দর্শক সংখ্যা

Sunday, February 10, 2013

কেয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর-৮

কেয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর-৮

প্রথম যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে-- হাদীসে এসেছে-
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عرضت علي الأمم . فرأيت النبي ومعه الرهيط . والنبي ومعه الرجل والرجلان . والنبي ليس معه أحد . إذ رفع لي سواد عظيم . فظننت أنهم أمتي . فقيل لي : هذا موسى صلى الله عليه وسلم وقومه . ولكن انظر إلى الأفق . فنظرت . فإذا سواد عظيم . فقيل لي : انظر إلى الأفق الآخر . فإذا سواد عظيم . فقيل لي : هذه أمتك . ومعهم سبعون ألفا يدخلون الجنة بغير حساب ولا عذاب " . ثم نهض فدخل منزله . فخاض الناس في أولئك الذين يدخلون الجنة بغير حساب ولا عذاب . فقال بعضهم : فلعلهم الذين صحبوا رسول الله صلى الله عليه وسلم . وقال بعضهم : فلعلهم الذين ولدوا في الإسلام ولم يشركوا بالله . وذكروا أشياء . فخرج عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال : " ما الذي تخوضون فيه ؟ " فأخبروه . فقال " هم الذين لا يرقون . ولا يسترقوون . ولا يتطيرون . وعلى ربهم يتوكلون " فقام عكاشة بن محصن . فقال : ادع الله أن يجعلني منهم . فقال " أنت منهم " ثم قام رجل آخر فقال : ادع الله أن يجعلني منهم . فقال " سبقك بها عكاشة. رواه البخاري ومسلم.
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম সা বলেছেন: কেয়ামতের দিন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির মানুষদের কিভাবে হাজির করা হবে তার একটি চিত্র আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম একজন নবী আসলেন তার সাথে দশ জনের কম সংখ্যক অনুসারী। আরেকজন নবী আসেলন, তার সাথে একজন বা দুজন অনুসারী। আবার আরেকজন নবী আসলেন তার সাথে কোন অনুসারী নেই। এরপর দেখলাম বড় একদল মানুষকে আনা হল। আমি ধারনা করলাম এরা আমার অনুসারী হবে। কিন্তু আমাকে বলা হল, এরা মূছা আলাইহিস সালাম ও তার অনুসারী। আমাকে বলা হল, আপনি অন্য প্রান্তে তাকান। আমি তাকালাম। দেখলাম বিশাল একদল মানুষ। আমাকে বলা হল, এবার অন্য প্রান্তে তাকান। আমি তাকালাম। দেখলাম, সেখানেও বিশাল একদল মানুষ। আমাকে বলা হল, এরা সকলে আপনার অনুসারী। এবং তাদের মধ্যে সত্তর হাজার মানুষ এমন আছে, যারা কোন হিসাব-নিকাশ ও শাস্তি ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ কথাগুলো বলার পর
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে তাঁর ঘরে গেলেন। উপস্থিত লোকজন এ সকল লোক কারা হবে এ নিয়ে বিতর্ক জুড়ে দিল। কেহ কেহ বললো, তারা হবে ঐ সকল মানুষ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেছে। কেহ বললো, তারা হবে ঐ সকল মানুষ যারা ইসলাম নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছে আর কখনো শিরক করেনি। আবার অনেকে অন্য অনেক কথা বললো। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে আসলেন। বললেন, তোমরা কি নিয়ে বিতর্ক করছিলে? তখন তারা বলল, ঐ সকল লোক হবে কারা এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ঐ সকল লোক হলো তারা. যারা ঝাড়-ফূঁক করে না। ঝাড়-ফূঁক করতে যায় না। যারা কুলক্ষণ সুভ লক্ষণে বিশ্বাস করে না। আর শুধু তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর (তাওয়াক্কুল) করে। এ কথা শুনে উকাশা ইবনে মিহসান দাড়িয়ে গেলেন আর বললেন, হে রাসূল! আপনি আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এ সকল লোকদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেলে। এরপর আরেকজন দাড়িয়ে বললেন, হে রাসূল! আপনি আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকেও এ সকল লোকদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উকাশা তোমাকে ছাড়িয়ে গেছে। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)  
হাদীসটি থেকে আমরা যা জানতে পারি:  
এক. অন্যান্য নবীদের অনুসারীদের তুলনায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারীদের সংখ্যা হবে অনেক বেশী।  
দুই. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারীদের মধ্যে সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাব ও কোন শাস্তি ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ করবে।
 তিন. শরীয়ত অনুমোদিত ঝাড়-ফুঁক বৈধ। আর যে সকল ঝাড়-ফুঁক শরীয়ত অনুমোদন করে না তা নিষিদ্ধ। বৈধ ঝাড়-ফুঁক করা বা করানো তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। তবে এগুলো পরিহার করে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলার উপর নির্ভর করা হলো তাওয়াক্কুলের একটি শীর্ষ স্থান। যারা এ শীর্ষ স্থানের অধিকারী হতে পারবে তারা বিনা হিসাবে জান্নাত লাভের সৌভাগ্য অর্জন করবে।
 চার. কোন কিছু দেখে বা কোন কিছু করে তার মাধ্যমে শুভ অশুভ নির্ণয় করা জায়েয নয়।  
পাঁচ. কুরআন বা হাদীসের কোন বিষয় নিয়ে বিতর্ক বা আলোচনা করা দোষের কিছু নয়। সাহাবীগন যখন এ ভাগ্যবান মানুষগুলো কারা হবেন এ বিষয় নিয়ে বিতর্ক করছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিষেধ করেননি। বা বিতর্ক করা ঠিক নয় বলে কোন মন্তব্য করেননি।
 ছয়. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব ব্যাপারে মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রবর্তন করেছেন। তার সমকালে কোন রাজা-বাদশা বা ধর্মীয় নেতারা তাদের লোকদের এভাবে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দেননি। কারো মতামত ভুল হলেও তিনি তা প্রকাশ করার জন্য উৎসাহ দিতেন। কাউকে মতামত প্রকাশে বাধা প্রদান করেননি।  
সাত. কোন বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুআ করতে বলা শরীয়ত অনুমোদিত কাজ বলে স্বীকৃত ছিল যতদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত ছিলেন। যেমন; আমরা এ হাদীসে দেখলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে উক্কাশা রা. দুআ চেয়েছেন। এমনিভাবে জীবিত কোন আলেম বা বুযুর্গ ব্যক্তির কাছে যে কোন ব্যাপারে দুআ চাওয়া যায়। কিন্তু কোন মৃত নবী বা অলীর কাছে কোন ব্যাপারে দুআ চাওয়া যায় না।  
আট. এ হাদীসটি আমাদের সকলকে যথাযথভাবে আল্লাহ তাআলার উপর তাওয়াক্কুল করা ও তাওয়াক্কুলের শীর্ষস্থানে পৌঁছে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে।  
জান্নাতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মর্যাদা-- হাদীসে এসেছে-
عن المغيرة بن شعبة يرفعه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: سأل موسى ربه : ما أدنى أهل الجنة منزلة ؟ قال : هو رجل يجيء بعد ما أدخل أهل الجنة الجنة فيقال له : ادخل الجنة . فيقول أي رب ! كيف ؟ وقد نزل الناس منازلهم وأخذوا أخذاتهم ؟ فيقال له : أترضى أن يكون لك مثل ملك ملك من ملوك الدنيا ؟ فيقول : رضيت ، رب ! فيقول : لك ذلك ومثله ومثله ومثله ومثله . فقال في الخامسة : رضيت ، رب ! فيقول : هذا لك وعشرة أمثاله . ولك ما اشتهت نفسك ولذت عينك . فيقول : رضيت ، رب ! قال : رب ! فأعلاهم منزلة ؟ قال : أولئك الذين أردت غرست كرامتهم بيدي . وختمت عليها . فلم تر عين ولم تسمع أذن ولم يخطر على قلب بشر . قال ومصداقه في كتاب الله عز وجل : { فلا تعلم نفس ما أخفي لهم من قرة أعين } . رواه مسلم.
