيت رسول الله صلى الله عليه و سلم فقلت: أبايعك على الإسلام فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم واشترط على النصح لكل مسلم , فبايعته على هذا, ورب هذا المسجد انى لكم لناصح جميعا, ثم استغفر ونزل». (أخرجه أحمد) .
“তোমরা আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে সদা সচেতন থাক এবং নতুন কোনো আমীর না আসা পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখ; এখনই তোমাদের আমীর আসবেন। এরপর তিনি (জারীর রা.) বললেন: তোমাদের আমীরের জন্য সুপারিশ কর (ক্ষমা প্রার্থনা কর); কারণ, তিনি ক্ষমা করাকে ভালবাসতেন। তারপর বললেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললাম: আমি আপনার কাছে ইসলামের বায়‘আত গ্রহণ করতে চাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ... এবং তিনি (অন্যান্য বিষয়ের সাথে) আমার উপর শর্ত আরোপ করলেন: আর সকল মুসলিমের কল্যাণ কামনা করবে; অতঃপর আমি তাঁর কাছে এই শর্তের উপর বায়‘আত গ্রহণ করলাম। এই মাসজিদের রবের কসম! আমি তোমাদের সকলের কল্যাণকামী; অতঃপর তিনি (আল্লাহর কাছে) মাগফিরাত কামনা করলেন এবং (মিম্বর থেকে) নেমে গেলেন।”[40] হাদিসের বর্ণনাকারীগণ বিশুদ্ধ হাদিসের বর্ণনাকারী; তার মূলবিষয়টি সহীহাইন তথা বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে; তবে বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে রয়েছে তিনি বলেন: استعفوا لأميركم অর্থাৎ- “তোমরা আমীরের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর”; আর এটা তাঁর কথা: « فإنه كان يحب العفو » [কারণ, তিনি ক্ষমা করাকে ভালবাসতেন] এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ; কেননা, জাযা বা জওয়াবটি আমলের শ্রেণীভুক্ত। হাফেয ইবনু হাজার (আল-ফাতহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১২৯) বলেন: তাঁর কথা: « استعفوا لأميركم » [তোমরা আমীরের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর]; আর অধিকাংশ বর্ণনার মধ্যে অনুরূপ রয়েছে; আর ইবনু ‘আসাকীরের বর্ণনার মধ্যে রয়েছে: « استغفروا» [তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর]; আর এটাই ‘আল-মুসতাখরাজ’ –এর মধ্যে ইসমা‘ঈলীর বর্ণনা। ৫১. আবূ সা‘ঈদ আল-আনমারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« إن ربي وعدني أن يدخل الجنة من أمتي سبعين ألفا بغير حساب , ويشفع كل ألف لسبعين ألفا , ثم يحثي ربي ثلاث حثيات بكفيه » . كذا قال قيس: فقلت لأبي سعيد: أنت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم ؟ قال: نعم , بأذني ووعاه قلبي , قال أبو سعيد: قال يعني رسول الله صلى الله عليه وسلم: « وذلك إن شاء الله يستوعب مهاجري أمتي ويوفي الله عز وجل بقيته من أعرابنا » .
“নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর প্রতি হাজার উম্মত সুপারিশ করবে আরও সত্তর হাজার উম্মতের জন্য; অতঃপর আমার প্রতিপালক তাঁর দুই হাতের তালু দ্বারা তিন অঞ্জলি জান্নাতে প্রবেশ করবেন।” কায়েস অনুরূপ বলেছেন; অতঃপর আমি আবূ সা‘ঈদকে বললাম: আপনি কি এই হাদিসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? জবাবে সে বলল: হ্যাঁ, আমি আমার নিজ কানে শুনেছি এবং আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করেছে; আবূ সা‘ঈদ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আর এটা আল্লাহ চায় তো তিনি আমার উম্মতের (সকল) মুহাজিরকে শামিল করবেন এবং আল্লাহ তার বাকিটা পূর্ণ করবেন আমাদের বেদুঈনদের মধ্য থেকে।”[41] [আবূ সা‘ঈদ বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তার হিসাব হল এবং তা চল্লিশ কোটি নব্বই হাজারে পৌঁছালো]। ৫২. ইবনু মুহাইরিয থেকে বর্ণিত, তিনি সুনাবিহী র. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ‘উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (সুনাবিহী র.) বলেন:
« دَخَلْتُ عَلَيْهِ وَهُوَ فِى الْمَوْتِ فَبَكَيْتُ فَقَالَ: مَهْلاً لِمَ تَبْكِى ؟ فَوَاللَّهِ لَئِنِ اسْتُشْهِدْتُ لأَشْهَدَنَّ لَكَ , وَلَئِنْ شُفِّعْتُ لأَشْفَعَنَّ لَكَ , وَلَئِنِ اسْتَطَعْتُ لأَنْفَعَنَّكَ , ثُمَّ قَالَ: وَاللَّهِ مَا مِنْ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَكُمْ فِيهِ خَيْرٌ إِلاَّ حَدَّثْتُكُمُوهُ إِلاَّ حَدِيثًا وَاحِدًا , وَسَوْفَ أُحَدِّثُكُمُوهُ الْيَوْمَ وَقَدْ أُحِيطَ بِنَفْسِى , سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: « مَنْ شَهِدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ النَّارَ ». (أخرجه مسلم و الترمذي) .
“আমি উবাদার কাছে গেলাম, তখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, আমি কেঁদে ফেললাম। তিনি আমাকে বললেন, চুপ থাক, কাঁদছ কেন? আল্লাহর শপথ! যদি আমাকে সাক্ষী বানানো হয়, তাহলে আমি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেব; যদি আমাকে সুপারিশকারী বানানো হয়, তাহলে অবশ্যই আমি তোমার জন্য সুপারিশ করব এবং যদি আমার সাধ্য থাকে, তবে আমি তোমার উপকার করব। তারপর উবাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আল্লাহ শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রুত একটি ছাড়া সব হাদিসই তোমাদেরকে শুনিয়েছি, যাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। তোমাদের কাছে সে হাদিসটি আজ বর্ণনা করছি, কেননা আজ আমি মৃত্যুর দুয়ারে উপস্থিত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‘যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সেই ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন।”[42]
ইমাম ইবরাহীম আল-হারবী’র
বিস্ময়কর কাহিনী
মুহাম্মদ ইবন খালফ ওকী বলেন: ইবরাহীম আল-হারবী’র এক ছেলে ছিল, আর তার বয়স ছিল এগার বছর, সে আল-কুরআন হিফয (মুখস্থ) করেছে এবং তিনি তাকে ইলমুল ফিকহের অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি (মুহাম্মদ ইবন খালফ ) বলেন: সে (ছেলেটি) মারা গেল, তারপর আমি তাকে শান্তনা দেয়ার জন্য আসলাম, তিনি বলেন: তারপর তিনি (ইবরাহীম আল-হারবী) আমাকে বললেন: “আমি আমার এই ছেলের মৃত্যু কামনা করেছিলাম, তিনি বললেন: আমি বললাম: হে আবূ ইসহাক (ইসহাকের পিতা) ! আপনি দুনিয়া শ্রেষ্ঠ আলেম, আপনি একটি সম্ভ্রান্ত উচ্চ বংশীয় শিশুর ব্যাপারে এই কথা বলছেন, অথচ আপনি তাকে হাদিস ও ফিকহ শিক্ষা দিয়েছেন!! তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, মনে হচ্ছে যেন কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে এবং কতগুলো শিশু, যাদের হাতে মূল্যবান পাত্র, তাতে রয়েছে পানি, যা তারা মানুষকে পান করাচ্ছে, আর দিনটি মনে হচ্ছিল প্রচণ্ড গরমের দিন; অতঃপর আমি তাদের একজনকে বললাম, এই পানি থেকে আমাকে পান করাও; তিনি বলেন: তখন সে আমার দিকে তাকাল এবং বলল: আপনি আমার পিতা নন; তখন আমি বললাম: তোমরা কারা? তখন সে বলল: আমরা ঐসব শিশু, যারা দুনিয়ার বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেছি এবং আমাদের পিতাদেরকে পিছনে রেখে এসেছি, আমরা তাদেরকে সাদর সম্ভাষণ জানাবো, তারপর তাদেরকে পানি পান করাব। তিনি বলেন: এ জন্যই আমি তার মৃত্যু কামনা করেছি।” - (ত্ববাকাতে হানাবেলা, ১ / ৮৯, ৯০)[43]৫৩. সাবেত আল-বুনানী থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إن الرجل يشفع للرجلين وللثلاثة , والرجل للرجل» . (أخرجه ابن خزيمة).
“নিশ্চয়ই এক ব্যক্তি দুই ব্যক্তি ও তিন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে; আর সুপারিশ করতে পারবে এক ব্যক্তি কমপক্ষে এক ব্যক্তির জন্য।”[44] ৫৪. নিমরান ইবন ‘উতবা আয-যিমারী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:
« دَخَلْنَا عَلَى أُمِّ الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ أَيْتَامٌ فَقَالَتْ : أَبْشِرُوا فَإِنِّى سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : « يُشَفَّعُ الشَّهِيدُ فِى سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ » . (أخرجه أبو داود) .
“আমরা ইয়াতীম অবস্থায় উম্মু দারদার নিকট হাযির হলাম, তখন তিনি বললেন: তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর; কারণ, আমি আবূ দারদাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শহীদ ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের মধ্য থেকে সত্তর জনের ব্যাপারে সুপারিশ করবে।”[45] ৫৫. মিকদাম ইবন মা‘দিইয়াকরাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« للشهيد عند الله ست خصال: يغفر له في أول دفعة , ويرى مقعده من الجنة , ويجار من عذاب القبر , ويأمن من الفزع الأكبر , ويوضع على رأسه تاج الوقار , الياقوتة منها خير من الدنيا وما فيها , ويزوج اثنتين وسبعين زوجة من الحور العين , ويشفع في سبعين من أقاربه » . (أخرجه الترمذي و ابن ماجه و أحمد) .
“আল্লাহর নিকট ছয়টি শহীদের বৈশিষ্ট্য রয়েছে: প্রথমেই থাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে; সে (দুনিয়াতেই) তার জান্নাতের আসনটি দেখতে পাবে; তাকে কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেয়া হবে; মহাভীতি[46] থেকে নিরাপদে থাকবে; তার মাথায় মর্যাদার মুকুট পরানো হবে, যার একটি ইয়াকুত পাথর দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম; তাকে ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হূরদের মধ্য থেকে বাহাত্তর জন স্ত্রী প্রদান করা হবে এবং সে তার নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে সত্তর জনের ব্যাপারে সুপারিশ করবে।”[47] ৫৬. আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
« كنت جالسا مع النبي صلى الله عليه وسلم , فذكر الحديث في فضل الحج و فيه: « إن الله يقول لهم عند وقوفهم بعرفة: أفيضوا عبادي مغفورا لكم, ولمن شفعتم » .
“আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসা ছিলাম; তারপর তিনি হাজ্জের ফযিলত প্রসঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাতে ছিল: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আরাফাতের ময়দানে তাদের অবস্থানের সময় তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলবেন: আমার বান্দাদেরকে ক্ষমাকৃত অবস্থায় আরাফাত থেকে নিয়ে যাও, আর তাদের জন্যও যাদের জন্য তোমরা সুপারিশ করবে।”[48]
সন্তান কর্তৃক তাদের পিতা-মাতার’র জন্য সুপারিশ
৫৭. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« ان الله عز و جل ليرفع الدرجة للعبد الصالح في الجنة فيقول : يا رب أنى لي هذه ؟ فيقول: باستغفار ولدك لك » . (أخرجه أحمد) .
“আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে নেক বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি বা সুউচ্চ করে দেবেন; ফলে সে বলবে: হে আমার রব! আমার জন্য এটা কিভাবে হল? তখন তিনি বলবেন: তোমার সন্তান কর্তৃক তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে।”[49] ৫৮. আবূ হাসসান র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
« قُلْتُ لأَبِى هُرَيْرَةَ: إِنَّهُ قَدْ مَاتَ لِىَ ابْنَانِ , فَمَا أَنْتَ مُحَدِّثِى عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحَدِيثٍ تُطَيِّبُ بِهِ أَنْفُسَنَا عَنْ مَوْتَانَا ؟ قَالَ: قَالَ نَعَمْ , « صِغَارُهُمْ دَعَامِيصُ الْجَنَّةِ يَتَلَقَّى أَحَدُهُمْ أَبَاهُ - أَوْ قَال:َ أَبَوَيْهِ - فَيَأْخُذُ بِثَوْبِهِ أَوْ قَالَ: بِيَدِهِ كَمَا آخُذُ أَنَا بِصَنِفَةِ ثَوْبِكَ هَذَا , فَلاَ يَتَنَاهَى - أَوْ قَالَ فَلاَ يَنْتَهِى - حَتَّى يُدْخِلَهُ اللَّهُ وَأَبَاهُ الْجَنَّةَ » . (أخرجه مسلم) .