মুগীরা ইবনে শোবা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মুসা আলাইহিস সালাম তার প্রতিপালককে জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাতবাসীদের মধ্যে সর্বনিম্ন মর্যাদার লোকটি মর্যাদা কি রকম হবে? আল্লাহ তাআলা বললেন: সে হল এমন এক ব্যক্তি, জান্নাতের অধিবাসীদের জান্নাতে প্রবেশ করানোর পর আমি তাকে বলবো, তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে, হে প্রভূ! কিভাবে আমি জান্নাতে প্রবেশ করবো যখন সকলকে নিজ নিজ মর্যাদা অনুযায়ী স্থান নিয়ে গেছে এবং তাদের পাওনাগুলো গ্রহণ করেছে? তখন তাকে বলা হবে, দুনিয়ার সম্রাটদের মত একজন সম্রাটের যা থাকে তোমাকে সে পরিমাণ দেয়া হলে তুমি কি সন্তুষ্ট হবে? সে উত্তরে বলবে হে প্রভূ, আমি সন্তুষ্ট হবো। আল্লাহ তাআলা বলবেন: তোমাকে সে পরিমাণ দেয়া হবে, তারপরও সে পরিমাণ আবার দেয়া হবে, তারপরও সে পরিমাণ আবার দেয়া হবে তারপর আবার সে পরিমাণ দেয়া হবে। পঞ্চমবার সে বলবে, হে প্রভু আমি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তাহলে এ পরিমাণ তোমার সাথে এর আরো দশগুণ তোমাকে দেয়া হলো। আর তোমার জন্য রয়েছে যা তোমার মন কামনা করে আর যা তোমার চোখ দেখতে চায়। সে বলবে, হে প্রভু আমি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। তারপর মুসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আর সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তির স্থান কেমন হবে? আল্লাহ তাআলা বললেন: তারা হলো. যাদের মর্যাদার বীজ আমি নিজ হাতে বপন করেছি এবং তার উপর সীলমোহর এঁটে দিয়েছি। কাজেই সেখানের মর্যাদা ও সুখ-শান্তি এমন যা কোনদিন কোন চোখ দেখেনি। কোন কান শোনেনি। কোন মানুষের অন্তর তার কল্পনা করেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: এর সত্যতা তোমরা আল্লাহ তাআলার এ বাণীতে পেতে পারো যেখানে তিনি বলেছেন :
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ
অতএব কোন ব্যক্তি জানে না চোখ জুড়ানো কি জিনিষ তাদের জন্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে। (বর্ণনায় : মুসলিম) হাদীসে আরো এসেছে-
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال الله تبارك وتعالى : أعددت لعبادي الصالحين : ما لا عين رأت ، ولا أذن سمعت ، ولا خطر على قلب بشر . قال أبو هريرة : اقرؤوا إن شئتم : { فلا تعلم نفس ما أخفي لهم من قرة أعين}. رواه البخاري ومسلم.
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি আমার সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্য এমন বস্তু প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি। আর যা কোন কান শোনেনি। এবং কোন মানুষের অন্তর তা কল্পনা করতে সক্ষম হয়নি। আবু হুরাইরা রা. বলেন: তোমরা চাইলে এ আয়াতটি পাঠ করতে পারো :
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ
অতএব কোন ব্যক্তি জানে না চোখ জুড়ানো কি জিনিষ তাদের জন্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)  

জান্নাতের গেটের আলোচনা জান্নাতের আটটি গেট রয়েছে। গেটগুলো এত বিশাল যে, একটি গেটের দুপাটের মধ্যে দুরত্ব হল মক্কা থেকে হিজর পর্যন্ত (প্রায় ১১৬০ কিলোমিটার) অথবা মক্কা থেকে বসরা পর্যন্ত (প্রায় ১২৫০ কি.মি) প্রত্যেক সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের তাদের আমল অনুযায়ী বিশেষ বিশেষ গেট থেকে আহবান করা হবে। যে ছদকাহ করেছে তাকে ছদকার গেট থেকে আহবান করা হবে। যে রোযা রেখেছে তাকে রাইয়ান নামক গেট থেকে আহবান করা হবে। জান্নাতের গেট সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ. سورة الزمر : 73)
আর যারা তাদের রবকে ভয় করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন সেখানে এসে পৌঁছবে এবং এর গেটসমূহ খুলে দেয়া হবে তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা ভাল ছিলে। অতএব স্থায়ীভাবে থাকার জন্য এখানে প্রবেশ কর।’(সূরা যুমার, আয়াত ৭৩) এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, জান্নাতে অনেকগুলো গেট আছে। জান্নাতের গেট সম্পর্কে হাদীসে আরো এসেছে
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : من أنفق زوجين في سبيل الله ، نودي من أبواب الجنة : يا عبد الله هذا خير ، فمن كان من أهل الصلاة دعي من باب الصلاة ، ومن كان من أهل الجهاد دعي من باب الجهاد ، ومن كان من أهل الصيام دعي من باب الريان ، ومن كان من أهل الصدقة دعي من باب الصدقة . فقال أبو بكر رضي الله عنه : بأبي وأمي يا رسول الله ، ما على من دعي من تلك الأبواب من ضرورة ، فهل يدعى أحد من تلك الأبواب كلها ؟ . قال : نعم ، وأرجو أن تكون منهم. رواه البخاري ومسلم.
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে দুটো বিষয় (প্রাণ ও সম্পদ) আল্লাহর পথে খরচ করেছে তাকে জান্নাতের গেট থেকে ডাক দিয়ে বলা হবে, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার জন্য এটা কল্যাণকর। যে নামাজী হবে তাকে নামাজের দরজা থেকে ডাকা হবে। আর যে জিহাদকারী তাকে জিহাদের গেট থেকে ডাকা হবে। সিয়াম পালনকারীকে রাইয়ান নামক গেট থেকে ডাকা হবে। যে ছদকা করেছে তাকে ছদকার গেট থেকে ডাকা হবে। এ কথা শুনে আবু বকর রা. প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ -আপনার প্রতি আমার পিতা মাতা উৎসর্গ হোক- যাকে এ সকল গেট থেকে ডাকা হবে সে কি কোন অনুবিধার সম্মুখীন হবে? আর এমন কোন লোক পাওয়া যাবে যাকে জান্নাতের সকল গেট থেকে ডাকা হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হ্যাঁ, পাওয়া যাবে। আমি আশা করি তুমি তাদের একজন। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম) এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম, এমন কিছু নেককার মানুষ থাকবেন যাদেরকে জান্নাতে সকল গেট ও দরজা দিয়ে ডাকা হবে। জান্নাতের সকল কপাট তাদের জন্য খোলা থাকবে। আর এ সকল ভাগ্যবানদের একজন হলেন, খলীফাতুল মুসলিমীন আবু বকর সিদ্দীক রা.। কারণ তিনি সকল নেক আমলই সম্পাদন করতেন। কোন নেক আমলই ত্যাগ করতন না। এ সম্পর্কে একটি হাদীসে এসেছে
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من أصبح منكم اليوم صائما ؟ قال أبو بكر رضي الله عنه : أنا . قال : فمن تبع منكم اليوم جنازة ؟ قال أبو بكر رضي الله عنه : أنا . قال فمن أطعم منكم اليوم مسكينا ؟ قال أبو بكر رضي الله عنه . أنا . قال : فمن عاد منكم اليوم مريضا . قال أبو بكر رضي الله عنه : أنا . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ما اجتمعن في أمريء ، إلا دخل الجنة. رواه مسلم.
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমাদের মধ্যে আজ কে রোযা রেখেছে? আবু বকর রা. বললেন, আমি রোযা রেখেছি। এরপর তিনি প্রশ্ন করলেন, কে তোমাদের মধ্যে আজ কোন মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফন ও জানাযায় অংশ নিয়েছে? আবু বকর রা. বললেন, আমি অংশ নিয়েছি। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আজ কোন অভাবী ব্যক্তিকে খাবার খাইয়েছে? আবু বকর রা. বললেন, আমি খাবার দিয়েছি। তারপর তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মধ্যে আজ কে অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করেছে? আবু বকর রা. বললেন, আমি করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: যার মধ্যে এ ভাল কাজগুলোর সমাবেশ ঘটবে জান্নাতে সে প্রবেশ করবেই। (বর্ণনায় : মুসলিম) আর এ জন্যই আবু বকর রা. কে জান্নাতের সকল গেট থেকে আহবান করা হবে। কারণ তিনি সকল প্রকার ভাল কাজ করেছেন। এ হাদীসের শিক্ষা অনুযায়ী আমাদের কর্তব্য হল, সকল প্রকার ভাল ও সৎকর্ম যা করা সম্ভব তা সম্পাদন করা। তাহলে আল্লাহ তাআলার রহমত-অনুগ্রহে আমরা এ মর্যাদা অর্জন করতে পারি। হাদীসে আরো এসেছে
عن سهل بن سعد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن في الجنة بابا يقال له الريان ، يدخل منه الصائمون يوم القيامة ، لا يدخل منه أحد غيرهم ، يقال أين الصائمون ، فيقومون لا يدخل منه أحد غيرهم ، فإذا دخلوا أغلق ، فلن يدخل منه أحد . رواه البخاري ومسلم.