“আমি আবূ হুরায়রা রা. কে বললাম: আমার দু’টি ছেলে মারা গেছে; আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কোন হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার দ্বারা আমাদের মৃতদের ব্যাপারে আমাদের আত্মা আনন্দ বা প্রশান্তি অনুভব করবে? সে বলল: তিনি বলেন: হ্যাঁ, “তাদের ছোট সন্তানগণ জান্নাতের অধিবাসী, তাদের কেউ তার পিতার সাথে সাক্ষাৎ করবে, অথবা তিনি বলেছেন: তার পিতা-মাতার সাথে সাক্ষাৎ করবে, অতঃপর সে তার কাপড়ে ধরবে অথবা তিনি বলেছেন: তার হাতে ধরবে, যেমনিভাবে আমি তোমার এই কাপড়ের এক প্রান্তে ধরলাম; অতঃপর সে নিবৃত হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তা‘আলা তাকে ও তার পিতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”[50] ৫৯. মুহাম্মদ ইবন সীরীন র. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« ما من مسلمين يموت لهما ثلاثة أولاد لم يبلغوا الحنث الا أدخلهما الله وأباهم بفضل رحمته الجنة , وقال: يقال لهم: ادخلوا الجنة , قال: فيقولون: حتى يجيء أبوانا . قال ثلاث مرات فيقولون مثل ذلك , فيقال لهم: ادخلوا الجنة أنتم وأبواكم » . (أخرجه أحمد) .
“যে মুসলিমদ্বয়েরই তিনটি সন্তান অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় মারা গিয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এবং তাদের পিতা-মাতাকে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; তিনি বলেন: তাদেরকে বলা হবে: তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর; তিনি বলেন: তখন তারা বলবে: (আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব না) যতক্ষণ না আমাদের পিতা-মাতা আসবে। তিনি তিনবার বলেন, আর তারও অনুরূপভাবে তিনবার বলবে; অতঃপর তাদেরকে বলা হবে: তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতা জান্নাতে প্রবেশ কর।”[51] ৬০. শুরাহবীল ইবন শোফ‘আহ্‌ থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্য সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:
« يقال للولدان يوم القيامة: ادخلوا الجنة , قال: فيقولون: يا رب حتى يدخل آباؤنا وأمهاتنا , قال: فيأتون , قال: فيقول الله عز و جل: مالي أراهم محبنطئين , ادخلوا الجنة , قال: فيقولون: يا رب آباؤنا وأمهاتنا قال فيقول ادخلوا الجنة أنتم وآباؤكم » . (أخرجه أحمد و النسائي) .
“কিয়ামতের দিনে (শিশু অবস্থায় মারা যাওয়া) সন্তানদেরকে বলা হবে: তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর; তিনি বলেন: তখন তারা বলবে: হে প্রতিপালক! (আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব না) যতক্ষণ না আমাদের পিতা ও মাতাগণ প্রবেশ করবেন; তিনি বলেন: অতঃপর তারা আসবে; তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: আমার কি হল, আমি তো তাদেরকে মোটা ও খাটোদেহী ক্রোধে পরিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পাচ্ছি; তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর; তিনি বলেন: তখন তারা বলবে: হে প্রতিপালক! আমাদের পিতা ও মাতাগণ? তিনি বলেন: অতঃপর তিনি বলবেন: তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতা জান্নাতে প্রবেশ কর।”[52] ৬১. যায়েদ ইবন সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ সালামকে বলতে শুনেছেন, আমার নিকট ‘আমের ইবন যায়েদ আল-বাকালী হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ‘উতবা ইবন [আবদ[53]] আস-সুলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলতে শুনেছেন:
« جاء أعرابي إلى رسول الله عليه السلام , فقال : ما حوضك الذي تحدث عنه ؟ قال: « هو كما بين البيضاء إلى بصرى, ثم يمدني الله عز و جل بكراع فلا يدري بشر ممن خلق أين طرفاه , فكبر عمر بن الخطاب , فقال: « أما الحوض فيزدحم عليه فقراء المهاجرين الذين يقاتلون في سبيل الله ويموتون في سبيل الله » . و أرجو أن يوردني الله عز و جل الكراع فأشرب منه , فقال رسول الله: « إن ربي وعدني أن يدخل الجنة من أمتي سبعين ألفا بغير حساب , ثم يشفع كل ألف بسبعين ألف ثم يحثي ربي تبارك وتعالى بكفيه ثلاث حثيات » . فكبر عمر, وقال: « إن السبعين الأولى ليشفعهم الله في آبائهم وأبنائهم وعشائرهم » وأرجو أن يجعلني الله في إحدى الحثيات الأواخ » . فقال الأعرابي: يا رسول الله أفيها فاكهة ؟ قال: « نعم , وفيها شجرة تدعى طوبى هي تطابق الفردوس» . فقال: أي شجر أرضنا تشبه ؟ قال: « ليس تشبه من شجر أرضك ولكن أتيت الشام ؟» . فقال: لا يا رسول الله! قال: « فإنها تشبه شجرة في الشام تدعى الجوزة , تنبت على ساق واحد , ثم ينتشر أعلاها » . قال: فما عظم أصلها ؟ قال: « لو ارتحلت جذعة من إبل أهلك لما قطعتها حتى تنكسر ترقواها هرما » . قال: فيها عنب ؟ قال: « نعم , قال ما عظم العنقود منها ؟ قال: « مسيرة شهر للغراب الأبقع لا ينثني ولا يفتر» . قال: « فما عظم الحبة منه ؟ قال: هل ذبح أبوك من غنمه تيسا عظيما ؟» . قال: نعم , قال: « فسلخ إهابها فأعطاه أمك فقال ادبغي هذا ثم افري لنا منه دلوا نروي منها شئيا ؟» . قال: نعم , قال: « فإن تلك الحبة تشبعني وأهل بيتي؟» . فقال النبي: نعم , وعامة عشيرتك » . (أخرجه الطبراني) .
“জনৈক আরব বেদুইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করল, তারপর সে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনার হাউযটি কোন ধরনের, যার ব্যাপারে আপনি আলোচনা করেন? জবাবে তিনি বলেন: “তা হল বায়দা থেকে বসরা পর্যন্ত দূরত্বের মত বিস্তৃত; অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আমার জন্য তার প্রান্তদেশকে সম্প্রসারিত করবেন, ফলে তাঁর সৃষ্ট কোন মানুষ জানতে পারবে না তার দুই প্রান্তের সীমানা কোথায়; তিনি (উতবা) বলেন: অতঃপর ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবীর দিলেন; অতঃপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: “হাউযের কিনারে ঐসব মুহাজির ফকীরগণ ভিড় করবে, যারা আল্লাহ তা‘আলার পথে লড়াই করে এবং আল্লাহ তা‘আলার পথে মৃত্যুবরণ করে।” আর (উতবা বা আরব বেদুইন বলেন) আমি আশা করি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে তার কোন এক প্রান্তে অবতরণ করাবেন, অতঃপর আমি তার থেকে পান করব; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বিনা হিসাবে আমার সত্তর হাজার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে; অতঃপর প্রত্যেক হাজার আরও সত্তর হাজারের ব্যাপারে সুপারিশ করবে; অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাতের তালুর মাধ্যমে (আমার উম্মতের মধ্য থেকে) তিন অঞ্জলি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” অতঃপর ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবীর দিলেন; তারপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: প্রথম সত্তর হাজারকে আল্লাহ তা‘আলা তাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততী ও আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দিবেন।” আর (উতবা বা আরব বেদুইন বলেন) আমি আশা করি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে শেষ তিন অঞ্জলির কোন একটার মধ্যে শামিল করবেন। আর আরব বেদুঈন বলল: হে আল্লাহর রাসূল! তাতে কি ফলমূল আছে? জবাবে তিনি বললেন: না, তাতে ‘তুবা’ নামক একটি বৃক্ষ আছে, তা ফিরদাউস নামক জান্নাতের উপযোগী। সে বলল: আমাদের দেশের কোন বৃক্ষের সাথে তার সাদৃশ্যতা রয়েছে? জবাবে তিনি বললেন: তোমাদের দেশের কোন গাছের সাথেই তার মিল নেই, তবে তুমি কি শাম দেশে গিয়েছ? জবাবে সে বলল: না, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই তা শাম দেশের ‘জূযা’ নামক বৃক্ষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তা এক কাণ্ডের উপর অঙ্কুরিত উদ্ভিদ এবং তার উপরিভাগ ছড়িয়ে যায়।” সে বলল: তার মূলের বড়ত্ব কী পরিমাণ? তিনি বললেন: “যদি পরিপূর্ণ চার বছরের তোমার পরিবারের একটি উট অনবরত সে বেষ্টনীতে ভ্রমণ করে, তবে সেটার কণ্ঠনালী বৃদ্ধ হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু তার শেষ পর্যন্ত যেতে পারবে না।” সে বলল: তাতে কি আঙ্গুর ফল থাকবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে বলল: তার মধ্যকার আঙ্গুরের কাঁদি বা গুচ্ছের বড়ত্ব কেমন? তিনি বললেন: “বিরামহীন গতিতে চলমান একটি কাকের এক মাসের রাস্তার সমপরিমাণ।” সে বলল: তার দানার বড়ত্ব কেমন? তিনি বললেন: তোমার পিতা কি কখনও বড় ধরনের পাহাড়ী বকরা (পুরুষ ছাগল) জবাই করেছে? সে বলল: হ্যাঁ, তিনি বললেন: “অতঃপর সে কি তার চামড়া খসিয়েছে, তারপর তা তোমার মাকে দিয়ে বলেছে যে, তুমি এটা আমাদের জন্য প্রক্রিয়াজাত কর, তারপর তার থেকে আমাদের জন্য একটি বালতি প্রস্তুত কর, যাতে আমরা তা থেকে তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারি? সে বলল: হ্যাঁ[54]। সে বলল: “নিশ্চয়ই এই দানা আমাকে ও আমার পরিবার-পরিজনকে পরিতৃপ্ত করবে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হ্যাঁ, তোমার গোটা বংশধরকে পরিতৃপ্ত করবে।”[55] ৬২. শো‘বা থেকে বর্ণিত, তিনি মু‘য়াবিয়া ইবন কুররা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
« أن رجلا كان يأتي النبي صلى الله عليه و سلم ومعه ابن له , فقال له النبي صلى الله عليه و سلم: « أتحبه ؟ فقال: يا رسول الله أحبك الله كما أحبه , ففقده النبي صلى الله عليه و سلم , فقال لي: ما فعل ا بن فلان ؟ قالوا: يا رسول الله مات , فقال النبي صلى الله عليه و سلم لأبيه: « أما تحب أن لا تأتي بابا من أبواب الجنة إلا وجدته ينتظرك » . فقال الرجل: يا رسول الله أله خاصة , أم لكلنا ؟ قال: « بل لكلكم » . (أخرجه أحمد) .
“জনৈক ব্যক্তি তার ছেলেসহ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: “তুমি কি তাকে ভালবাস? অতঃপর সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে ভালবাসেন, যেমনিভাবে আমি তাকে ভালবাসি; অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হারিয়ে ফেললেন, তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করে বললেন: অমুকের ছেলে কী করে? তখন তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! সে মারা গেছে; অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: “তুমি কি পছন্দ করবে না যে, তুমি জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্য থেকে যে কোনো দরজার সামনে উপস্থিত হবে, আর তুমি তাকে দেখতে পাবে সে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।” অতঃপর সে ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি তার জন্য নির্দিষ্ট, নাকি আমাদের প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য হবে? তখন তিনি বললেন: “বরং তোমাদের সকলের জন্য।”[56]  
শাফা‘য়াতের কারণ ও উপলক্ষসমূহ
আল-কুরআনের শাফা‘আত: ৬৩. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«إن سورة من القرآن ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفر له وهي سورة تبارك الذي بيده الملك » . (أخرجه الترمذي و أبو داود و ابن ماجه) .
“আল-কুরআনের একটি সূরার ত্রিশটি আয়াত কোন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর তা হল সূরা আল-মুলক; ﴿ تَبَٰرَكَ ٱلَّذِي بِيَدِهِ ٱلۡمُلۡكُ﴾ [বরকতময় তিনিই, যাঁর হতে রাজত্ব ও কর্তৃত্ব]।”[57] ৬৪. ‘আসেম ইবন আবি নাজুদ থেকে বর্ণিত, তিনি শা‘বী র. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন:
« يجيء القرآن يوم القيامة فيشفع لصاحبه فيكون له قائدا إلى الجنة ويشهد عليه ويكون سائقا به إلى النار » . (أخرجه الدارمي) .
“কিয়ামতের দিনে আল-কুরআন আগমন করবে, অতঃপর সে তার সাথীর জন্য সুপারিশ করবে; অতঃপর সে তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে; আর সে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে এবং তাকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।”[58] ৬৫. ‘জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« القرآن شافع مشفع , وماحل مصدق , من جعله أمامه قاده إلى الجنة , ومن جعله خلف ظهره ساقه إلى النار » . (أخرجه ابن حبان) .
“আল-কুরআন হচ্ছে সুপারিশকারী, যার সুপারিশ গৃহীত হবে এবং এমন পক্ষ বা বিপক্ষ অবলম্বনকারী, যার পক্ষ ও বিপক্ষ সাক্ষীকে সত্যায়ণ করা হয়।”[59] ৬৬. মু‘য়াবিয়া ইবন সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবূ সালাম বলেন: আমাকে আবূ উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হাদিস বর্ণনা করে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
« اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُحَاجَّانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلاَ تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ». (أخرجه مسلم) .
“তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করবে। কেননা, কিয়ামতের দিন তা তিলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশকারীরূপে উপস্থিত হবে। তোমরা সুপারিশকারী দুই সমুজ্জ্বল সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান তিলাওয়াত করবে; কারণ, এ দু’টি কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, মনে হবে যেন দু’টি মেঘখণ্ড বা বাদল, কিংবা দু’টি ডানা বিস্তারকারী পাখির ঝাঁক, যারা তাদের তিলাওয়াতকারীদের পক্ষে প্রতিরোধকারী-সাহায্যকারী হবে। তোমরা সূরা বাকারা তিলাওয়াত করবে। কারণ, তা তিলাওয়াত করাতে বরকত রয়েছে; আর তা বর্জন করা আফসোসের এবং বাতিলপন্থীরা[60] তার সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবে না।”[61] ৬৭. আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
« يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَشْفَعُ لِصَاحِبِهِ يَقُولُ: يَا رَبِّ لِكُلِّ عَامِلٍ عُمَالَةٌ مِنْ عَمَلِهِ , وَإِنِّي كُنْتُ أَمْنَعُهُ اللَّذَّةَ وَالنَّوْمَ فَأَكْرِمْهُ , فَيُقَالُ: ابْسُطْ يَمِينَكَ , فَتُمْلَأُ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ , ثُمَّ يُقَالُ: ابْسُطْ شِمَالَكَ, فَتُمْلَأُ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ , وَيُكْسَى كِسْوَةَ الْكَرَامَةِ , وَيُحَلَّى بِحِلْيَةِ الْكَرَامَةِ , وَيُلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ » . (أخرجه الدارمي) .
“আল-কুরআন আগমন করবে, সে তার সাথীর জন্য সুপারিশ করবে, সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! প্রত্যেক আমলকারীর জন্য তার আমলের মজুরীর ব্যবস্থা রয়েছে; আর আমি তাকে আমোদ-প্রমোদ ও নিদ্রা থেকে বাধা প্রদান করতাম, সুতরাং আপনি তাকে সম্মানিত করুন; অতঃপর তাকে বলা হবে: তুমি তোমার ডান হাত প্রসারিত কর, অতঃপর তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়া হবে। অতঃপর বলা হবে: তুমি তোমার বাম হাত প্রসারিত কর, অতঃপর তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়া হবে; আর তাকে সম্মানের পোষাক পরিধান করানো হবে এবং তাকে সম্মানের অলঙ্কার পরিধান করানো হবে; আর তাকে পরিধান করানো হবে সম্মানের মুকুট।”[62] ৬৮. আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة , يقول الصيام: أي رب منعته الطعام والشهوات بالنهار فشفعني فيه , ويقول القرآن: منعته النوم بالليل فشفعني فيه , قال: فيشفعان » . (أخرجه أحمد) .
“কিয়ামতের দিনে বান্দার জন্য সাওম (রোযা) ও আল-কুরআন সুপারিশ করবে; সাওম বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমি দিনের বেলায় তাকে খাবার গ্রহণ ও যৌন ক্ষুধা পূরণ থেকে বিরত রেখেছি; সুতরাং আপনি আমাকে তার ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দিন; আর আল-কুরআন বলবে: আমি রাতের বেলায় তাকে ঘুমাতে বাধা দিয়েছি, সুতরাং আপনি আমাকে তার ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দিন; তিনি বলেন: অতঃপর তারা উভয়ে সুপারিশ করবে।”[63] ৬৯. আবূ সালেহ র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলতে শুনেছি:
« اقرؤوا القرآن فإنه نعم الشفيع يوم القيامة , انه يقول يوم القيامة: يا رب حله حلية الكرامة , فيحلى حلية الكرامة , يا رب اكسه كسوة الكرامة , فيكسى كسوة الكرامة , يا رب البسه تاج الكرامة , يا رب أرض عنه, فليس بعد رضاك شيء » . (أخرجه الدارمي و الترمذي) .
“তোমরা আল-কুরআন পাঠ কর; কারণ, কিয়ামতের দিনে তা উত্তম সুপারিশকারী; কিয়ামতের দিনে সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাকে সম্মানের অলঙ্কার পরিয়ে দিন, অতঃপর তিনি তাকে সম্মানের অলঙ্কার পরিয়ে দিবেন; হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাকে সম্মানের পোষাক পরিয়ে দিন, অতঃপর তিনি তাকে সম্মানের পোষাক পরিয়ে দিবেন; হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাকে সম্মানের মুকুট পরিয়ে দিন, হে আমার প্রতিপালক! আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, কেননা, আপনার সন্তুষ্টির পরে আর কিছুই নেই।”[64]
* * *
শাফাআত লাভের অন্যতম একটি উপায় হল মদীনায় বসবাস করা এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করা
৭০. মাহরীর আযাদকৃত গোলাম আবূ সা‘ঈদ র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
« أَنَّهُ جَاءَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِىَّ لَيَالِىَ الْحَرَّةِ فَاسْتَشَارَهُ فِى الْجَلاَءِ مِنَ الْمَدِينَةِ وَشَكَا إِلَيْهِ أَسْعَارَهَا , وَكَثْرَةَ عِيَالِهِ , وَأَخْبَرَهُ أَنْ لاَ صَبْرَ لَهُ عَلَى جَهْدِ الْمَدِينَةِ وَلأْوَائِهَا . فَقَالَ لَهُ: وَيْحَكَ لاَ آمُرُكَ بِذَلِكَ إِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: « لاَ يَصْبِرُ أَحَدٌ عَلَى لأْوَائِهَا فَيَمُوتَ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا كَانَ مُسْلِمًا » . (أخرجه مسلم) .
“তিনি হাররা[65] ঘটনার সময় কোনো এক রাত্রে আবূ সা‘ঈদ খুদরী রা. এর নিকট আগমন করেন; তারপর তিনি মদীনা ত্যাগের ব্যাপারে তাঁর নিকট পরামর্শ চাইলেন এবং তাঁর নিকট মদীনার দ্রব্যমূল্য ও তার পরিবারের লোকসংখ্যার আধিক্যের ব্যাপারে অনুযোগ করলেন; আর তাকে জানিয়ে দিলেন যে, মদীনার কষ্ট ও তার দুর্বিষহ জীবনযাপনে তার কোনো প্রকার ধৈর্য নেই। তখন সাহাবী তাকে বললেন: তোমার জন্য আফসোস! আমি তোমাকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেই না, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে কোন ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, তারপর মারা যাবে, আমি কিয়ামতের দিনে তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব, যখন সে মুসলিম হবে।”[66] ৭১. আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
« مَنْ صَبَرَ عَلَى لأْوَائِهَا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ » . (أخرجه مسلم) .
“যে ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, আমি কিয়ামতের দিনে তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব।”[67] ৭২. যোবায়েরের আযাদকৃত গোলাম ইউহান্নেস থেকে বর্ণিত, তার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা’র নিকটে বিপর্যস্ত[68] পরিস্থিতে বসা ছিলেন; অতঃপর তাঁর নিকট তাঁর আযাদ করা এক দাসী এসে তাঁকে সালাম পেশ করল, তারপর বলল:
« إِنِّى أَرَدْتُ الْخُرُوجَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ اشْتَدَّ عَلَيْنَا الزَّمَانُ . فَقَالَ لَهَا عَبْدُ اللَّهِ: اقْعُدِى لَكَاعِ فَإِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: « لاَ يَصْبِرُ عَلَى لأْوَائِهَا وَشِدَّتِهَا أَحَدٌ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَهِيدًا أَوْ شَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ». (أخرجه مسلم) .
“হে আবূ আবদির রহমান! আমি (মদীনা থেকে) বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি, আমাদের উপর যুগ-যামানা কঠোর হয়ে গেছে। অতঃপর আবদুল্লাহ তাকে বললেন: বোকা মেয়ে, তুমি বস; কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে কোনো ব্যক্তি মদীনার দুর্বিষহ ও কঠিন জীবনযাপনে ধৈর্য ধারণ করবে, আমি কিয়ামতের দিনে তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব।”[69] ৭৩. সুফিয়া বিনতে আবি ‘উবাইদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
« من استطاع منكم أن لا يموت إلا بالمدينة فليمت بها ، فإنه من يمت بها يشفع له ويشهد له ». (أخرجه ابن حبان) .
“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মদীনাতেই মৃত্যুবরণ করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন সেখানে মৃত্যুবরণ করে; কারণ, যে ব্যক্তি সেখানে মৃত্যুবরণ করবে, তার জন্য তিনি সুপারিশ করবেন এবং তার পক্ষে তিনি সাক্ষ্য দিবেন।”[70] ৭৪. আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«من استطاع أن يموت بالمدينة فليمت بها , فإني أشفع لمن يموت بها» . (أخرجه أحمد) .
“যে ব্যক্তির মদীনায় মৃত্যুবরণ করার সামর্থ্য আছে, সে যেন সেখানে মৃত্যুবরণ করে; কারণ, যে ব্যক্তি তাতে মৃত্যুবরণ করব, আমি তার জন্য সুপারিশ করব।”[71]  
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরূদ পাঠ ও তাঁর জন্য ওসীলা প্রার্থনা করা
৭৫. আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনিল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
« إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَىَّ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ صَلاَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِىَ الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِى الْجَنَّةِ لاَ تَنْبَغِى إِلاَّ لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِىَ الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ ».
“যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে আযান দিতে শুনবে, তখন তোমরা সে যা বলে তাই বলবে। তারপর আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে। কারণ, যে আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তা‘আলা তার বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন। পরে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলার দো‘আ করবে। ওসীলা হল হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোন এক বান্দাকে দেয়া হবে। আমি আশা করি যে, আমিই হব সেই বান্দা। যে আমার জন্য ওসীলার দো‘আ করবে, তার জন্য আমার শাফা‘আত হালাল হয়ে যাবে।”[72] ৭৬. আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« سلوا الله لي الوسيلة فإنه لم يسألها لي عبد في الدنيا إلا كنت له شهيدا أو شفيعا يوم القيامة » . (أخرجه الطبراني) .
“তোমরা আমার জন্য আল্লাহর নিকট ওসীলার প্রার্থনা কর; কারণ, যে বান্দাই দুনিয়াতে আমার জন্য তা প্রার্থনা করবে, কিয়ামতের দিনে আমি তার জন্য সাক্ষী অথবা সুপারিশকারী হব।”[73] ৭৭. রুয়াইফা ইবন সাবিত আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« من صلى على محمد وقال اللهم أنزله المقعد المقرب عندك يوم القيامة وجبت له شفاعتى» . (أخرجه الطبراني).
“যে ব্যক্তি মুহাম্মদের উপর দুরূদ পাঠ করবে এবং বলবে: হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে কিয়ামতের দিনে আপনার নিকটবর্তী আসনে অবতরণ করুন, তার জন্য আমার শাফা‘আত বা সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।”[74] ৭৮. আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«من صلى علي حين يصبح عشرًا , وحين يمسى عشرًا , أدركته شفاعتى يوم القيامة » . (أخرجه الطبراني).
“যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় আমার উপর দশবার দুরূদ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে আমার শাফা‘আত লাভ করবে।”[75] ৭৯. জাবির ইবন আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« من قال حين يسمع النداء: اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلاة القائمة , آت محمد الوسيلة والفضيلة , وابعثه مقاما محمودا الذي وعدته , حلت له شفاعتي يوم القيامة» . (أخرجه البخاري) .
“যে ব্যক্তি আযান শুনে দো‘আ করবে: ‘হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের প্রভূ, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান কর ওসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে ‘মাকামে মাহমুদ’ তথা প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন’— কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফা‘আত হালাল হবে।”[76] ৮০. তারেক ইবন শিহাব র. থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« ما من مسلم يقول إذا سمع النداء , فيكبر المنادى فيكبر , ثم يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله فيشهد على ذلك , ثم يقول: اللهم أعط محمدا الوسيلة , واجعل فى الأعلين درجته , وفى المصطفين محبته , وفى المقربين ذكره , إلا وجبت له شفاعتى يوم القيامة » . (أخرجه الطحاوي و الطبراني).
“যে মুসলিম ব্যক্তি বলবে যখন সে আযান শুনে— “মুয়াজ্জিন যখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলে, তখন সে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে; অতঃপর সে (মুয়াজ্জিন) যখন সাক্ষ্য দেয় যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন হক্ক ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তখন সে এই ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে; অতঃপর সে বলবে: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওসীলা দান কর, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর মর্যাদাকে শামিল কর, মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর মহব্বত সৃষ্টি করে দাও এবং নৈকট্যবান বান্দাদের মধ্যে তাঁর আলোচনার ব্যবস্থা করে দাও”— তখন সেই ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিনে আমার শাফা‘আত জরুরী হয়ে যায়।”[77]
 দৃষ্টি আকর্ষণ: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত ও তা তাঁর শাফা‘আত লাভের অন্যতম উপায় বলে উৎসাহ দান প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্য থেকে কোন কিছুই প্রমাণিত নয়; অচিরেই আমি তন্মধ্য থেকে কিছু বিষয় ও তথ্যসূত্র সংক্ষিপ্তভাবে পেশ করছি। ১. ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
« من زار قبري أو قال من زارني كنت له شفيعا أو شهيدا ومن مات في احد الحرمين بعثه الله في الامنين يوم القيامة » . (أخرجه البيهقي 5/ 245) .
“যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে অথবা তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে যিয়ারত করবে, আমি তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব; আর যে ব্যক্তি হারামাইন তথা মক্কা ও মদীনার কোন একটিতে মারা যাবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনে নিরাপদ ব্যক্তিদের মাঝে তার পুনরুত্থান ঘটাবেন।” - (বায়হাকী, ৫ / ২৪৫)। আর তিনি বলেন: এই হাদিসের সনদ অজ্ঞাত; দেখুন: ইবনু আবদিল হাদী, ‘আস-সারেমুল মুনাক্কী ফির রাদ্দি ‘আলাস্ সাবাকী’ ( الصارم المنكي في الرد على السبكي )। ২. ইবনু ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«من زار قبري وجبت له شفاعتي» . (رواه الدارقطني ( 2 / 278 ) ورواه البيهقي) .
“যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফা‘আত ওয়াজিব হয়ে যাবে।” - (হাদিসটি দারাকুতনী [২/২৭৮] ও বায়হাকী র. বর্ণনা করেন)। আর বায়হাকী র. বলেন: এই হাদিসটি ‘মুনকার’। আর এই অর্থে সেখানে অনেক ‘মাওযু’ (বানোয়াট) ও দুর্বল হাদিস বর্ণিত আছে। তবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাসজিদ যিয়ারত করা, তাতে সালাত আদায় করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম পেশ করা অতি ফযিলতের কাজ, যা আল্লাহর জান্নাত ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের দিকে নিয়ে যায়। আর আল্লাহই হলেন সাহায্য প্রার্থনার স্থল।
* * *
তাওহীদপন্থী মৃত ব্যক্তির সালাতুল জানাযায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিগণ কর্তৃক তার জন্য সুপারিশ করা
৮১. আবূ কিলাবা থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা’র দুধভাই আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ র. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন:
« مَا مِنْ مَيِّتٍ يُصَلِّى عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِائَةً كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَهُ إِلاَّ شُفِّعُوا فِيهِ » . (أخرجه مسلم) .
“কোন মৃত ব্যক্তি, যার উপর একদল মুসলিম ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করবে, যাদের সংখ্যা একশ’তে পৌঁছবে এবং তাদের প্রত্যেকে তার জন্য সুপারিশ করবে, তবে তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণীয় হবে।”[78] ৮২. শরীক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি নমর থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র মাওলা (আযাদ করা গোলাম) কুরাইব র. থেকে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁর এক ছেলে কুদায়দ অথবা ‘উসফান নামক স্থানে ইন্তিকাল করলেন; তখন তিনি বললেন, হে কুরায়ব! দেখ তো, তার জানাযার জন্য কি পরিমাণ মানুষ সমবেত হয়েছে? আমি দেখলাম, কিছু লোক সমবেত হয়েছে; আমি তাঁকে এ খবর দিলাম; তখন তিনি বললেন, তাদের সংখ্যা কি চল্লিশ হবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন: মৃতদেহ বের কর। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
« مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلاً لاَ يُشْرِكُونَ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلاَّ شَفَّعَهُمُ اللَّهُ فِيهِ ».. (أخرجه مسلم) .
“যখন কোন মুসলিমের ইন্তিকাল হয় এবং তার জানাযায় এমন চল্লিশজন লোক অংশ নেয়, যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে কোন কিছুকে শরীক করে না, তখন তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হয়।”[79] ৮৩. আবূ সালেহ র. থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
« من صلى عليه مائة من المسلمين غفرالله له » . (أخرجه ابن ماجه)
“যে ব্যক্তির উপর একশত মুসলিম জানাযার সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।”[80] ৮৪. আবদুল্লাহ ইবন সালিত থেকে বর্ণিত, তিনি উম্মহাতুল মুমিনীনের অন্যতম একজন মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« ما من ميت يصلي عليه أمة من الناس إلا شفعوا فيه . » فسألت أبا المليح عن الأمة قال أربعون» . (أخرجه النسائي) .
“যে কোন মৃত ব্যক্তির জানাযায় মানুষের মধ্য থেকে একদল অংশগ্রহণ করবে, তারা তার ব্যাপারে সুপারিশ করবে।”[81] [অতঃপর আমি আবূল মালিহকে ‘উম্মত’ বা দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? জবাবে তিনি বললেন: চল্লিশ। অপর এক বর্ণনায় আছে: ‘উম্মত’ বা দল বলতে চল্লিশ থেকে একশ’র মধ্যকার যে কোনো পরিমাণ লোক সংখ্যাকে বুঝায়]।
* * *
বিভিন্ন প্রকার কর্মকাণ্ড শাফা‘আতের উপলক্ষসমূহের অন্তর্ভুক্ত
৮৫. বনী মাখযুমের আযাদকৃত গোলাম যিয়াদ ইবন আবি যিয়াদ র. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম কোন পুরুষ অথবা নারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খাদেমকে উদ্দেশ্য করে বলতেন:
« "أَلَكَ حَاجَةٌ؟ قَالَ: حَتَّى كَانَ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ حَاجَتِى أَنْ تَشْفَعَ لِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، قَالَ: "وَمَنْ دَلَّكَ عَلَى هَذَا ؟ قَالَ: رَبِّى عز وجل، قَالَ: "أما لا فَأَعِنِّى بِكَثْرَةِ السُّجُودِ » . (أخرجه أحمد) .
“তোমার কি কোন কিছুর প্রয়োজন আছে? তিনি বলেন: শেষ পর্যন্ত সে কোন একদিন বলে বসলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রয়োজন হল আপনি কিয়ামতের দিনে আমার জন্য সুপারিশ করবেন; তিনি বললেন: এই ব্যাপারে তোমাকে কে নির্দেশনা দিয়েছে? সে বলল: আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা; তিনি বললেন: কেন সুপারিশ করব না, তবে তুমি (আল্লাহকে) বেশি বেশি সিজদা করার মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা কর।”[82] ৮৬. মুস‘আব আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«انطلق غلام منا، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم ، فقال: أسألك أن تجعلني ممن تشفع له يوم القيامة ، قال: من أمرك أو علمك، أو دلك؟ قال : ما أمرني بها إلا نفسي، قال: إني أشفع لك، ثم رده فقال: أعني على نفسك بكثرة السجود» . (أخرجه الطبراني) .
“আমাদের কাছ থেকে কোন এক গোলাম চলে গেল; তারপর সে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল, অতঃপর সে বলল: আমি আপনার নিকট চাই যে, আপনি আমাকে সেই ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন, যার জন্য কিয়ামতের দিনে আপনি সুপারিশ করবেন; তিনি বললেন: কে তোমাকে নির্দেশ দিয়েছে অথবা কে তোমাকে শিখিয়ে দিয়েছে অথবা কে তোমাকে নির্দেশনা দিয়েছে? জবাবে সে বলল: আমার মনই আমাকে নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বললেন: আমি তোমার জন্য সুপারিশ করব, অতঃপর তিনি তার কথা প্রত্যাহার করে নিলেন এবং বললেন: তুমি তোমার নিজের ব্যাপারে (আল্লাহকে) বেশি বেশি সিজদা করার মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা কর।”[83]  
যে মুসলিম ব্যক্তির সুপারিশ (শাফা‘আত) গ্রহণ করা হবে না
৮৭. উম্মু দারদা থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«إِنَّ اللَّعَّانِينَ لاَ يَكُونُونَ شُهَدَاءَ وَلاَ شُفَعَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . (أخرجه مسلم).
“নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন অভিশাপ দানকারীগণ সাক্ষী ও সুপারিশকারী হবে না।”[84]  
দুনিয়াবী শাফা‘আত
দুনিয়াবী শাফা‘আতসমূহ থেকে কিছু শরীয়তসম্মত এবং কিছু শরীয়তসম্মত নয়; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন:
﴿ مَّن يَشۡفَعۡ شَفَٰعَةً حَسَنَةٗ يَكُن لَّهُۥ نَصِيبٞ مِّنۡهَاۖ وَمَن يَشۡفَعۡ شَفَٰعَةٗ سَيِّئَةٗ يَكُن لَّهُۥ كِفۡلٞ مِّنۡهَاۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ مُّقِيتٗا ٨٥ ﴾ [النساء: ٨٥]
“কেউ কোন ভাল কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে এবং কেউ কোন মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে। আর আল্লাহ সব কিছুর উপর নজর রাখেন।” - (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮৫)। হাফেয ইবনু কাছীর র. বলেন: আর আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿ مَّن يَشۡفَعۡ شَفَٰعَةً حَسَنَةٗ يَكُن لَّهُۥ نَصِيبٞ مِّنۡهَاۖ ﴾ [কেউ কোন ভাল কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে] অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে চেষ্টা-সাধনা করে, অতঃপর তার উপর ভাল কিছু গড়ে উঠে, তাহলে তার জন্য এর থেকে অংশ থাকবে। ﴿ وَمَن يَشۡفَعۡ شَفَٰعَةٗ سَيِّئَةٗ يَكُن لَّهُۥ كِفۡلٞ مِّنۡهَاۗ ﴾ [আর কেউ কোন মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে।] অর্থাৎ ঐ কাজের দায়ভার তার উপর চেপে বসবে, যা তার চেষ্টা-সাধনা ও পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে উদ্ভূত হয়েছে; যেমনটি সহীহ হাদিসের মধ্যে সাব্যস্ত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«اشفعوا تؤجروا ويقضي الله على لسان نبيه صلى الله عليه و سلم ما شاء » . (أخرجه البخاري و مسلم) .
“তোমরা সুপারিশ কর, তোমাদেরকে সাওয়াব দেয়া হবে; আর আল্লাহ যেন তাঁর ইচ্ছা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে চূড়ান্ত করেন।”[85] আর শাফা‘আতের মধ্য থেকে যা বৈধ এবং যা হারাম বা অবৈধ, পবিত্র সুন্নাহ তার বর্ণনা নিয়ে এসেছে। ৮৮. আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا جاءه السائل أو طلبت إليه حاجة قال: «اشفعوا تؤجروا ويقضي الله على لسان نبيه صلى الله عليه و سلم ما شاء» . (أخرجه البخاري و مسلم) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কেউ কিছু চাইলে বা প্রয়োজনীয় কিছু চাওয়া হলে তিনি বলতেন: “তোমরা সুপারিশ কর, তোমাদেরকে সাওয়াব দেয়া হবে; আর আল্লাহ যেন তাঁর ইচ্ছা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে চূড়ান্ত করেন।”[86] ৮৯. মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«اشْفَعُوا تُؤْجَرُوا، فَإِنِّى لأُرِيدُ الأَمْرَ فَأُؤَخِّرُهُ كَيْمَا تَشْفَعُوا فَتُؤْجَرُوا , فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اشْفَعُوا تُؤْجَرُوا ». (أخرجه أبو داود والنسائي) .
“তোমরা সুপারিশ কর, তোমাদেরকে সাওয়াব দেয়া হবে; সুতরাং আমি কোনো বিষয়ে (ফয়সালা দিতে) বিলম্ব করি, যাতে তোমরা সুপারিশ কর এবং তোমাদেরকে সাওয়াব দেয়া হয়; কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘তোমরা সুপারিশ কর, তোমাদেরকে সাওয়াব দেয়া হবে’।”[87] ৯০. ‘আমর ইবন শো‘আইব থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (তাঁর দাদা) বলেন:
«شهدت رسول الله صلى الله عليه و سلم يوم حنين , وجاءته وفود هوازن , فقالوا: يا محمد انا أصل وعشيرة فمن علينا من الله عليك , فإنه قد نزل بنا من البلاء مالا يخفي عليك , فقال: «اختاروا بين نسائكم وأموالكم وأبنائكم » .
قالوا: خيرتنا بين أحسابنا وأموالنا نختار أبناءنا .
فقال: « أما ما كان لي ولبني عبد المطلب فهو لكم فإذا صليت الظهر فقولوا انا نستشفع برسول الله صلى الله عليه وسلم على المؤمنين وبالمؤمنين على رسول الله صلى الله عليه و سلم في نسائنا وأبنائنا » .
قال: ففعلوا , فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم: « أما ما كان لي ولبني عبد المطلب فهو لكم » .
وقال المهاجرون ما كان لنا فهو لرسول الله صلى الله عليه و سلم وقالت الأنصار مثل ذلك .
وقال عيينة بن بدر: أما ما كان لي ولبني فزارة فلا .
وقال الأقرع بن حابس: أما أنا وبنو تميم فلا .
وقال عباس بن مرداس: أما أنا وبنو سليم فلا .
فقالت الحيان كذبت , بل هو لرسول الله صلى الله عليه و سلم .
فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم: « يا أيها الناس ردوا عليهم نساءهم وأبناءهم فمن تمسك بشيء من الفيء فله علينا ستة فرائض من أول شيء يفيئه الله علينا » .
ثم ركب راحلته وتعلق به الناس , يقولون: اقسم علينا فيئنا بيننا حتى ألجؤوه إلى سمرة فخطفت رداءه .
فقال: « يا أيها الناس! ردوا على ردائي , فوالله لو كان لكم بعدد شجر تهامة نعم لقسمته بينكم , ثم لا تلقوني بخيلا ولا جبانا , ولا كذوبا » .
ثم دنا من بعيره فأخذ وبرة من سنامه فجعلها بين أصابعه السبابة والوسطى , ثم رفعها فقال: « يا أيها الناس ليس لي من هذا الفيء ولا هذه الا الخمس والخمس مردود عليكم فردوا الخياط والمخيط فإن الغلول يكون على أهله يوم القيامة عارا ونارا وشنارا » .
فقام رجل معه كبة من شعر, فقال: أني أخذت هذه أصلح بها بردعة بعير لي , قال: « أما ما كان لي ولبني عبد المطلب فهو لك » .
فقال الرجل: يا رسول الله أما إذ بلغت ما أرى فلا أرب لي بها ونبذها » . (أخرجه أحمد) .
“আমি হুনাইনের যুদ্ধের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত; তাঁর নিকট হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল আগমন করল; অতঃপর তারা বলল: হে মুহাম্মদ! আমরা (তোমার) বংশের মূল ও আত্মীয়স্বজন; সুতরাং তুমি আমাদের উপর দয়া কর, আল্লাহ তোমার উপর দয়া করবেন; কারণ, তিনি আমাদেরকে এমন এক বালা-মুসিবতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন, যা তোমার কাছে অস্পষ্ট নয়; তখন তিনি বললেন: “তোমরা তোমাদের নারীগণ, ধন-সম্পদ ও সন্তানদের মাঝ থেকে বেছে নাও।” তারা বলল: আপনি আমাদেরকে আমাদের বংশ ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে স্বাধীনতা দিয়েছেন, আমরা আমাদের সন্তানদেরকে বেছে নিচ্ছি। অতঃপর তিনি বললেন: “তবে আমার এবং বনু আবদুল মুত্তালিবের জন্য যা রয়েছে, তা তোমাদের জন্য; সুতরাং আমি যখন যোহরের সালাত আদায় করব, তখন তোমরা বলবে: আমরা আমাদের নারী ও সন্তানগণের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলের মাধ্যমে মুমিনগণের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করব এবং মুমিনগণের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূলের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করব।” তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর তারা তাই করল; তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমার এবং বনু আবদুল মুত্তালিবের জন্য যা রয়েছে, তা তোমাদের জন্য।” অতঃপর মুহাজিরগণ বলল: আমাদের জন্য যা রয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য; আর আনসারগণও অনুরূপ বলল। আর ‘উয়াইনা ইবন বদর বলেন: তবে আমার ও বনু ফাযারা’র জন্য যা রয়েছে, তা নয়। আর আকরা‘ ইবন হাবেস বলেন: আর আমার ও বনু তামীমের জন্য যা রয়েছে, তা নয়। আর আব্বাস ইবন মিরদাস বলেন: আর আমার ও বনু সুলাইমের জন্য যা রয়েছে, তা নয়। অতঃপর দু’গোত্রের লোকেরা[88] বলল: তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “হে জনগণ! তোমরা তাদের নিকট তাদের নারী ও সন্তানদেরকে ফেরত দিয়ে দাও; সুতরাং এরপর এ ‘ফায়’ (যুদ্ধলব্ধ) সম্পদ যদি কারও কাছে থাকে তবে সে যেন তাও দিয়ে দেয়, অতঃপর প্রথম যে ‘ফায়’ সম্পদ আল্লাহ আমাদেরকে দান করবেন, তা থেকে আমি তাকে ছয়টি অংশ প্রদান করব।” অতঃপর তিনি তাঁর বাহনে আরোহন করলেন এবং মানুষ তাঁর সাথে লেগে গেল, তারা বলল: আপনি আমাদের মধ্যে আমাদের ফায়ের সম্পদ বণ্টন করে দিন, এমনকি তারা তাঁকে ‘সামুরা’ নামক বৃক্ষের নিকট আশ্রয় নিতে বাধ্য করল, অতঃপর তারা তাঁর চাদরও ছিনতাই করে নিল। অতঃপর তিনি বলেন: “হে মানুষ সকল! তোমরা আমাকে আমার চাদরটি ফেরত দাও; কারণ, আল্লাহর শপথ! যদি তোমাদের জন্য মক্কা নগরীর গাছপালার সংখ্যা পরিমাণ উট অর্জিত হয়, তবে তা আমি তোমাদের মাঝে বন্টন করে দিব; অতঃপর তোমরা আমাকে কৃপণ, কাপুরুষ ও মিথ্যাবাদী হিসেবে পাবে না।” অতঃপর তিনি তাঁর উটের নিকটবর্তী হলেন এবং তার কুঁজের পশম ধরলেন, তারপর তা তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের মাঝখানে রাখলেন; অতঃপর তিনি তা উঁচু করলেন এবং বললেন: “হে মানুষ সকল! আমার জন্য এই ‘ফায়’ নামক সম্পদ ও এই (পশম) থেকে এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত আর কিছুই নেই; আর এক-পঞ্চমাংশও তোমাদেরকে দিয়ে দেওয়া হয়; সুতরাং তোমরা সুঁই-সুতার মত তুচ্ছ জিনিসও ফেরত দিয়ে দাও; কারণ, আত্মসাৎকৃত সম্পদ কিয়ামতের দিনে তার পরিবার-পরিজনের জন্য অপমান অথবা আগুন অথবা কলংকজনক হবে।” অতঃপর জনৈক ব্যক্তি দাঁড়ালেন, তাঁর সাথে ছিল এক গোছা চুল; তারপর সে বলল: আমি এটা নিয়েছি এর দ্বারা আমার উটের গদি পরিষ্কার করব; তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “আমার এবং আবদুল মুত্তালিবের জন্য যা রয়েছে, তা তোমার জন্য।” অতঃপর লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! অবস্থা যখন এ পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আমি দেখছি, তখন তা আমার কোনো প্রয়োজন নেই।”[89] ৯১. আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, বারীরার স্বামী ক্রীতদাস ছিল; তাকে মুগীস বলে ডাকা হত। আমি যেন তাকে এখনও দেখছি, সে বারীরার পিছনে কেঁদে কেঁদে ঘুরছে, আর তার দাড়ি বেয়ে অশ্রু ঝরছে; তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
« يا عباس! ألا تعجب من حب مغيث بريرة ومن بغض بريرة مغيثا ؟ . فقال النبي صلى الله عليه و سلم: لو راجعته . قالت يا رسول الله تأمرني ؟ قال: إنما أنا أشفع . قالت لا حاجة لي فيه » . (أخرجه البخاري) .
“হে ‘আব্বাস! বারীরার প্রতি মুগীসের ভালবাসা এবং মুগীসের প্রতি বারীরার অনাসক্তি দেখে তুমি কি আশ্চর্যাম্বিত হও না? এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (বারীরা) তুমি যদি তার কাছে আবার ফিরে যেতে! সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: আমি সুপারিশ করছি মাত্র।। সে বলল: আমার জন্য তার মধ্যে কোনো প্রয়োজন নেই।”[90]  
যে ব্যাপারে সুপারিশ করা বৈধ নয়
৯২. ‘উরওয়া থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
« أن قريشا أهمهم شأن المرأة المخزومية التي سرقت , فقالوا: ومن يكلم فيها رسول الله صلى الله عليه و سلم ؟ فقالوا: ومن يجترئ عليه إلا أسامة ابن زيد حب رسول الله صلى الله عليه و سلم , فكلمه أسامة , فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم: « أتشفع في حد من حدود الله » . ثم قام فاختطب ثم قال: « إنما أهلك الذين قبلكم أنهم كانوا إذا سرق فيهم الشريف تركوه , وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد , وايم الله! لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها » . (أخرجه البخاري و مسلم) .
“মাখযোমী গোত্রের একজন মহিলা চুরি করলে (তার প্রতি হদ প্রয়োগের ব্যাপারে) কুরাইশগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তাঁরা বলল, কে এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কথা বলতে (সুপারিশ করতে) পারে? তখন তাঁরা বললেন, এ ব্যাপারে উসামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ব্যতীত আর কারও সাহস নেই। তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তিনি এ ব্যাপারে কথোপকথন করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ্দের (শাস্তির) ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন; তিনি বললেন: ‘হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণ ধ্বংস হয়েছে এই কারণে যে, তাদের মধ্যে যখন কোনো সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি কোন দুর্বল লোক চুরি করত, তবে তারা তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে নিশ্চয়ই আমি তার হাত কেটে দিতাম।”[91] ৯৩. ইয়াহইয়া ইবন রাশেদ র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র অপেক্ষায় বসেছিলাম, অতঃপর তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসলেন এবং বসলেন, তারপর বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
« مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُونَ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ فَقَدْ ضَادَّ اللَّهَ , وَمَنْ خَاصَمَ فِى بَاطِلٍ وَهُوَ يَعْلَمُهُ لَمْ يَزَلْ فِى سَخَطِ اللَّهِ حَتَّى يَنْزِعَ عَنْهُ , وَمَنْ قَالَ فِى مُؤْمِنٍ مَا لَيْسَ فِيهِ أَسْكَنَهُ اللَّهُ رَدْغَةَ الْخَبَالِ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ » . (أخرجه أبو داود و أحمد) .
“যে ব্যক্তির সুপারিশ আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারিত হদ্দ বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সে আল্লাহর বিরোধিতা করে; আর যে ব্যক্তি জেনে বুঝে বাতিলের পক্ষে বিতর্ক করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ না সে তা থেকে বিরত থাকে; আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের ব্যাপারে এমন কথা বলে যা তার মধ্যে নেই, সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ ধ্বংসের কাদা-পানিতে বসবাস করাবেন, যতক্ষণ না সে তার বলা কথা প্রত্যাহার করবে।”[92] ৯৪. হিশাম ইবন ‘উরওয়া থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
« شفع الزبير في سارق , فقيل: حتى يبلغه الإمام , فقال: إذا بلغ الإمام فلعن الله الشافع والمشفع كما قال رسول الله صلى الله عليه و سلم » . (أخرجه الدارقطني) .
“যোবায়ের রা. চোরের ব্যাপারে সুপারিশ করলেন, তখন তাঁকে বলা হল, সুপারিশ করতে পারবে বিষয়টি ইমামের নিকট পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত; অতঃপর তিনি বললেন: যখন ইমামের নিকট (বিষয়টি) পৌঁছাবে, তখন (সুপারিশ করলে) আল্লাহ তা‘আলা সুপারিশকারী ও যার জন্য সুপারিশ করা হয় উভয়ের প্রতি লানত (অভিশাপ বর্ষণ) করেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।”[93] ৯৫. ‘উরওয়া ইবন যোবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা যোবায়ের ইবনুল ‘আওয়াম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
« اشفعوا في الحدود ما لم تبلغ السلطان , فإذا بلغت السلطان فلا تشفعوا » . (أخرجه البيهقي) .
“তোমরা শরী‘য়াত নির্ধারিত শাস্তির ব্যাপারে ততক্ষণ পর্যন্ত সুপারিশ কর, যতক্ষণ পর্যন্ত না বিষয়টি বিচারক বা শাসকের দরবারে না পৌঁছায়; সুতরাং যখন বিষয়টি শাসক বা বিচারকের দরবারে পৌঁছাবে, তখন তোমরা আর সেই ব্যাপারে সুপারিশ করবে না।”[94]  
ফায়দা ও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
* নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কার জন্য সর্বপ্রথম সুপারিশ করবেন, তা বর্ণনায় কোনো সহীহ হাদিস বর্ণিত নেই; তবে ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বর্ণিত হাদিসটি ‘মাউযু’ তথা বানোয়াট, তার শব্দ হল, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« أول من أشفع له يوم القيامة من أمتي أهل بيتي ثم الأقرب فالأقرب من قريش ثم الأنصار ثم من آمن بي واتبعني من أهل اليمن ثم من سائر العرب ثم الأعاجم ومن أشفع له أولا أفضل » .
“কিয়ামতের দিনে আমার উম্মতের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম আমি যার জন্য সুপারিশ করব, তারা হল আমার পরিবার-পরিজন, অতঃপর কুরাইশ বংশের পরপর নিকটাত্মীয়গণ, অতঃপর আনসারগণ, অতঃপর ইয়ামানের অধিবাসীগণের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমান এনেছে এবং আমাকে অনুসরণ করেছে, অতঃপর সকল আরববাসীর মধ্য থেকে (যে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমান এনেছে এবং আমাকে অনুসরণ করেছে), অতঃপর অনারবগণ; আর সর্বপ্রথম আমি যার জন্য সুপারিশ করব, সে উত্তম।” — হাদিসটি আল-খতীব বর্ণনা করেছেন, মুদিহু আওহামিল জাম‘য়ি ওয়াত তাফরীক [موضح أوهام الجمع والتفريق] (২ / ৪৮), আর তাতে হাফস ইবন সুলাইমান নামে একজন বর্ণনাকারী আছেন, তার ব্যাপারে ইমাম আহমদ ও নাসায়ী র. বলেছেন: সে ‘মাতরুক’ (পরিত্যাজ্য)। আর ইবনুল জাওযী হাদিসটিকে ‘আল-মাউযু‘আত’ ( الموضوعات ) এর মধ্যে (৩ / ২৫০) উল্লেখ করেছেন এবং তাকে সুয়ুতী (মাউযু বলে) ‘আল-লা‘লী ( اللألي ) এর মধ্যে (২ / ৪৫০) স্বীকৃতি দিয়েছেন। * আর অপর এক বর্ণনায় এসেছে:
« أول من أشفع له أهل المدينة وأهل مكة وأهل الطائف »
“আমি প্রথম যার জন্য সুপারিশ করব, তারা হল মদীনাবাসী, মক্কাবাসী ও তায়েফবাসী।” হাদিসটি ইমাম বুখারী র. বর্ণনা করেছেন, আত-তারীখ ( التاريخ ) [ ৫ / ৪০৪] গ্রন্থে। এই হাদিসটি এমন, যা দুর্বল ও অপরিচিত বর্ণনাকারীদের দ্বারা বর্ণিত হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর এই জন্য হাফেয হাইছামী র. বলেন: হাদিসটি তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং তাতে একদল আছেন, যাদেরকে আমি চিনি না। * বর্ণিত আছে:
«من سقى الناس شربة من ماء , أو قضى حاجة للناس , فإنهم يشفعون له » .