সাহাল বিন সাআদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নাতে একটি গেট রয়েছে। যার নাম রাইয়ান। কেয়ামতের দিন সিয়াম পালনকারীরাই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, সিয়াম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য। যখন তারা প্রবেশ করবে দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে ফলে তারা ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম) এ হাদীস দিয়েও আমরা বুঝলাম জান্নাতে রোযাদারদের জন্য একটি বিশেষ গেট থাকবে।
 
জান্নাতের বিভিন্ন স্তর জান্নাতীদের মান মর্যাদা অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর দান করা হবে। এমনিভাবে মুজাহিদদের জন্য একশত স্তর থাকবে। অন্যান্য ঈমানদার ও আলেম উলামাদের জন্য থাকবে বিভিন্ন স্তর। এ সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَا. (سورة طه : 75)
আর যারা তাঁর নিকট আসবে মুমিন অবস্থায়, সৎকর্ম করে তাদের জন্যই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা। (সূরা তা-হা, আয়াত ৭৫)
يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ، (سورة المجادلة : 11)
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত। (সূরা আল মুজাদালাহ, আয়াত ১১)
فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿95﴾ دَرَجَاتٍ مِنْهُ وَمَغْفِرَةً وَرَحْمَةً وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿96﴾، (سورة النساء)
নিজদের জান ও মাল দ্বারা জিহাদকারীদের মর্যাদা আল্লাহ বসে থাকাদের উপর অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহ প্রত্যেককেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আল্লাহ জিহাদকারীদেরকে বসে থাকাদের উপর মহা পুরস্কার দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাঁর পক্ষ থেকে রয়েছে অনেক মর্যাদা, ক্ষমা ও রহমত। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আন নিসা, আয়াত ৯৫-৯৬) এ সকল আয়াতের সবগুলোতে আমরা দেখতে পেলাম, আল্লাহ তাআলা জান্নাতে মর্যাদার বিভিন্ন স্তর রেখেছেন। তিনি নবী ও রাসূলদের পর সাধারণ মানুষদের মধ্য থেকে আলেম উলামা ও আল্লাহর পথে যারা জিহাদ করেছেন তাদের বিশেষ ও সুউচ্চ মর্যাদা দান করবেন। জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: من آمن بالله وبرسوله ، وأقام الصلاة ، وصام رمضان ، كان حقا على الله أن يدخله الجنة ، جاهد في سبيل الله ، أو جلس في أرضه التي ولد فيها . فقالوا : يا رسول الله ، أفلا نبشر الناس ؟ قال : إن في الجنة مائة درجة ، أعدها الله للمجاهدين في سبيل الله ، ما بين الدرجتين كما بين السماء والأرض ، فإذا سالتم الله فاسألوه الفردوس ، فإنه أوسط الجنة ، وأعلى الجنة - أراه - فوقه عرش الرحمن . رواه البخاري.
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে আর নামাজ কায়েম করবে ও রোযা পালন করবে আল্লাহর উপর দায়িত্ব হলো, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সে ব্যক্তি তার জন্ম ভূমিতে বসে থাকুক বা আল্লাহর পথে জিহাদ করুক (উভয় অবস্থাতে সে জান্নাতের অধিকারী হবে) সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি এ সুসংবাদটি মানুষকে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: অবশ্যই জান্নাতে একশ স্তর রয়েছে বিভিন্ন মর্যাদার। যা আল্লাহ সে সকল লোকদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছে। এক একটি মর্যাদার ব্যপ্তি হবে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যকার দুরত্বের সম পরিমাণ। যখন তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করবে তখন তোমরা জান্নাতুল ফেরদাউস চাবে। কারণ এটা জান্নাতের মধ্যবর্তী ও সুউচ্চ মর্যাদার স্থান। এর উপর রয়েছে দয়াময় আল্লাহর আরশ। (বর্ণনায় : বুখারী)  
এ হাদীস থেকে আমরা যা শিখতে পারি
এক. যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান স্থাপন করবে ও নামাজ রোযা পালন করবে তারা জান্নাতে যাবেভ
দুই. যারা আল্লাহর পথে তাঁর দীন সুউচ্চ করার লক্ষ্যে যুদ্ধ ও জিহাদ করবে তাদের মর্যাদা সবচেয়ে বেশী।
তিন. আল্লাহ তাআলার কাছে জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তথা ফেরদাউস লাভ করার জন্য প্রার্থনা করতে রাসূলের নির্দেশ।
 চার. এ হাদীসটি মুসলিমদের জন্য একটি বিরাট সুসংবাদ। সাহাবায়ে কেরাম হাদীসটি শোনার পর বলেছেন, এ সংবাদটি কি আমরা সকলের কাছে প্রচার করবো না? তাদের এ প্রশ্নের উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু বলেননি। অন্য বর্ণনায় আছে তিনি বলেছেন, তাহলে লোকদের অলসতায় পেয়ে বসবে। মোট কথা হল, যেখানে ও যখন হাদীসটি বললে লোকদের অলসতায় পেয়ে বসবে না, বরং ঈমান ও ইসলামের ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন, তখন হাদীসটি বলা উচিত। আর যখন দেখা যাবে হাদীসটি বললে এ সমাজের লোকদের মধ্যে অলসতা এসে যাবে তখন না বলা উত্তম হবে।
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يقال لصاحب القرآن : اقرأ وارق ورتل كما كنت ترتل في الدنيا ، فإن منزلتك عند آخر آية تقرأ بها، رواه الترمذي وأحمد.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল কুরআনের ধারক-বাহককে বলা হবে, পাঠ করতে থাকো আর উপরে উঠতে থাকো এবং সামনে অগ্রসর হও। যেমন তুমি দুনিয়াতে কুরআন পাঠে সামনে অগ্রসর হয়েছিলে। তোমার মর্যাদা সেখানে, যেখানে তুমি তোমার সর্বশেষ আয়াতটি পাঠ করবে। (বর্ণনায়, তিরমিজী, আহমদ। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ আল জামে নং ৩৪৯/৬) এভাবে আল কুরআনের ধারক-বাহক ; হাফেজ, কারী, আলেম, কুরআনের বাণী প্রচারক ও মুফাসসিরদের জান্নাতে সুউচ্চ মর্যাদা দান করা হবে।  

জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ مَبْنِيَّةٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ الْمِيعَادَ، (سورة الزمر : 20)
কিন্তু যারা নিজদের রবকে ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে কক্ষসমূহ যার উপর নির্মিত আছে আরো কক্ষ। তার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত। এটি আল্লাহর ওয়াদা; আল্লাহ ওয়াদা খেলাফ করেন না। (সূরা যুমার, আয়াত ২০) এ আয়াত দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম যে, জান্নাতবাসীদের জন্য জান্নাতে প্রাসাদ ও কক্ষসমূহ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। হাদীসে এসেছে-
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن أهل الجنة يتراءون أهل الغرف من فوقهم ، كما تتراءون الكوكب الدري الغابر في الأفق ، من المشرق أو المغرب ، لتفاضل ما بينهم . قالوا : يا رسول الله تلك منازل الأنبياء لا يبلغها غيرهم ، قال : بلى ، والذي نفسي بيده ، رجال آمنوا بالله وصدقوا المرسلين . رواه البخاري ومسلم.
আবু সায়ীদ আল খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নাতের কক্ষে অবস্থানরত জান্নাতবাসীরা অন্যান্য জান্নাতবাসীদের দেখবে। যেমন তোমরা পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে অস্তগামী নক্ষত্রসমূহকে দেখতে পাও। তাদের পরস্পরের মর্যাদার ভিন্নতা সত্বেও তোমরা দেখতে পাবে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, ইয়ার রাসূলাল্লাহ! রাসূলদের এই যে মর্যাদা রয়েছে তাতে অন্য কেহ কি অভিষিক্ত হতে পারবে? তিনি বললেন: যার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্বার শপথ ঐ সকল মানুষেরা সেই মর্যাদা পাবে যারা আল্লাহ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও রাসূলদের সত্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম) আমরা যেমন ভুপৃষ্ঠে অবস্থান করে আকাশের সব তারকাগুলো দেখতে পাই। কোনটা আছে পূর্ব প্রান্তে, কোনটা পশ্চিম প্রান্তে আবার কোনটি মধ্য আকাশে থাকে। কোনটা দেখতে আমাদের বেগ পেতে হয় না। এমনিভাবে জান্নাতের কক্ষ ও অধিবাসীদের দেখা যাবে।  
জান্নাতবাসীদের খাবার -দাবার এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلَا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿68﴾ الَّذِينَ آَمَنُوا بِآَيَاتِنَا وَكَانُوا مُسْلِمِينَ ﴿69﴾ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ ﴿70﴾ يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿71﴾ وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿72﴾ لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِنْهَا تَأْكُلُونَ ﴿73﴾، (سورة الزخرف)
হে আমার বান্দাগণ, আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না। যারা আমার আয়াতে ঈমান এনেছিল এবং যারা ছিল মুসলিম। তোমরা সস্ত্রীক সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর। ¯^Y©LwPZ থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে, সেখানে মন যা চায় আর যাতে চোখ তৃপ্ত হয় তা-ই থাকবে এবং সেখানে তোমরা হবে স্থায়ী। আর এটিই জান্নাত, নিজদের আমলের dj¯^iƒc তোমাদেরকে এর অধিকারী করা হয়েছে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক ফলমূল, যা থেকে তোমরা খাবে। (সূরা যুখরুফ, আয়াত ৬৮-৭৩)  

এ আয়াতগুলো থেকে আমরা যা জানতে পারলাম:
এক. জান্নাতবাসীদের কোন ভয় থাকবে না আর থাকবে না কোন দু:শ্চিন্তা। দুনিয়ার জীবনে মানুষ যত সম্পদের অধিকারী হোক না কেন আর সে যতই সুখী হোক, তার ভয় থাকে, থাকে দু:শ্চিন্তা। কিন্তু জান্নাতে এক অনন্য বৈশিষ্ট হলো, সেখানে কোন পেরেশানী, দু:খ-কষ্ট, উদ্বেগ, দু:শ্চিন্তা ভয় কিছুই থাকবে না।  
দুই. ঈমান ও ইসলাম দুটো দুই বিষয়। যেমন এ আয়াতে দুটোকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
 তিন. যারা জান্নাতের অধিকারী হবে তাদের স্ত্রী, স্বামী ও সন্তান-সন্তদি যদি ঈমানদার ও সৎকর্মশীল হয় তাহলে তারা জান্নাতে একত্রেই থাকবে। যেমন এ আয়াতে স্বামী ও স্ত্রীসহ জান্নাতে প্রবেশ করতে বলা হবে বলে বাণী এসেছে। অন্য আয়াত আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُمْ مِنْ عَمَلِهِمْ مِنْ شَيْءٍ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ ﴿21﴾ وَأَمْدَدْنَاهُمْ بِفَاكِهَةٍ وَلَحْمٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ ﴿22﴾ يَتَنَازَعُونَ فِيهَا كَأْسًا لَا لَغْوٌ فِيهَا وَلَا تَأْثِيمٌ ﴿23﴾ وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌ مَكْنُونٌ ﴿24﴾ وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ ﴿25﴾ قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ ﴿26﴾، (سورة الطور : 21-27)
আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্তুতি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোন অংশই কমাব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কামাইয়ের ব্যাপারে দায়ী থাকবে। আর আমি তাদেরকে অতিরিক্ত দেব ফলমূল ও গোশ্‌ত যা তারা কামনা করবে। তারা পরস্পরের মধ্যে পানপাত্র বিনিময় করবে; সেখানে থাকবে না কোন বেহুদা কথাবার্তা এবং কোন পাপকাজ। আর তাদের সেবায় চারপাশে ঘুরবে বালকদল; তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা। আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, তারা বলবে, পূর্বে আমরা আমাদের পরিবারের মধ্যে শঙ্কিত ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আগুনের আযাব থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। (সূরা আত তুর, আয়াত ২১-২৭)  
চার. জান্নাতে মনে যা চায় ও চোখ যা দেখতে চায় তার সবকিছুই থাকবে। এমন নয় যে শুধু আল-কুরআন ও হাদীসে যা উল্লেখ করা হয়েছে শুধু সেগুলোই থাকবে। শুধু বাগান, নদী, গাছ, ফল-মুলই নয়। যা চায় মনে তার সবকিছু পাওয়া যাবে সেখানে। দুনিয়াতে একজন মানুষ যত প্রভাবশালী, ক্ষমতার অধিকারী ও ধন-সম্পদের মালিক হোক না কেন, মনে যা চায় সে তা পায় না। সে তা করতে পারে না। কিন্তু জান্নাত এ রকম নয়। সেখানে নেই কোন সীমাবদ্ধতা। জান্নাতে খাবার দাবার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ ﴿10﴾ أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ ﴿11﴾ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ﴿12﴾ ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ﴿13﴾ وَقَلِيلٌ مِنَ الْآَخِرِينَ ﴿14﴾ عَلَى سُرُرٍ مَوْضُونَةٍ ﴿15﴾ مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ ﴿16﴾ يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ ﴿17﴾ بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ ﴿18﴾ لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ ﴿19﴾ وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ ﴿20﴾ وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ ﴿21﴾ وَحُورٌ عِينٌ ﴿22﴾ كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ ﴿23﴾ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿24﴾ لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا ﴿25﴾ إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا ﴿26﴾ وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ ﴿27﴾ فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ ﴿28﴾ وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ ﴿29﴾ وَظِلٍّ مَمْدُودٍ ﴿30﴾ وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ ﴿31﴾ وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ ﴿32﴾ لَا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ ﴿33﴾ وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ ﴿34﴾ إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً ﴿35﴾ فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا ﴿36﴾ عُرُبًا أَتْرَابًا ﴿37﴾ لِأَصْحَابِ الْيَمِينِ ﴿38﴾ ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ﴿39﴾ وَثُلَّةٌ مِنَ الْآَخِرِينَ ﴿40﴾، (سورة الواقعة)
আর অগ্রগামীরাই অগ্রগামী। তারাই সান্নিধ্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে নিআমতপূর্ণ জান্নাতসমূহে । বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে, আর অল্পসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে। ¯^Y© ও দামী পাথরখচিত আসনে! তারা সেখানে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে মুখোমুখি অবস্থায়। তাদের আশ-পাশে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা, পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝর্ণার শরাবপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে। তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে, আর না তারা মাতাল হবে। আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে। আর পাখির গোশ‌ত নিয়ে, যা তারা কামনা করবে। আর থাকবে ডাগরচোখা হূর। যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা। এগুলো তারা যে আমল করত তার cÖwZ`vb¯^iƒc| তারা সেখানে শুনতে পাবে না কোন বেহুদা কথা, এবং না পাপের কথা; শুধু এই বাণী ছাড়া, সালাম, সালাম। আর ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল! তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে, আর কাঁদিপূর্ণ কলাগাছের নিচে, আর বিস্তৃত ছায়ায়, আর সদা প্রবাহিত পানির পাশে, আর প্রচুর ফলমূলে, যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না। (তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে; নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব। অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়সী। ডানদিকের লোকদের জন্য। তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে। আর অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে। (সূরা আল ওয়াকিয়া, আয়াত ১০-৪০) হাদীসে এসেছে-
عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن أهل الجنة يأكلون فيها ويشربون . ولا يتفلون ولا يبولون ولا يتغوطون ولا يتمخطون . قالوا : فما بال الطعام ؟ قال : جشاء ورشح كرشح المسك . يلهمون التسبيح والتحميد ، كما يلهمون النفس . رواه مسلم.
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: জান্নাতবাসীরা জান্নাতে খাবে, পান করবে কিন্তু তারা থুথু ফেলাবে না, প্রসাব করবে না, পায়খানা করবে না, বমি করবে না। এ কথা শুনে সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, তাহলে খাবার দাবার কোথায় যাবে? তিনি বললেন: ঢেকুর হয়ে মৃগনাভীর সুগন্ধ নিয়ে বের হয়ে যাবে। যেভাবে শাস-প্রশ্বাস নেয়া হয়, এভাবেই জান্নাতবাসীরা আল্লাহ তাআলার তাসবীহ ও তাহমীদ করতে থাকবে। (বর্ণনায় : মুসলিম)  
এ হাদীসটি থেকে আমরা জানতে পারলাম:  
এক. জান্নাতবাসীরা খাওয়া-দাওয়া করবে কিন্তু এ জন্য তাদের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হবে না।  
দুই. তাদের পানাহারকৃত বস্তুগুলো ঢেকুরের সাথে বের হয়ে যাবে। আর এ ঢেকুর কোন বিরক্তির কারণ হবে না। বরং সুগন্ধ ছড়াবে।  
তিন. জান্নাতবাসীরা আল্লাহ তাআলার প্রশংসা বা তাহমীদ ও পবিত্রতা বর্ণনা বা তাসবীহ আদায় করবে। কিন্তু এ জন্য তাদের আলাদা কোন পরিশ্রম করতে হবে না। যেমন আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কোন পরিশ্রম বা ইচ্ছা করতে হয় না।
 জান্নাতের তাবু
হাদীসে এসেছে-
عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن للمؤمن في الجنة لخيمة من لؤلؤة واحدة مجوفة . طولها ستون ميلا . للمؤمن فيها أهلون . يطوف عليهم المؤمن . رواه البخاري ومسلم.
আবু মূছা আল আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নাতে মুমিনদের জন্য মুক্তা খচিত তাবু থাকবে। যার প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল। সেখানে মুমিনদের পরিবার পরিজন একত্র হবে ও পরস্পরে দেখা সাক্ষাত করবে। (বর্ণনায়: বুখারী ও মুসলিম) জান্নাতে যেমন বিশাল বিশাল অট্টালিকা থাকবে তেমনি থাকবে বিশাল বিশাল তাবু। যখন যেমন মনে চাবে জান্নাতীরা তা ব্যবহার করবে।
 
জান্নাতের বাজার হাদীসে এসেছে-
عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن في الجنة لسوقا . يأتونها كل جمعة . فتهب ريح الشمال فتحثو في وجوههم وثيابهم . فيزدادون حسنا وجمالا . فيرجعون إلى أهليهم وقد ازدادوا حسنا وجمالا . فيقول لهم أهلوهم : والله ! لقد ازددتم بعدنا حسنا وجمالا . فيقولون : وأنتم ، والله ! لقد ازددتم بعدنا حسنا وجمالا. رواه مسلم.
আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নাতে একটি বাজার থাকবে আর তাতে শুক্রবার দিন লোকজনের সমাগম হবে। সেখানে উত্তর দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হবে। এ বায়ুর প্রভাবে জান্নাতীদের রূপ ও সৌন্দর্য বেড়ে যাবে। এরপর যখন তারা তাদের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে আসবে আর তারা তাদের রূপ-সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে বলবে, সুস্বাগতম তোমাদের। আল্লাহ তাআলার কসম! আমাদের চেয়ে তোমার রূপ-সৌন্দর্য তো অনেক বেড়ে গেছে। এর জবাবে তারা বলবে, আল্লাহর শপথ! আমাদের চেয়ে তোমাদের রূপ-সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। (বর্ণনায় : মুসলিম)  
এ হাদীসটি থেকে আমরা যা জানতে পারলাম:
এক. জান্নাতে একটি বাজার থাকবে। তা বসবে সপ্তাহের শুক্রবারে। যাদের মনে চায় তারা সেখানে যাবে। পরস্পরে দেখা সাক্ষাত হবে।
 দুই. এ বাজারের একটি বৈশিষ্ট হল, যে এখানে আসবে তার রূপ-সৌন্দর্য আগের চেয়ে বৃদ্ধি পাবে। তিন. বাজার থেকে ফিরে আসার পর সঙ্গী সাথিরা তাদের রূপ সৌন্দর্যের প্রশংসা করবে। আবার সেও তাদের রূপ-সৌন্দর্যের প্রশংসা করবে। এটা তাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি তীব্র আকর্ষণ, প্রেম-ভালোবাসার একটি প্রকাশ। যা তাদের দাম্পত্য সূখ-শান্তি আরো বাড়িয়ে দেবে।

 জান্নাতের নদ-নদী আল্লাহ তাআলা বলেন :
إِنَّ الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا ﴿30﴾ أُولَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا ﴿31﴾، (سورة الكهف)
যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, নিশ্চয় আমি এমন কারো প্রতিদান নষ্ট করব না, যে সুকর্ম করেছে। এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে ¯^‡Y©i চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বিশ্রামস্থল ! (সূরা আল কাহফ, আয়াত ৩০-৩১)
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِنْ مَاءٍ غَيْرِ آَسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِنْ لَبَنٍ لَمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ، (سورة محمد: 15)
মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হল, তাতে রয়েছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের ঝর্নাধারা, যার ¯^v` পরিবর্তিত হয়নি। পানকারীদের জন্য my¯^v`y সুরার নহরসমূহ এবং আছে পরিশোধিত মধুর ঝর্নাধারা। তথায় তাদের জন্য থাকবে সব ধরনের ফলমূল আর তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা। তারা কি তাদের ন্যায়, যারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে এবং তাদেরকে ফুটন্ত পানি পান করানো হবে ফলে তা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে? (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ১৫  

জান্নাতের হুর সঙ্গী আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ ﴿48﴾ كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ ﴿49﴾، سورة الصافات)
তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা। তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম। (সূরা সাফফাত, আয়াত ৪৮-৪৯)
هَذَا ذِكْرٌ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَآَبٍ ﴿49﴾ جَنَّاتِ عَدْنٍ مُفَتَّحَةً لَهُمُ الْأَبْوَابُ ﴿50﴾ مُتَّكِئِينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ ﴿51﴾ وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابٌ ﴿52﴾ هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ الْحِسَابِ ﴿53﴾ إِنَّ هَذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُ مِنْ نَفَادٍ ﴿54﴾، (سورة ص)
এটি এক স্মরণ, আর মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম নিবাস- চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ থাকবে তাদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে তারা হেলান দিয়ে আসীন থাকবে, সেখানে তারা বহু ফলমূল ও পানীয় চাইবে। আর তাদের নিকটে থাকবে আনতনয়না সমবয়সীরা। হিসাব দিবস সম্পর্কে তোমাদেরকে এ ওয়াদাই দেয়া হয়েছিল। নিশ্চয় এটি আমার দেয়া রিয্‌ক, যা নিঃশেষ হবার নয়। (সূরা সাদ: ৪৯-৫৪)  

জান্নাতের সূখ-শান্তি হবে স্থায়ী আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا لَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِيلًا، سورة النساء: 57)
আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা হবে স্থায়ী। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র সঙ্গীগণ এবং তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব বিস্তৃত ঘন ছায়ায়। (সূরা নিসা, আয়াত ৫৭) হাদীসে এসেছে-
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن الله يقول لأهل الجنة : يا أهل الجنة ، فيقولون : لبيك وسعديك ، والخير في يديك ، فيقول : هل رضيتم ؟ فيقولون : وما لنا لا نرضى يا رب ، وقد أعطيتنا ما لم تعط أحدا من خلقك ، فيقول : ألا أعطيكم أفضل من ذلك ؟ فيقولون : يا رب ، وأي شيء أفضل من ذلك ، فيقول : أحل عليكم رضواني ، فلا أسخط عليكم بعده أبدا. رواه البخاري ومسلم.
আবু সায়ীদ আল খুদরী রা. থেকে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের বলবেন: হে জান্নাতবাসীগণ! তারা বলবে, উপস্থিত হে প্রভূ, সৌভাগ্য ও কল্যাণতো আপনারই হাতে। তারা বলবে, তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছো? তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা কেন সন্তুষ্ট হবো না? আপনি আমাদের এমন নেয়ামত ও সূখ-শান্তি দিয়েছেন যা কখনো অন্য কাউকে দেননি। আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি কি তোমাদের এরচেয়ে উত্তম কোন কিছু দেব? তখন তারা বলবে, হে প্রতিপালক! যা দিয়েছেন তার চেয়ে আবার উত্তম কোন জিনিষ আছে কী? আল্লাহ তাআলা বলবেন, আজ থেকে আমার সন্তুষ্টি তোমাদের উপর স্থায়ী হয়ে গেল। আর কোন দিন তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবো না। (বর্ণনায়: বুখারী ও মুসলিম) হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারলাম আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্টি লাভ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামাত। ব্যাপারটা আমরা এভাবে বুঝতে পারি, আপনি যদি কোন এক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানের অধীনে চাকুরী করেন। আর সকল দায়ীত্ব কর্তব্য পালন করে যান, তাহলে সে আপনার প্রাপ্য পুরোপুরিভাবে আদায় করবে। আপনাকে নিয়মের মধ্যে থেকে পদোন্নতি দেবে। এরচেয়ে বেশী কি? কিন্তু তিনি যদি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আপনাকে তার প্রিয় করে নেন, তাহলে ব্যাপারটা কত বড় হয়ে গেল। তখন শুধু নির্ধারিত বেতন আর পদোন্নতি নয়। পাবেন সব সুখ শান্তি, সম্মান, এমনকি কর্তৃত্বও। এভাবেই আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জান্নাতের সুখ শান্তি দিবেন। কিন্তু যখন তিনি ঘোষণা করবেন আমি স্থায়ীভাবে তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম, তখন এটার মর্যাদা ও আনন্দ যে কত বিশাল হবে সেটা শুধু তখনই অনুভব করা যাবে। আল্লাহ তাআলা মেহেরবানী করে আমাদের জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভূক্ত করুন। হাদীসে এসেছে-
عن أبي سعيد وأبي هريرة رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ينادي مناد : إن لكم أن تصحوا فلا تسقموا أبدا . وإن لكم أن تحيوا فلا تموتوا أبدا . وإن لكم أن تشبوا فلا تهرموا أبدا . وإن لكم أن تنعموا فلا تبأسوا أبدا فذلك قوله عز وجل : { ونودوا أن تلكم الجنة أورثتموها بما كنتم تعملون } [ الأعراف / 43 ] رواه مسلم.