“যে ব্যক্তি মানুষকে পানি পান করাবে অথবা মানুষের কোনো প্রয়োজন পূরণ করবে, তারা তার জন্য সুপারিশ করবে।” — হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আবিদ দুনিয়া, ‘কাদাউল হাওয়ায়েয’ ( قضاء الحوائج ), পৃ. ৯৯; কিন্তু হাদিসটি দুর্বল, কেননা তার সনদের মধ্যে ইয়াযীদ আর-রাকাশী নামে একজন বর্ণনাকারী আছে, যে দুর্বল। বরং ইমাম নাসায়ী বলেছেন: [ সে কঠোরভাবে সমালোচিত ] পরিত্যক্ত ও পরিত্যাজ্য। * বর্ণিত আছে: ওসমান ইবন ‘আফফান র. রবী‘য়া’ ও ‘মুদার’ গোত্রের সমপরিমাণ লোকের ব্যাপারে সুপারিশ করবেন, কিন্তু হাদিসটি হাসান আল-বসরীর মুরসাল বর্ণনাসমূহের একটি; বর্ণিত আছে: তিনি ওয়াইস আল-কারনী ... দেখুন: আমাদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে ইমাম আলকারী’র ‘কিতাবুল মা‘দান আল-মা‘দানী ফী ফদলে ওয়াইস আল-কারনী’ ( كتاب المعدن المعدني في أويس القرني )। * এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
« من خَرَج حاجّاً يُرِيد وَجهَ اللّهِ ، فَقَد غَفَرَ اللّهُ لَه ما تَقَدَّمَ من ذَنَبِه وَمَا تَأَخَّر ، وَشَفَعَ فِيمَن دَعَا لَه » .
“যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হাজ্জ পালনকারী অবস্থায় বের হবে, আল্লাহ তার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন; আর সে ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে সুপারিশ করবে, যে তার জন্য দো‘আ করবে।” — হাদিসটি আবূ না‘ঈম ‘আল-হিলয়া’ ( الحلية ) গ্রন্থের মধ্যে (৭ / ২৩৫) বর্ণনা করেছেন এবং তার সনদের মধ্যে ইসমাঈল ইবন ইয়াহইয়া আত-তায়মী নামে এক বর্ণনাকারী রয়েছে, যে বানিয়ে বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করত। * এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
«ما من معمر يعمر في الإسلام ... فإذا بلغ التسعين غفر الله له ما تقدم من ذنبه وما تأخر, وسمي أسير الله في أرضه وشفع لأهل بيته » .
“যে কোনো বয়স্ক ব্যক্তি, যে ইসলামের মধ্যে থেকে দীর্ঘজীবী হয় ... সুতরাং যখন সে নব্বই বছর বয়সে উপনীত হবে, তখন আল্লাহ তার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন; আর আল্লাহর যমীনে সে ‘আল্লাহর বন্দী’ নামে খ্যাতি লাভ করবে এবং সে তার পরিবার-পরিজনের জন্য সুপারিশ করবে।” হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (৩/২১৭); ইবনু হিব্বান, আদ-দু‘আফা ( الضعفاء ), ৩ / ১৩২, তার সনদের মধ্যে ইউসূফ ইবন আবি বুরদা নামে এক বর্ণনাকারী রয়েছে: কোনোভাবেই সে গ্রহণযোগ্য নয়। দেখুন: ইবনুল জাওযী, ‘আল-মাউযু‘আত’ ( الموضوعات ) [১ / ১৭৯ - ১৮১]। * এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
« إن من فتح عسقلان يبعث الله منها خمسين ألف شهيد يشفع الرجل منهم في مثل ربيعة و مضر » .
“যে ব্যক্তি ‘আসকালান জয় করবে, আল্লাহ তা‘আলা সেখান থেকে পঞ্চাশ হাজার শহীদ প্রেরণ করবেন, তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি ‘রবী‘য়া’ ও ‘মুদার’ গোত্রের সমপরিমাণ লোকের ব্যাপারে সুপারিশ করবে।” হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইবনু হিব্বান, আদ-দু‘আফা ( الضعفاء ), ৩ / ১৩২, তার সনদের মধ্যে হামযা ইবন হামযা নামে এক বর্ণনাকারী রয়েছে, যার হাদিস পরিত্যাক্ত, এক পয়সার সমানও নয়! দেখুন: ইবনুল জাওযী, ‘আল-মাউযু‘আত’ ( الموضوعات ) [২ / ৫২]। * এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয় যে, ‘সিলা’ নামের এক ব্যক্তির সুপারিশে এই পরিমাণ এই পরিমাণ লোক জানাতে প্রবেশ করবে।” — হাদিসটি আবূ না‘ঈম ‘আল-হিলয়া’ ( الحلية ) গ্রন্থের মধ্যে (২ / ২৪১) বর্ণনা করেছেন, কিন্তু হাদিসটি ‘মু‘দাল’। * এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
« أنا شفيع لكلّ رجلين اتّخيا في الله من مبعثي إلى يوم القيامة » .
“আমি এমন প্রত্যেক দুই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করব, যারা আল্লাহর উদ্দেশ্য একে অপরের ভাই হয়েছে। আমার রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হতে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।” — হাদিসটি আবূ না‘ঈম ‘আল-হিলয়া’ ( الحلية ) গ্রন্থের মধ্যে (১ / ৩৬৭) বর্ণনা করেছেন, তার সনদের মধ্যে ‘আমর ইবন খালেদ আল-কুফী নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে, যে মুহাদ্দিসদের নিকট মিথ্যাবাদী বলে পরিচিত। * এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
« من أحيا بين الصلاتين غفر له , و شفع له ملكاه » .
“যে ব্যক্তি দুই সালাতের মধ্যস্থিত সময় জীবিত রাখবে (ইবাদতের মাধ্যমে), তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং তার জন্য তার ফিরিশতাদ্বয় সুপারিশ করবে।” — হাদিসটি আবূ না‘ঈম ‘আখবারু আসবাহান’ ( أخبار أصبهان ) গ্রন্থের মধ্যে (২ / ৩৪৫) বর্ণনা করেছেন, তার সনদের মধ্যে সাফাদী ইবন সিনান নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে, যে কোনো কিছুই (বর্ণনাকারীই) নয়, যেমনটি ইয়াহইয়া ইবন মু‘ঈন বলেছেন। * এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
« ثلاثة أنا شفيع لهم يوم القيامة: الضارب بسيفه أمام ذريتي، والقاضي لهم حوائجهم عندما اضطروا إليه، والمحبّ لهم بقلبه ولسانه » .
“কিয়ামতের দিনে আমি তিন ব্যক্তির জন্য সুপারিশকারী হব: তারা হল- (১) আমার বংশধরের সামনে (তাদেরকে রক্ষার উদ্দেশ্য) নিজ তরবারী নিয়ে অবস্থানকারী ব্যক্তি; (২) তাদের প্রয়োজনসমূহ পূরণকারী ব্যক্তি, যখন তারা তার নিকট বাধ্য হয়; (৩) অন্তর দিয়ে ও মুখের ভাষায় তাদের প্রতি ভালবাসা পোষণকারী ব্যক্তি।” শাওকানী এই হাদিসটিকে ‘আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমু‘আ’ (الفوائد المجوعة) গ্রন্থে ‘মাউযু’ (বানোয়াট) বলেছেন, পৃ. ৩৯৭ * হাদিসসমষ্টি:
« من حفظ على أمتي أربعين حديثا في السنة كنت له شفيعا يوم القيامة » .
“যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য সুন্নাহ প্রসঙ্গে চল্লিশটি হাদিস মুখস্থ করবে, তাহলে কিয়ামতের দিনে আমি তার জন্য সুপারিশকারী হব।” এই হাদিসটি বহু সনদে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্য থেকে কোনটিই শুদ্ধ নয়[95]* এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
«من غش العرب لم يدخل في شفاعتي ولم تنله مودتي»
“যে ব্যক্তি আরবদেরকে প্রতারিত করে, সেই ব্যক্তি আমার শাফা‘আতের অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং সে আমার ভালবাসা লাভ করবে না।” — ইমাম তিরমিযী (৫ / ৩৮১) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তার সনদের মধ্যে হুসাইন ইবন ওমর আল-আহমাসী নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে, যাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর ইবনু তাইমিয়্যা র. বলেন: হাদিস বিশারদগণের নিকট এটা হাদিস নয় এবং তার মধ্যে অপরিচিত বর্ণনা হওয়ার দিকটি সুস্পষ্ট, আমি বলি: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! * মাওকুফ হিসেবে সহীহ:
« من كذب بالشفاعة فليس له فيها نصيب ».
“যে ব্যক্তি শাফা‘আতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, সেই ব্যক্তির জন্য তাতে কোনো অংশ নেই।” সুতরাং এসব মূর্খদের সাবধান হওয়া উচিত, যারা শাফা‘আতের হাদিসসমূহকে ‘আহাদ’ হাদিস বলে দলিল দিয়ে অস্বীকার করে; যেভাবে আমি তা দেখেছি ..., বিষয়টি আসলে অনুরূপ নয়; আর তাদের দলিলসমূহ দুর্বল হওয়ার কারণে তা আলোচনার যোগ্যতা রাখে না। আর যাদের অন্তরে অন্ধত্ব রয়েছে তাদের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। * এই হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত নয় যে, তিনি বলেছেন:
« يشفع يوم القيامة ثلاثة: الأنبياء , ثم العلماء , ثم الشهداء » .
“কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর মানুষ সুপারিশ করবেন: নবীগণ, অতঃপর আলেমগণ, অতঃপর শহীদগণ।” হাদিসটি আল-আজুররী ‘আশ-শরী‘য়াহ’ ( الشريعة ) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৩৫০; ইবনু আবদিল বার বর্ণনা করেছেন ‘জামে‘উ বয়ানিল ‘ইলম ওয়া ফাদলুহু’ ( جامع بيان العلم و فضله ) নামক গ্রন্থের মধ্যে; আর তাদের পূর্বে বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনু মাজাহ তাঁর ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২ / ১৪৪৩)। হাদিসটি খুবই দুর্বল, কেননা তার সনদের মধ্যে ‘আল্লাক ইবন আবি মুসলিম নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে, যার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। আর আছে ‘আনবাসা ইবন আবদির রহমান নামে এক বর্ণনাকারী, যার ব্যাপারে ইমাম যাহাবী (আল-মিযান গ্রন্থের মধ্যে) ও বুখারী র. বলেন: মুহাদ্দিসগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে; আর আবূ হাতেম বলেন: সে বানিয়ে বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করত। * এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
« يبعث الله العالم والعابد ، فيقال للعابد : ادخل الجنة ويقال للعالم : اشفع للناس كما أحسنت أدبهم » .
“আল্লাহ আলেম ও ইবাদতকারী ব্যক্তিকে পুনরুত্থিত করবেন; অতঃপর ‘আবেদ তথা ইবাদতকারী ব্যক্তিকে বলা হবে: তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর; আর আলেমকে বলা হবে: তুমি মানুষের জন্য সুপারিশ কর, যেমনিভাবে তুমি তাদের আদব-কায়দাকে সুন্দর করেছ।” — হাদিসটি ইবনু আবদিল বার ‘জামে‘উ বয়ানিল ‘ইলম ওয়া ফাদলিহী’ ( جامع بيان العلم و فضله ) নামক গ্রন্থের (১/২৭) মধ্যে বর্ণনা করেছেন। আর হাদিসটি নিম্নোক্ত দুর্বল বর্ণনাকারীদের ধারাবাকিতায় বর্ণিত: ১. শুবল ইবনুল ‘আলা কর্তৃক বর্ণিত হাদিসসমূহ সঠিক নয়।[96] ২. হাবীব ইবন ইবরাহীম অপরিচিত শাইখ।[97] * হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
« من طاف بالبيت شُفع في سبعين من أهل بيته » .
“যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে, সেই ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজন থেকে সত্তর জনের ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগ দেয়া হবে।” বরং এই হাদিসটি খুবই দুর্বল।[98] আর এই হাদিসটি আল-আযরাকী ‘আখবারু মক্কা’ ( أخبار مكة ) নামক গ্রন্থের মধ্যে (২ / ৪) বর্ণনা করেছেন। * হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়:
« إذا كان عشية عرفة ... و إني قد شفعت محسنهم في مسيئهم » .
“যখন আরাফার দিনের সন্ধ্যা হবে ... আর আমি তাদের সৎকর্মশীলদেরকে তাদের গুনাহগারদের ব্যাপারে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করে নেব” বরং হাদিসটি মাউযু (বানোয়াট); হাদিসটি আবূ না‘ঈম ‘আখবারু আসবাহান’ ( أخبار أصبهان ) গ্রন্থের মধ্যে (১ / ৪১৮) বর্ণনা করেছেন। এর কারণ হল, তার সনদের মধ্যে ইসহাক ইবন বিশর আল-কামেলী নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে, যে মিথ্যাবাদী, যেমনটি ‘আল-মীযান’ নামক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে; দেখুন: ইবনুল জাওযী, ‘আল-মাউযু‘আত’ (الموضوعات ) [২ / ২১৬]। যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা গ্রন্থটি লিপিবদ্ধ করাটাকে সহজ করে দিয়েছেন, তাঁর জন্য প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল প্রশংসা নিবেদিত। আর তার জন্য রয়েছে সার্বক্ষণিক প্রশংসা।
و سبحانك اللهم و بحمدك نشهد أن لا إله إلا أنت نستغفرك و نتوب إليك .
(হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, আপনার জন্য প্রশংসা; আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই, আমরা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আমরা আপনার নিকট তাওবা করি)।  
[1] মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “আমি প্রথম ব্যক্তি, যে জান্নাতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে শাফা‘আত করব, আর নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি” (باب فِى قَوْلِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم: « أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ يَشْفَعُ فِى الْجَنَّةِ وَأَنَا أَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعًا »), হাদিস নং- ৫০৪
[2] মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “আমি প্রথম ব্যক্তি, যে জান্নাতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে শাফা‘আত করব, আর নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি” (باب فِى قَوْلِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم: « أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ يَشْفَعُ فِى الْجَنَّةِ وَأَنَا أَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعًا »), হাদিস নং- ৫০৫
[3] মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “আমি প্রথম ব্যক্তি, যে জান্নাতের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে শাফা‘আত করব, আর নবীগণের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সবচেয়ে বেশি” (باب فِى قَوْلِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم: « أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ يَشْفَعُ فِى الْجَنَّةِ وَأَنَا أَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعًا »), হাদিস নং- ৫০৭
[4] আহমদ (৩ / ১৪৪ এবং ২৪৭) এবং তার বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদিসের বর্ণনাকারী; দারেমী (১ / ২৭ – ২৮)
[5] বুখারী, দো‘য়া অধ্যায় (كتاب الدعوات), পরিচ্ছেদ: প্রত্যেক নবীর একটি মাকবুল দো‘য়া রয়েছে (باب لكل نبي دعوة مستجابة), হাদিস নং- ৫৯৪৫
[6] ইবনু মাজাহ (২ / ১৪৪১); আল-বূসীরী ‘আয-যাওয়ায়েদ’ গ্রন্থে বলেন: তার সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।
[7] আহমদ (৪ / ৪০৪); তাবারানী, আস-সাগীর (২ / ৮); তার সনদ সহীহ; ইমাম আহমদের নিকট এই হাদিসের সমর্থনে ‘আওফ ইবন মালিক থেকে হাদিস বর্ণিত আছে (৬ / ২৮)।
[8] আহমদ (৪ / ৪১৬); আর তিনি বুখারী ও মুসলিমের শর্তের ভিত্তিতে হাদিসখানা বর্ণনা করেছেন।
[9] তাবারানী, আল-আওসাত, তার সনদ হাসান পর্যায়ের; দেখুন: ‘মাজামা‘উয যাওয়ায়েদ’ [ مجمع الزوائد ] (৮ / ২৬৯)
[10] তিরমিযী (৪ / ১৪৫); ইবনু খুযাইমা তাকে সহীহ বলেছেন, পৃ. ২৭০; ইবনু হিব্বান, পৃ. ৬৪৫; ইবনু আবি ‘আসেম, ‘আস-সুন্নাহ’ (২ / ৩৯৯); হাকেম তাকে সহীহ বলেছেন (১ / ২৯); ইবনু কাছীর তার তাফসীরের মধ্যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (১ / ৪৮৭); ইমাম বায়হাকী হাদিসটি গ্রহণ করেছেন।
[11] আবূ বকর ইবন আবিদ্দুনিয়া, আল-আহওয়াল ( الأهوال ); আর এটি হাসান হাদিস, তার বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।
[12] আহমদ (১/১৯৭); আর অন্য বর্ণনার সমর্থনের কারণে হাদিসটি হাসান পর্যায়ের। (বস্তুত: হাদীসটি দুর্বল। শাইখ শু‘আইব আল-আরনাউত দুর্বল বলেছেন। [সম্পাদক])
[13] তিরমিযী (৪ / ৪৫); ইবনু মাজাহ (২ / ১৪৩৩); আহমদ (৫ / ২৬৮); হাফেয ইবনু কাছীর তার তাফসীরের মধ্যে (১ / ৩৯৪) বলেন: এর সনদটি উত্তম।
[14] আহমদ (২ / ২৫০); হাফেয ইবনু কাছীর তার তাফসীরের মধ্যে বলেন: তার সনদ হাসান; আর হাফেয হাইছামী ‘আল-মাজমা‘ (المجمع) গ্রন্থের মধ্যে বলেন: হাদিসটি ইমাম আহমদ ও তাবারানী র. বর্ণনা করেছেন এবং আহমদ র. এর বর্ণনাকারীগণ ও তাবারানীর কোন কোন সনদের বর্ণনাকারীগণ বিশুদ্ধ।
[15] আহমদ (৪ / ১৬); আত-তায়ালাসী (১ / ২৭); ইবনু খুযাইমা, পৃ. ১৩২; ইবনু হিব্বান (১ / ২৫৩); তাবারানী, আল-কাবীর (৫ / ৪৩), আর হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. এর শর্তের আলোকে বর্ণিত ও প্রতিষ্ঠিত। হাফেয ইবনু কাছীর র. ‘আন-নেহায়া’ (২ / ১০৮) গ্রন্থে বলেন: হাফেয জিয়া বলেন, এটা আমার নিকট বিশুদ্ধ হাদিসের শর্তের আলোকে বর্ণিত।
[16] বুখারী, মাগাযী অধ্যায় (كتاب المغازي), পরিচ্ছেদ: আওতাস যুদ্ধ প্রসঙ্গে (باب غزوة أوطاس), হাদিস নং- ৪০৬৮।
[17] মুসলিম, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হলে তার চক্ষু বন্ধ করে দেওয়া ও তার জন্য দো‘য়া করা প্রসঙ্গে (باب فِى إِغْمَاضِ الْمَيِّتِ وَالدُّعَاءِ لَهُ إِذَا حُضِرَ), হাদিস নং- ২১৬৯
[18] বুখারী, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযিলত (كتاب فضائل الصحابة), পরিচ্ছেদ: আবূ তালিবের কাহিনী (باب قصة أبي طالب), হাদিস নং- ৩৬৭০; মুসলিম (১/১৯৪)
[19] বুখারী, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযিলত (كتاب فضائل الصحابة), পরিচ্ছেদ: আবূ তালিবের কাহিনী (باب قصة أبي طالب), হাদিস নং- ৩৬৭২
[20] বুখারী, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মুশরিক ব্যক্তির মৃত্যুকালে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ উচ্চারণ প্রসঙ্গে (باب إذا قال المشرك عند الموت لا إله إلا الله), হাদিস নং- ১২৯৪
[21] মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ঈমানের প্রথম বিষয় হল ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা (باب أَوَّلُ الإِيمَانِ قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ), হাদিস নং- ১৪৩; তিরমিযী (৪ / ১৫৯); আহমদ (২ / ৪৪১)।
[22] মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ঈমানের প্রথম বিষয় হল ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা (باب أَوَّلُ الإِيمَانِ قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ), হাদিস নং- ১৪৪
[23] আবূ দাউদ (৩/ ৫৪৭); নাসায়ী (১ / ৯২); আহমদ (১/৯৭); আর হাদিসটি হাসান পর্যায়ের; দেখুন: আলবানী, ‘আহকামুল জানায়েয’। আর যিনি আবূ তালিবের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে শি‘য়াদের সন্দেহ-সংশয়সমূহের জবাবের ব্যাপারে আরও বেশি জানতে চান, তার জন্য আবশ্যক হল ইবনু হাজার ‘আসকালানী’র ‘আল-ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা’ [الإصابة في تمييز الصحابة] (৪ / ১১৫) এবং ‘ফাতহুল বারী বিশরহে সহীহিল বুখারী’ (فتح الباري بشرح صحيح البخاري)।
[24] সা‘দান চতুর্পাশ্বে কাঁটা বিশিষ্ট এক প্রকার গাছ, মরু অঞ্চলে জন্মে, যার কাঁটাগুলো বাঁকা হয়ে থাকে। এগুলো উটের খাদ্য।
[25] বুখারী, অধ্যায়: সালাতের বিবরণ (كتاب صفة الصلاة), পরিচ্ছেদ: সিজদার ফযিলত (باب فضل السجود), হাদিস নং- ৭৭৩
[26] বুখারী, অধ্যায়: আল্লাহর একত্ববাদ (كتاب التوحيد), পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “সেদিন কোন কোন মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে; তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে।” (باب قول الله تعالى ﴿ وجوه يومئذ ناضرة . إلى ربها ناظرة ﴾ / القيامة), হাদিস নং- ৭০০১
[27] মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: শাফা‘আত ও তাওহীদবাদীদের জাহান্নাম থেকে উদ্ধার লাভের প্রমাণ (باب إِثْبَاتِ الشَّفَاعَةِ وَإِخْرَاجِ الْمُوَحِّدِينَ مِنَ النَّارِ), হাদিস নং- ৪৭৭
[28] কিরাত ( قيراط ) হল ওজনবিশেষ, কোন বস্তুর এক-চব্বিশাংশ, কারো মতে দিরহামের এক-দ্বাদশাংশ, এক-দশমাংশ দিনারের অর্ধেক, আঙুলের প্রশস্ততা পরিমাণ। — আরবী - বংলা অভিধান, ২য় খণ্ড, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ।
[29] আহমদ (৩ / ৩২৫); এটি হাসান হাদিস।
[30] বুখারী, রিকাক (কোমল) অধ্যায় (كتاب الرقاق), পরিচ্ছেদ: জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা (باب صفة الجنة والنار), হাদিস নং- ৬১৯৮
[31] আহমদ (৫ / ৪০২); ইবনু খুযাইমা, পৃ. ২৭৫; তার সনদটি সহীহ; হাইছামী ও ইবনু হাজার তাকে বিশুদ্ধ বলেছেন।
[32] ইবনু হিব্বান, ‘আস-সহীহ, পৃ. ৬৪৫; তার সনদটি সহীহ।
[33] তিরমিযী (৪ / ৪৬); আহমদ (৩ / ২০ এবং ৬৩); আর হাদিসটি অন্য হাদিসের সমর্থনের কারণে হাসান।
[34] আহমদ (৪ / ২১২)। (তবে হাদীসের সনদ দুর্বল, যদিও এর প্রথম অংশের জন্য আরও শাহেদ পাওয়া যায়। কিন্তু দ্বিতীয় অংশ দুর্বল। [সম্পাদক])
[35] উদ্দেশ্য, মুসলিম স্বামী-স্ত্রী। [সম্পাদক]
[36] আহমদ (৫ / ৩১২); ইবনু খুযাইমা, পৃ. ৩১৩; ইবনু মাজাহ (২ / ১৪৪৬); তাবারানী, আল-কাবীর (৩ / ৩০১); হাকেম (১ / ৭১); তিনি (হাকেম) হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবীও একই কথা বলেছেন; আর হাফেজ ইবনু হাজার ‘আল-ইসাবা’ গ্রন্থের মধ্যে হারেস ইবন আকইয়াশের জীবনী’র মধ্যে বলেছেন: তার সনদ বিশুদ্ধ।
[37] আসলে রবী‘আ কখনও মুদার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, তারা দু’জন নাযার ইবন মা‘আদ ইবন আদনান এর ছেলে। দু’ ছেলে থেকে দু’টি গোত্রের উৎপত্তি হয়েছে। তাই এ প্রশ্ন বাহুল্য। এ জন্যই কোনো কোনো বর্ণনাকারী এ শেষাংশটুকু বর্ণনা করেন নি। [সম্পাদক]
[38] আহমদ (৫ / ২৫৬); ইবনু খুযাইমা, পৃ. ৩১৩; তাবারানী (৮ / ১৬৯); আর হাদিসটি হাসান পর্যায়ের, যেমনটি হাফেয ইরাকী বলেছেন, ফয়যুল কাদির (৪ / ১৩০)। (তবে হাদীসের শেষাংশ দুর্বল। [সম্পাদক])
[39] আহমদ (৩ / ৪৬৯) এবং (৫ / ৩৬৬); তিরমিযী; ইবনু মাজাহ (২ / ১৪৪৪); দারেমী (২ / ৩২৮); হাকেম হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন (১ / ৭০); হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্তের আলোকে গ্রহণযোগ্য। (হাদীসে বর্ণিত, আমি ছাড়াই এর অর্থ হচ্ছে, সে ব্যক্তিটি আমি নই, আমার উম্মতের একজন লোক। [সম্পাদক])
[40] আহমদ (৪ / ৩৫৭); হাদিসটির সনদ বিশুদ্ধ।
[41] ইবনু আবি ‘আসেম, ‘আস-সুন্নাহ’ (২ / ৩৮৫); তাবারানী; আবূ আহমদ হাকেম; আর হাফেয ইবনু হাজার ‘আল-ইসাবা’ গ্রন্থের মধ্যে হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন।
[42] মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ঈমানসহ তার ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ ব্যতীত আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নাম তার জন্য হারাম হয়ে যাবে (باب مَنْ لَقِىَ اللَّهَ بِالإِيمَانِ وَهُوَ غَيْرُ شَاكٍّ فِيهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَحَرُمَ عَلَى النَّارِ), হাদিস নং- ১৫১; তিরমিযী (৪ / ১৩২); আহমদ (৬ / ৩১৮)।
[43] এটি একটি ব্যক্তিগত ইজতেহাদ। এর উপর ভিত্তি করে যেন কেউ তার সন্তানদের মৃত্যু কামনা না করে। কারণ, সন্তানরা আল্লাহর নে‘আমত। তারা কোন অবস্থায় বেশি কাজে আসবে সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। হয়ত: এমন হবে যে, সে সন্তান বড় হয়ে জগদ্বিখ্যাত আলেম হবে ও ভালো কাজ করবে এবং তার পিতা-মাতা তার কর্মকাণ্ডকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবরে বসে পেতে থাকবে। [সম্পাদক]
[44] ইবনু খুযাইমা, পৃ. ৩১৫; তার সনদ সহীহ।
[45] আবূ দাউদ (৩ / ৩৪); ইবনু হিব্বান, পৃ. ৩৮৮; বায়হাকী (৯ / ১৬৪); আলবানী তার ‘সহীহ আল-জামে’ ( صحيح الجامع ) –এর মধ্যে হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, হাদিস নং- ৪৯৭৯
[46] ‘মহাভীতি’ বলে শিঙ্গার ফুঁৎকার বোঝানো হয়েছে। - [ইবন কাসীর]
[47] তিরমিযী (৩ / ১০৬); ইবনু মাযাহ (২ / ৯৩৫); আহমদ (৩ / ১৩১); আল-আজরী ফী আশ-শরী‘য়ত (الاجري في الشريعة), পৃ. ৩৪৯; আর হাদিসটি হাসান।
[48] আল-বাযার, কাশফুল আসতার (২ / ৮); হাইছামী, আল-মাজমা (৪ / ২৭৫); আল-বাযার বর্ণনা করেন যে, হাদিসের বর্ণনাকারীগণ সকলেই বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।
[49] আহমদ (২ / ৫০৯); তার সনদ সহীহ।
[50] মুসলিম (৪ /২০২৯)।
[51] আহমদ (২ / ৫১০); নাসাঈ (৪ / ২২); বায়হাকী; আর হাদিসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত।
[52] আহমদ (৪ / ১০৫); আল-ফাসাবী, আল-মা‘রেফাতু ওয়াত তারিখ [ المعرفة و التاريخ ] (২ / ৩৪৩); হাইছামী, আল-মাজমা‘ (৩ / ১১); ইমাম আহমদের বর্ণনার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।
[53] আল-মুনযেরী, তার তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে পিতার নাম উল্লেখ করেছেন। [সম্পাদক]
[54] অর্থাৎ সেটার দানা এত বড় হবে। [সম্পাদক]
[55] আল-মু‘জামুল আওসাত ( المعجم الأوسط ), ১ম খণ্ড, পৃ. ১৩৬; তাবারানী; আল-ফাসাবী, আল-মা‘রেফাতু ওয়াত তারিখ [ المعرفة و التاريخ ] (২ / ৩৪১); হাফেয আল-মাকদাসী বলেন: এই হাদিসের কোন দুর্বলতা বা ত্রুটি আমার জানা নেই। (শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীবে এ হাদীসকে সহীহ লি গাইরিহী বলেছেন। [সম্পাদক])
[56] আহমদ (৫ / ৩৫); আর হাদিসের বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।
[57] তিরমিযী (৪ / ২৩৮); আবূ দাউদ (২ / ১১৯); ইবনু মাজাহ (২ / ১২৪৪); আহমদ (২ / ৩২১); ইবনু হিব্বান, পৃ. ৩২১; হাকেম (১ / ৫৬৫); আর এটা হাসান হাদিস।
[58] দারেমী (২ / ৪৩৩); আবদুর রাজ্জাক, আল-মুসান্নাফ (৩ / ৩৭৩); তাবারানী, আল-কাবীর (৯ / ১৪১); সহীহ সনদে আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে ‘মাওকুফ’ হাদিস হিসেবে বর্ণিত।
[59] হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মাওকুফ সনদে বর্ণিত; আর জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে ‘মারফু’ সনদে হাদিসটি বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত। দেখুন, ইবন হিব্বান, ১০/১৯৮, হাদীস নং ১০৪৫০; আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ, ২০১৯; সহীহুল জামি‘উ, ৪৪৪৩। [সম্পাদক]
[60] অথবা জাদুকরের জাদু এর পাঠকারীর উপর ক্রিয়া করে না। [সম্পাদক]
[61] মুসলিম (১ / ৫৫৩); আহমদ (৫ / ২৪৯)
[62] দারেমী (২ / ৪৩০); তার সনদ হাসান পর্যাযের।
[63] আহমদ (২ / ১৭৪); ইবনু নসর, ‘কিয়ামুল লাইল’ ( قيام الليل), পৃ. ২৫; হাকেম (১ / ৫৫৪) এবং তিনি বলেন: হাদিসটি ইমাম মুসলিম র. এর শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত; আলবানী তার ‘সহীহ আল-জামে’ ( صحيح الجامع ) –এর মধ্যে হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, হাদিস নং- ৩৭৭৬
[64] দারেমী (২ / ৪৩০); তিরমিযী (২ / ২৪৯) এবং তিনি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন; হাকেমের নিকট হাদিসটির অপর আরেকটি সনদ রয়েছে (১ / ৫৫২); আবূ না‘ঈম (৭ / ২০৬) এবং হাদিসটি হাসান।
[65] ইয়াযিদের সেনাপতি কর্তৃক মদীনা আক্রান্ত হয়ে সেখানকার মানুষ অমানষিক কষ্টের মধ্যে পড়েন। সে ঘটনায় মদীনার হাররায় বহু লোক মারা যায়। ইতিহাসে সেটা ‘হাররা’র ঘটনা নামে খ্যাত। [সম্পাদক]
[66] মুসলিম (২ / ১০০২); আহমদ (৩ / ২৯)।
[67] মুসলিম (২ / ১০০৪)
[68] আর তা হল ইয়াযিদের যামানায় সংঘটিত উত্তপ্ত পরিস্থিতি।
[69] মুসলিম (২ / ১০০৪)
[70] ইবনু হিব্বান, পৃ. ২৫৫; হাদিসটি ইমাম মুসলিম র. এর শর্তের ভিত্তিতে বর্ণিত।
[71] আহমদ (২ / ৭৪ এবং ১০৪); তিরমিযী (৫ / ২৭৭) এবং তিনি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
[72] মুসলিম, অধ্যায়: সালাত (كتاب الصلاة), পরিচ্ছেদ: আযানের জবাবে মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলা মুস্তাহাব; এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা এবং তাঁর জন্য ওসীলা’র দো‘য়া করা (باب اسْتِحْبَابِ الْقَوْلِ مِثْلَ قَوْلِ الْمُؤَذِّنِ لِمَنْ سَمِعَهُ ثُمَّ يُصَلِّى عَلَى النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- ثُمَّ يَسْأَلُ اللَّهَ لَهُ الْوَسِيلَةَ), হাদিস নং- ৮৭৫
[73] তাবারানী; আর ইসমাঈল কাযী তার ‘ফাদলুস সালাত ‘আলান নাবিয়্যে সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ (فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم ) –এর মধ্যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৫০ এবং তার সনদটি হাসান, আর তার সমর্থনে অন্য বর্ণনাও রয়েছে।
[74] ইসমাঈল কাযী তার ‘ফাদলুস সালাত ‘আলান নাবিয়্যে সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ (فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم ) –এর মধ্যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৫৩; তাবারানী, আল-কাবীর (৫ / ১৪); আহমদ (৪/১০৭); মুনযেরী তার ‘আত-তারগীব’ গ্রন্থে হাদিসটিকে হাসান বলেছেন (২/৫০৫): হাইছামী, আল-মাজমা‘ [ المجمع ] (১ / ১৬৩)। (তবে সঠিক কথা হচ্ছে, হাদীসটি দুর্বল। শাইখুল আলবানী এবং শাইখ শু‘আইব আল-আরনাউত্ব উভয়েই হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। [সম্পাদক])
[75] তাবারানী, আল-মু‘জাম আল-কাবীর [ المعجم الكبير ] (৫ / ১৪); আবূ ‘আসেম আস-সুন্নাহ্‌। শাইখ আলবানী তার ‘সহীহ আল-জামে’ (صحيح الجامع) –এর মধ্যে হাদিসটিকে হাসান বলেছেন, হাদিস নং- ৬২৩৩
[76] বুখারী, অধ্যায়: আযান (كتاب الأذان), পরিচ্ছেদ: আযানের সময়কালীন দো‘য়া (باب الدعاء عند النداء), হাদিস নং- ৫৮৯
[77] ত্বাহাবী, ‘শরহু মা‘আনীল আসার [شرح معاني الآثار] (১/১৪৫); তাবারানী, আল-কাবীর [الكبير] (১০/১৬); হাইছামী বলেন: হাদিসের বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য; আর ইবনুস সুন্নী’র ‘আমালুল ইয়াওমে ওয়াল লাইলাহ্‌ গ্রন্থে এর সমর্থনে আরও একটি বর্ণনা রয়েছে, পৃ. ৪৭ এবং ৫৮।
[78] মুসলিম, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তির উপর একশত ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করবে, তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণীয় হবে (باب مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ مِائَةٌ شُفِّعُوا فِيهِ), হাদিস নং- ২২৪১
[79] মুসলিম, জানাযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তির উপর চল্লিশ ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করবে, তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণীয় হবে (باب مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ أَرْبَعُونَ شُفِّعُوا فِيهِ ), হাদিস নং- ২২৪২
[80] ইবনু মাজাহ (১/৪৭৭), তার সনদ সহীহ; আলবানী তাকে সহীহ বলেছেন।
[81] নাসাঈ (৪ / ৬২); বুখারী, আল-কাবীর [الكبير] (৫ / ১১২); আহমদ (৬ / ৩৩১); ইবনু আবি শায়বা, আল-মুসান্নাফ (৩ / ৩২১); অন্য বর্ণনার সমর্থনের কারণে এই হাদিসটি হাসান পর্যায়ের ইনশাআল্লাহ।
[82] আহমদ (৩/৫০০); হাইছামী তার ‘মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ’ (مجمع الزوائد) –এর ২য় খণ্ডের ২৪৯ পৃষ্ঠায় বলেন: তার বর্ণনাকারীগণ বিশুদ্ধ হাদিসের বর্ণনাকারী।
[83] তাবারানী, বাগবী ও আল-বাযার; হাইছামী বলেন: তাবারানী বর্ণনা করেন এবং তার বর্ণনাকারীগণ বিশুদ্ধ হাদিসের বর্ণনাকারী। পূর্ববর্তী হাদিসটি তার সমর্থক এবং ফাতিমা বিনতে হোসাইনের বর্ণিত মুরসাল হাদিসটিও তার সমর্থক; ইবনুল মুবারক, আয-যুহুদ ( الزهد ), পৃ. ৪৫৫
[84] মুসলিম (৪ / ২০০৬)
[85] বুখারী (৩ / ৩৯৯); মুসলিম (৪ / ২০২৬)
[86] বুখারী (৩ / ৩৯৯); মুসলিম (৪ / ২০২৬)
[87] আবূ দাউদ (৫ / ৩৪৭); নাসায়ী (৫ / ৫৮); তার সনদ সহীহ।
[88] অনুরূপ রয়েছে ‘আল-মুসনাদ’ এর মধ্যে, ২য় খণ্ড, পৃ. ২১৮; সীরাতে ইবনে হিশাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৯২; আল-বিদায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৫৩। সুতরাং বনু সুলাইম বলেছে: না, যা আমাদের জন্য রয়েছে, তা তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য; তিনি বলেন: আব্বাস বলেছেন: হে বনু সুলাইম! তোমরা আমাকে দুর্বল করে দিয়েছ।
[89] আহমদ (২ / ১৮৪); ইবনু ইসহাক, যেমন সীরাতে ইবনে হিশামের মধ্যে (২ / ২ / ৪৮৯) রয়েছে; আর সনদের মধ্যে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ।
[90] বুখারী, তালাক অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: বারীরার স্বামীর ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ (باب شفاعة النبي صلى الله عليه وسلم على زوج بريرة), হাদিস নং-৪৯৭৯
[91] বুখারী (৬ / ৫১৩); মুসলিম (৩ / ১৩১৫)
[92] আবূ দাউদ (৪/২৩); আহমদ (২/৭০); হাকেম (২ / ২৭); বায়হাকী (৮/২৩২); হাকেম বলেন: সনদটি বিশুদ্ধ এবং তাকে ইমাম যাহাবী স্বীকৃতি দিয়েছেন; তার সমর্থনে ইমাম আহমদের মতে আবদুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা’র বর্ণিত হাদিস রয়েছে (২/৮২); সুতরাং হাদিসটি সহীহ।
[93] দারাকুতনী (৩ / ২০৫); হাইছামী, আল-মাজমা‘ (৬ / ২৫৯); তাবারানী, ‘আল-কাবীর’ ও ‘আল-আওসাত’ এবং তাতে আবূ গুযাইয়া নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছে, যাকে আবূ হাতেম ও অন্যান্যরা দুর্বল বলেছেন, আর হাকেম তাকে সিকা বা নির্ভরযোগ্য বলেছেন, হাযেমী র. বলেছেন: হাদিসটির সমর্থনে ইমাম মালেক র. এর ‘মুয়াত্তা’র মধ্যে হাদিস রয়েছে (৩ / ৪৯); আর বায়হাকী র. এর নিকট তার সনদে কোন সমস্যা নেই; আর দারাকুতনী’র মতে, এই হাদিসটির সমর্থনে আর একটি হাদিস সাফওয়ান ইবন উমাইয়া থেকে বর্ণিত আছে (৩ / ২০৪)।
[94] বায়হাকী (৮ / ৩৩৩), আর তার সনদের বর্ণনাকারীগণ সকলেই বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।
[95] দেখুন: জামে‘উ বয়ানিল ‘ইলম ওয়া ফাদলুহু ( جامع بيان العلم و فضله ), পৃ. ৫২; কাযী ‘আইয়ায, আল-আলমা‘উ (الألماع ), পৃ. ২৩; ইরাকীর তাখরীজসহ ‘ইহইয়াউ ‘উলুমিদ দীন ( إحياء علوم الدين ) [১ / ১৫]; ইবনুল জাওযী, আল-‘ইলালুল মুতানাহিয়্যা [ العلل المتناهية ] (১ / ১১১)।
[96] দেখুন: হাফেয ইবনু হাজার ‘আসকালানী, ‘লিসানুল মীযান’ ( لسان الميزان )
[97] দেখুন: হাফেয ইবনু হাজার ‘আসকালানী, ‘লিসানুল মীযান’ ( لسان الميزان )
[98] তার সনদে মুগীরা ইবন কায়েস নামে এক বর্ণনাকারী রয়েছে, যার ব্যাপারে আবূ হাতেম বলেন: সে মুনকার হাদিস বর্ণনাকারী; আর তার সনদের মধ্যে ইয়াহইয়া আল-কাদাহ নামে এক বর্ণনাকারী রয়েছে, যার অনেকগুলো মুনকার হাদিস রয়েছে।

No comments:

Post a Comment