আবু সায়ীদ ও আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত. তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জান্নাতে একজন ঘোষক ঘোষণা দেবে: তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। তোমরা চিরদিন জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যু আসবে না। তোমরা চিরদিন যুব থাকবে। বার্ধক্যে তখনো তোমাদের স্পর্ষ করবে না। তোমরা সর্বদা পরিতৃপ্ত থাকবে। কখনো ক্ষুধার্ত হবে না। আর এটা আল্লাহ তাআলার সেই কথার বাস্তবায়ন : তাদেরকে ডেকে বলা হবে, ঐ হল জন্নাত। তোমরা যা কাজ করেছো, তার বিনিময়ে এর উত্তরাধিকারী করা হলো। (বর্ণনায় :মুসলিম)  
জান্নাতীদের সবচেয়ে বড় আনন্দ আল্লাহ তাআলা বলেন:
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ ﴿22﴾ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ﴿23﴾، سورة القيامة : 22-23)
সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জল। তাদের প্রতিপালকের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপকারী। (সূরা আল কিয়ামা, আয়াত ২২-২৩) হাদীসে এসেছে
عن صهيب بن سنان الرومي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إذا دخل أهل الجنة الجنة ، قال يقول الله تبارك وتعالى : تريدون شيئا أزيدكم ؟ فيقولون : ألم تبيض وجوهنا ؟ ألم تدخلنا الجنة وتنجنا من النار . قال فيكشف الحجاب . فما أعطوا شيئا أحب إليهم من النظر إلى ربهم عز وجل . وفي رواية : وزاد : ثم تلا هذه الآية : { للذين أحسنوا الحسنى وزيادة } [ يونس / الآية - 26 ] . رواه مسلم.
সুহাইব বিন সিনান আর রুমী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন: তোমাদের আরো কিছু বাড়িয়ে দেই এমন কিছুকি তোমরা চাও? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারা হাস্যোজ্জল করেননি? আপনি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি? আপনি কি আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? এরপর আল্লাহ তাআলা তার চেহারা থেকে পর্দা উঠিয়ে তাদের জন্য নিজ চেহারাকে উম্মুক্ত করবেন। তখন তাদের অনুভুতি হবে আমাদের যা কিছু দেয়া হয়েছে তার চেয়ে আল্লাহ তাআলার এ দর্শনই সর্বাধিক প্রিয়। এ কথা বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর এ বাণীটি তেলাওয়াত করেন: যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম (জান্নাত) এবং আরো বেশী ( তা হলো আল্লাহকে সরাসরি দেখা)। (বর্ণনায়: মুসলিম)
  জান্নাতবাসীরা পৃথিবীর অবিশ্বাসী সাথিদের অবস্থা দেখতে পাবে যারা জান্নাতে যাবে পৃথিবীতে তাদের এমন কিছু সহকর্মী, সাথি বন্ধু থাকবে যারা জাহান্নামে যাবে। কারণ, তারা পরকালে বিশ্বাস করতো না। জান্নাতে বসে পৃথিবীর সেই অবিশ্বাসী সঙ্গি-সাথিদের কথা মনে পড়ে যাবে। বলবে, আমার তো অমুক বন্ধু ছিল, কিন্তু সে পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাস করতো না। তার অবস্থা এখন কী? সে কোথায় আছে? তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার অবিশ্বাসী বন্ধুদের অবস্থা দর্শন করাবেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ ﴿50﴾ قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ ﴿51﴾ يَقُولُ أَئِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ ﴿52﴾ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَدِينُونَ ﴿53﴾ قَالَ هَلْ أَنْتُمْ مُطَّلِعُونَ ﴿54﴾ فَاطَّلَعَ فَرَآَهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ ﴿55﴾ قَالَ تَاللَّهِ إِنْ كِدْتَ لَتُرْدِينِ ﴿56﴾ وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ ﴿57﴾ (سورة الصافات)
অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে । তাদের একজন বলবে, (পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল, সে বলত, তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাবো তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে? আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি উঁকি দিয়ে দেখবে? অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) দেখবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে। সে বলবে, আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে! আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম। (সূরা সাফফাত, আয়াত ৫০- ৫৭) এ আয়াতসমূহ থেকে আমরা শিখতে পারলাম, পৃথিবীর কর্মস্থল, পড়াশুনা, যাত্রাপথ ইত্যাদি সুত্রে যে সকল সঙ্গী-সাথি আছে তাদের মধ্যে যারা অবিশ্বাসী তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। যেমন এ আয়াতে আমরা দেখি জান্নাতী লোকটি বলবে, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে। হ্যা কুরআনের কথা সত্যি। এ সকল অবিশ্বাসী মানুষের সাথে চলাফেরা উঠা-বসা করলে তারা বিশ্বাসীদের আকীদা-বিশ্বাস নষ্ট করে ফেলে। অন্য আয়াতে এসেছে-
كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ ﴿38﴾ إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ ﴿39﴾ فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ ﴿40﴾ عَنِ الْمُجْرِمِينَ ﴿41﴾ مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ ﴿42﴾ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ ﴿43﴾ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ ﴿44﴾ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ ﴿45﴾ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ ﴿46﴾ حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ ﴿47﴾ فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ ﴿48﴾ فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ ﴿49﴾ (سورة المدّثر)
প্রতিটি প্রাণ নিজ অর্জনের কারণে দায়বদ্ধ। কিন্তু ডান দিকের লোকেরা নয়, জান্নাতসমূহের মধ্যে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে অপরাধীদের সম্পর্কে : কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করালো? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। আর আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করতাম না। আর আমরা অনর্থক গল্প-গুজবকারীদের সাথে (বেহুদা আলাপে) মগ্ন থাকতাম। আর আমরা প্রতিদান দিবসকে A¯^xKvi করতাম। অবশেষে আমাদের কাছে মৃত্যু আগমন করে। অতএব সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকার করবে না। আর তাদের কী হয়েছে যে, তারা উপদেশ বাণী হতে বিমুখ? (সূরা আল মুদ্দাসসির, আয়াত ৩৮-৪৯)

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment